ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ তারকার গল্প


ঢাবি টাইমস
Published: 2018-02-05 00:47:41 BdST | Updated: 2018-08-14 20:25:08 BdST

২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের আট বিভাগের ৮১ শিক্ষার্থীকে অসাধারণ ফলাফলের জন্য ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সাত বিভাগের প্রথম হওয়া সাতজনকে নিয়ে বিশেষ আয়োজনে লিখেছেন মীর হুযাইফা আল মামদূহ। ছবি তুলেছেন সিজান আহমেদ জিম

সব সময় মনোযোগী
জাকিয়া রহমান
জাকিয়া রহমান

মনোবিজ্ঞান
গড় সিজিপিএ : ৩.৮১, শ্রেণি উপস্থিতি : ৯১ শতাংশ

অন্যদের মতো বিভাগ নিয়ে তাঁর কোনো মনোকষ্ট ছিল না। শুরু থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগে পড়তে চেয়েছিলেন জাকিয়া রহমান। তবে মা-বাবা আর পরিবারের অন্যদের সেই প্রাচীন ইচ্ছাটিই ছিল প্রবল, মেয়ে তাঁদের চিকিত্সক হোক। ফলে বলতে গেলে সবার অমতেই নিজের মতটিকে প্রাধান্য দিয়ে এই বিভাগে ভর্তি হলেন তিনি। কেন? জাকিয়া বললেন, ‘আমার মানুষের মন সম্পর্কে ছোটবেলা থেকেই জানতে ইচ্ছা করে। সে জন্যই এখানে ভর্তি হয়েছিলাম।’ তবে প্রিয় বিষয়ে যাত্রাটি তাঁর প্রিয় হয়নি। অনার্সের ফলাফলের আগে মা-বাবা বাদে অন্য আত্মীয়-স্বজনের কাছে কথাই শুনতে হয়েছে তাঁকে। তবে ফল তাঁর সব কিছু বদলে দিয়েছে এখন। কিভাবে সবার সেরা হলেন বিভাগে? জাকিয়া বললেন, ‘আমি সব সময়ই নিয়ম করে ক্লাসে গিয়েছি। মনোযোগ দিয়ে লেকচার তুলেছি। সহায়ক বইগুলো প্রয়োজনে কিনে নিয়ে পড়েছি। আর যে বিষয়ই পড়েছি, সেটির আদ্যোপান্ত পড়ে বোঝার চেষ্টা করেছি।’ এত পরিশ্রমের কারণ—শুরু থেকেই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়ার টার্গেট করেছিলেন। সে জন্য প্রথম বর্ষের ইনকোর্সগুলোতে ভালো করেছিলেন তিনি। তবে সেবার সেরা হননি প্রথম বর্ষের পরীক্ষায়। প্রথম শ্রেণিতে ৩.৮১ সিজিপিএ পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। এরপর হতাশ হয়ে গেলেন সব সময়ের মনোযোগী ছাত্রীটি। সেই দুঃসময়ে বন্ধুরাই ছিলেন তাঁর সহায়। তাঁরা এসে বলেছেন, ‘আরো তিনটি বছর তো আছে। তুই-ই প্রথম হবি।’ ফলে পড়ালেখার গতি আরো বাড়িয়ে দিলেন। প্রতিদিন ক্লাস শেষে বাসায় এসে পড়তেন। ছুটির দিনে সকাল-সন্ধ্যা পড়তেন। পরীক্ষার আগের দিনগুলোতে তো লেখাপড়া নিয়েই পড়ে থাকতেন তিনি। ফলে এবার আরো ভালো করলেন তিনি। দ্বিতীয় বর্ষে তাঁর সিজিপিএ ছিল ৩.৯৭। এবার ফলেরও উন্নতি হলো। প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় হলেন তিনি। কিন্তু সন্তুষ্ট হতে পারলেন না জাকিয়া। ফলে তৃতীয় বর্ষে আরো ভালো করে পড়তে লাগলেন। এবার সেরা হলেন ৩.৬৯ নিয়ে। তিনি বললেন, ‘সিজিপিএ কম ওঠার কারণ হলো, আমাদের তৃতীয় বর্ষের বিষয়গুলো আগের তুলনায় অনেক কঠিন ছিল।’ তবে চতুর্থ বর্ষে এসে তিনি চরমভাবে হতাশ হয়ে গেলেন। গড়ে সেরা ফল ধরে রাখার চাপ তো ছিলই, ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেতে হবে—এমন নানা প্রত্যাশার ভারও বইতে পারছিলেন না। কিন্তু তখন তাঁর পাশে দাঁড়ালেন বিভাগের শিক্ষকরা। পুরনো সেই বন্ধুরা তাঁর ধরন তো বুঝতে পারেন। ফলে তাঁরা তাঁকে সব সময় উদ্দীপ্ত করতে লাগলেন। তাঁদের মানসিক সাহায্য নিয়েই আরো মনোযোগ দিয়ে আরো বেশিক্ষণ পড়তে লাগলেন তিনি। নিজে পড়া ঝালাই করতে লাগলেন খুব। দলগত প্রস্তুতিও নিতে লাগলেন। ফলে চূড়ান্ত বর্ষে ৩.৮২ পেয়ে প্রথম হলেন। চার বছরে তাঁর গড় সিজিপিএ ছিল ৩.৮১। ফলে বিভাগ থেকে তাঁর নামটিই ডিনস অ্যাওয়ার্ডের জন্য প্রস্তাব করা হলো। ক্লাসের পড়ার বাইরে তিনি বই পড়তে বেজায় ভালোবাসেন। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় আর হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসগুলো তাঁকে খুব টানে। রবীন্দ্রনাথের লেখা নিয়ে বলতে গিয়ে জানালেন—‘তিনি আমার প্রেম।’ বিকল্প ধারার ছবিগুলোও দেখতে ভালো লাগে তাঁর। তিনি এখন মাস্টার্সের ছাত্রী। শিক্ষার্থীদের মানসিক গঠন নিয়ে তিনি লেখাপড়া করছেন সেখানে। সময়ের প্রতি মনোযোগই তাঁকে এই অসাধারণ ফল করতে উদ্দীপ্ত করেছে বলে জানালেন তিনি।

লেখাপড়াই ছিল গুরুত্বপূর্ণ 

জান্নাতুন নাহার ঝিনু


জান্নাতুন নাহার ঝিনু
প্রাণিবিদ্যা
গড় সিজিপিএ : ৩.৯৮ শ্রেণি উপস্থিতি : ৯৮.২৫ শতাংশ
ছোটবেলা থেকে ঝিনুর প্রেরণা মদিনা হক। তিনি তাঁর মা। মায়ের উত্সাহে মেয়ে স্কুল-কলেজের কোনো পরীক্ষায়ই দ্বিতীয় হননি। ময়মনসিংহ বিভাগে জেএসসিতে মেধাতালিকায় পঞ্চম হয়েছেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি তিনি নাচ, গান আবৃত্তিতেও ছোটকাল থেকেই তুখোড়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় জীববিদ্যা ছিল তাঁর প্রথম পছন্দ। আর প্রাণিবিদ্যা তৃতীয়। জীববিদ্যা না পাওয়ায় ভর্তি হলেন এখানে। প্রিয় বিষয়ে ভর্তি না হতে পারার দুঃখ ভুলে গেলেন অসাধারণ সব শিক্ষককে পেয়ে। তাঁরা লেখাপড়াকে আনন্দময় করে তুলেছেন। ভালোভাবে পড়া বুঝিয়ে দিয়েছেন। আর বিষয়টিতেও ভালো লাগার মতো অনেক কিছু ছিল। বন্ধুদের সঙ্গও ছিল ভালো। ফলে এখানেই পড়ালেখা শুরু করলেন মন দিয়ে। ক্লাস লেকচারের ব্যাপারে তিনি এতই মনোযোগী ছিলেন যে স্যারদের হাসি বা কাশির শব্দও অবলীলায় খাতায় নোট করে ফেলতেন। আর পরীক্ষার আগে চিরকালের মনোযোগী ছাত্রীটি কোমর বেঁধে লেখাপড়া করতেন। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতেও তিনি নিয়মিত পড়েছেন। মূল বই আর সহায়ক গ্রন্থগুলো থেকেই পড়তেন তিনি। স্যারদের সব সহায়ক বইয়ের তালিকা থেকে পড়ালেখা করেছেন তিনি। এভাবে পড়তে পড়তে দেখা যেত, পরীক্ষার পুরো সিলেবাসই শেষ করে ফেলেছেন ঝিনু। কিভাবে প্রস্তুতি নিয়েছেন? এই প্রশ্নের জবাবে ঝিনু বললেন, ‘আগে থেকেই আমি দিনের পড়া গুছিয়ে রাখতাম।’ পরীক্ষার হলে প্রথম পাঁচ থেকে সাত মিনিট তিনি চুপ করে বসে পুরো প্রশ্নটি বোঝার চেষ্টা করতেন। কিভাবে প্রশ্নগুলোর উত্তর দেবেন মাথায় ছক করে ফেলতেন। কোনটির উত্তর আগে লিখবেন, কোনটির পরে, সেটি মনে মনে সাজাতেন। এত কষ্ট কেন করতেন—এ কথার জবাব তাঁর কাছে এই—‘আমার জীবনে পড়ালেখাই হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই একটি বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দিতে গিয়ে আড্ডা, প্রেম কোনো কিছুর প্রতিই আমি মনোযোগ দিইনি।’ তবে প্রথম বর্ষে সিজিপিএ ৩.৯৬ পেয়ে প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় হয়েই তাঁকে সন্তুষ্ট থাকতে হলো। এরপর থেকে কিভাবে পরীক্ষার খাতায় লিখতে হবে সেটি বুঝে গেলেন তিনি। স্যাররা কী চান তা-ও জানা হলো। সেভাবেই পরীক্ষায় লেখা শুরু করলেন। ফলে দ্বিতীয় বর্ষে আর পেছনে ফিরতে হলো না। তিনি ৩.৯৮ সিজিপিএ পেয়ে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হলেন। তৃতীয় বর্ষে আরো মনোযোগী এই ছাত্রীটি প্রতিদিন একসময়ে নিয়মিত পড়ালেখা করতে লাগলেন। শুক্র ও শনিবারের বন্ধেও তিনি পড়ালেখা করতেন, যাতে পুরো সপ্তাহের পড়াগুলো ঝালাই করে ফেলা যায়। কারণ ক্লাস করে, গবেষণাগারে গবেষণা শেষে দিনের পড়া তো দিনে সম্পন্ন করতে পারতেন না। যেখানে বুঝতেন না, সে অংশগুলোও তিনি বন্ধের দিনগুলোতে আরো মন দিয়ে বুঝে নিতেন। ফলে তৃতীয় বর্ষে আরো ভালোভাবে পড়তে পেরেছেন তিনি। সিজিপিএ ‘৪’ পেয়ে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়েছেন। চতুর্থ বর্ষেও সেই নিয়মে পড়ে তিনি সিজিপিএ ‘৪’-এর মধ্যে ‘৪’ পেয়েছেন। আর তাঁর চার বছরের গড় ফলাফল ছিল সিজিপিএ ‘৩.৯৮’। লেখাপড়ার প্রতি এত মনোযোগ দিতে গিয়ে যে মেয়েটি শিশু একাডেমির জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন, আরো অনেক পুরস্কার পেয়েছেন সহশিক্ষায়, তিনি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নাচ, গান, আবৃত্তির দিকে আর মনোযোগই দিতে পারেননি। তার পরও ঘোরাঘুরি ভুলতে পারেননি তিনি। এখনো বান্দরবান যেতে তাঁর ভালো লাগে। অবসরে বইয়ের পোকা ঝিনুর সঙ্গী রবীন্দ্রনাথের ‘সঞ্চয়িতা’। এখন অবশ্য কাজী আনোয়ার হোসেনের ‘মাসুদ রানা’ সিরিজও বেশ ভালো লাগে। মাস্টার্সে তাঁর থিসিসটি ছিল অন্য রকম। গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে ‘ভিটামিন বি-১২’র সঙ্গে এক ধরণের বিশেষ ভাইরাসের সম্পর্ক নিয়ে থিসিস করেছিলেন। এ বিষয়েই তিনি ভবিষ্যতে উচ্চতর গবেষণা করতে চান। এই সেরা ছাত্রীটির ভালো ফলাফলের জন্য পরামর্শ হলো—‘নিজের লেখাপড়ার প্রতি মনোযোগী হতে হবে। আর ভালো ফলাফলের জন্য আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে হবে।’

স্বপ্নেও ভাবেননি

জুয়াইরিয়া বিনতে জসিম


জুয়াইরিয়া বিনতে জসিম
মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ
গড় সিজিপিএ : ৩.৯৩, শ্রেণি উপস্থিতি : ৯৪.২৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক’ ইউনিটেও ছিলেন অপেক্ষমাণদের তালিকায়। ফলে না চাইলেও জুয়াইরিয়া বিনতে জসিমকে ভর্তি হতে হলো মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগে। এত কষ্ট করে লেখাপড়া করেও পছন্দের বিষয়ে ভর্তি হতে পারলেন না বলে তিনি দ্বিতীয়বার আর কোথাও ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার ইচ্ছাটুকুও হারিয়ে ফেললেন। কিন্তু মা-বাবা চেয়েছিলেন আরো ভালো কোনো, মনের মতো কোনো বিভাগে ভর্তি হোক মেয়ে। ফলে বলতে গেলে তাঁদের অমতেই এখানে পড়তে লাগলেন তিনি। তবে ক্লাস শুরুর পর শিক্ষকরা তাঁকে একেবারে বদলে দিলেন। মেয়েটির মধ্যে লেখাপড়ার আগ্রহ পুরোপুরি জাগিয়ে দিলেন তাঁরা। ফলে আবার নিজেকে ফিরে পেলেন তিনি। প্রথম ইনকোর্স পরীক্ষায় গড়পড়তাই ফল করেছেন তিনি। এর ফলে হতাশা তৈরি হলো তাঁর ভেতরে। দ্বিতীয়বার অন্য কোথাও পড়ার ইচ্ছাটি জেগে উঠল। কিন্তু ক্লাসে গিয়ে প্রণোদনা তৈরি হলো তাঁর ভেতরে। এবার আগের চেয়ে মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া শুরু করলেন। ভালোভাবে লেকচার তুলতে লাগলেন। প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো লাইব্রেরিতে গিয়ে পড়তেন। নোটও করতেন। ফলে প্রথম বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় তাঁর ফল ছিল ৩.৯৬ সিজিপিএ। প্রথম হয়েছেন তিনি! স্বপ্নেও ভাবেননি এমন করবেন। ফলে আরো ভালো করে পড়তে লাগলেন। কিন্তু ইনকোর্স পরীক্ষাগুলোতে ভালো করতে পারছিলেন। তার পরও লেখাপড়ায় এতটুকু মনোযোগ কমাননি। এই কষ্টই তাঁকে দ্বিতীয় বর্ষে সিজিপিএ ৪-এর মধ্যে ‘৪’ এনে দিল। তৃতীয় বর্ষটি বলতে গেলে ভালোই কেটেছে। পছন্দের কয়েকজন শিক্ষক তাঁর ক্লাস নিয়েছেন। বিষয়গুলোও ছিল প্রিয়। ফলে পড়তে কোনো কষ্ট হয়নি। তবে এবার ফল অন্য দুই বছরের চেয়ে খারাপ হলো। তিনি সিজিপিএ ৩.৮৭ পেয়েছেন। তিন বছরের এই ফল চূড়ান্ত বর্ষে তাঁকে নির্ভার করে তুলল। তিনি জানতেন, একেবারে ধস না নামলে প্রথম হবেনই। ফলে অন্য সেরা ফল করা ছেলে-মেয়েদের মতো তিনি এবার এত সিরিয়াস থাকলেন না। প্রথম দিকে গায়ে বাতাস লাগিয়েই ঘুরেছেন। পরিবারের বড় বলে নিজের বিয়ের কাজগুলো সব তাঁকেই করতে হলো। বিয়ে করলেন। পরীক্ষার আগে হঠাত্ মা অসুস্থ হয়ে পড়লেন। তাঁকেও দেখাশোনা করতে হলো। ফলে সে বছর তিনি আগের বছরের চেয়ে বেশি ৩.৮৯ সিজিপিএ তুলতে পারলেও পঞ্চম স্থানে রইলেন। তবে গড় সিজিপিএতে সবচেয়ে বেশি পেয়ে তিনি প্রথমই রইলেন। তাঁর গড় ছিল ৩.৯৩।

সিজিপিএ ‘৪’ পাওনি কেন?

সুমাইয়া তাবাসসুম


সুমাইয়া তাবাসসুম, উদ্ভিদবিজ্ঞান
গড় সিজিপিএ : ৩.৯৮, শ্রেণি উপস্থিতি : ৯৪.৭৫ শতাংশ

প্রবাসী বাবা সৌদি আরবের সরকারি কর্মকর্তা। ফলে সেখানেই সুমাইয়াদের পরিবার থেকেছে। তবে অনেক খরচ বলে উচ্চশিক্ষা নিতে দেশে এলেন। আত্মীয়-স্বজনের পরামর্শে ‘ক’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা দিলেন। তবে অপেক্ষমাণদের তালিকায় নামটি দেখে মনটিই তাঁর খারাপ হয়ে গেল। হবে কী হবে না, ভেবে নর্থ সাউথে পরীক্ষা দিলেন। সুযোগও পেলেন। বিদেশে ফেরত যাওয়ার ঠিক আগে আগে ভাইবা দিলেন। পরে ইন্টারনেটে দেখলেন, উদ্ভিদবিদ্যায় সুযোগ হয়েছে। মনটাই খারাপ হয়ে গেল। তবে দেশে ফিরে কার্জন হলের পুরনো সেই দালান, শান্ত নিরিবিলি ক্যাম্পাস দেখে ভর্তি হয়ে গেলেন। তবে বাংলায় ক্লাস হয়, বাংলাতেই বিভিন্ন উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নামের পরিভাষাগুলো পড়ানো হয়। সারাজীবন বিদেশে থেকে, আরবি আর ইংরেজিতে পড়ালেখা করে তাল মেলাতে বেশ কষ্টই হয়ে গেল সুমাইয়ার। তবে নানা জাতের উদ্ভিদ সম্পর্কে জানতে ভালো লাগছিল, সেই সঙ্গে শৈবাল, ছত্রাক সম্পর্কে পড়তে হচ্ছিল বলে ভালোই লাগছিল। ছয় মাস লেখাপড়া শেষে আবার বিদেশে যাওয়ার জন্য এয়ারপোর্টে এসেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী শুনে বিমানবন্দরের এক অচেনা লোকের সালাম পেয়ে চমকে গেলেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা নিয়ে কোনো খচখচ রইল না নিজের মধ্যে। খাওয়াদাওয়া, চলাফেরার কষ্ট সয়েও স্রেফ কার্জন হলের মায়ায় দেশে রয়ে গেলেন। নিয়ম করে লেখাপড়া করতেন, নিজে নিজে নোট বানাতেন। একাধিক বই পড়ে বিষয়টি বুঝে নিতেন। এভাবে নিয়ম করে লেখাপড়ার সুবাদে প্রথম বর্ষেই ৩.৯৮ পেয়ে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে গেলেন। তবে নানুর কাছে ফলাফলের কথা বলার পর তিনি সিজিপিএ ‘৪’ পাওনি কেন? এ কথা শোনার পর তাঁর মধ্যে আরো ভালো ফলের আকাঙ্ক্ষা জেগে উঠল। সেই থেকে আরো মনোযোগ দিয়ে পড়তে লাগলেন। তবে দ্বিতীয় বর্ষের ইনকোর্সের আগে বাইরের খাবার খেয়ে পেটের পীড়ায় ভুগলেন। তাতে ইনকোর্স খারাপ হলো। এর জেরে সেবার অনেকেই সিজিপিএ ‘৪’ পেলেও তাঁকে ৩.৯৭ পেয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হলো। তবে তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষে আর কোনো কিছুই তাঁর সামনে বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারল না। দুবারই তিনি সিজিপিএ ‘৪’ পেয়েছেন। তিনি ঢাকা ইউনিভার্সিটি মডেল ইউনাইটেড নেশনসের হয়ে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এ ছাড়া দেশের ভেতরে সিলেটে বেড়িয়েছেন। সেটি তাঁর খুব ভালো লেগেছে। ভবিষ্যতে তিনি মলিকুলার জেনেটিকস নিয়ে উচ্চতর গবেষণা করবেন। কয়েক দিন আগেই বিয়ে করা সুমাইয়ার বর যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী। সেখানেই হয়তো তাঁকে জীবন সাজাতে হবে।

বিভাগের বইগুলো মন দিয়ে পড়েছেন

সায়কা হোসেয়ন


সায়কা হোসেয়ন, অণুজীব বিজ্ঞান
গড় সিজিপিএ : ৩.৯৮, শ্রেণি উপস্থিতি : ৯৯.০ শতাংশ

লেখাপড়া করেছেন ইংরেজিমাধ্যমে। বিজ্ঞানের বিষয়গুলোতে খুব আগ্রহ ছিল। ভাবতেনও, বড় হয়ে পদার্থ, রসায়ন বা গণিতের মতো বিজ্ঞানের মৌলিক কোনো বিষয়ে পড়বেন। তবে মা-বাবা চাইতেন, মেয়ে তাঁদের ডাক্তার হোক। সে ইচ্ছা পূরণের জন্যই মেডিক্যালের কোচিং করলেন। ফলে এদিকে জোর দিতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েটের জন্য তেমন কোনো প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হলো না। মেডিক্যাল আর ঢাবিতে ভর্তি ফরম কিনে পরীক্ষা দিলেন। কিন্তু হয়ে গেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে! মেধাক্রমেও আছেন ভালো অবস্থানে-৪৫০! এরপর আর দেরি করেননি। প্রথম পছন্দের বিষয় অণুজীব বিজ্ঞানে ভর্তি হয়ে গেলেন। তবে বাংলামাধ্যমের লেখাপড়ায় প্রথম বছরে তাঁর মানিয়ে নিতে খুব কষ্ট হলো। তার পরও বরাবরের মনোযোগী ছাত্রীটি কোনো দিনও ক্লাস মিস করতেন না। ফলে অসুবিধাগুলো কাটিয়ে উঠলেন। এগুলোই তাঁর সাফল্যের রহস্য। এ ছাড়া পড়তে ভালো লাগে বলে বিভাগের বইগুলো মন দিয়ে পড়েছেন। কোনো বিষয়বস্তুকে উপলব্ধির জন্য সহায়ক অন্য বইগুলোর সাহায্য নিয়েছেন। ক্লাস লেকচার যত্ন নিয়ে লিখেছেন। পড়ার জন্য পড়া নয়, জানার জন্য পড়েছেন সায়কা হোসেয়ন। যেসব বিষয় জটিল ছিল সেগুলো নিজের মতো করে লিখে পড়েছেন। বিষয়বস্তুকে মনে রাখার জন্য পয়েন্টগুলো লিখে রাখতেন। এভাবেই পড়তে পড়তে যে প্রথম হয়ে যাবে সত্যিই ভাবেননি তিনি। নিজেই চমকে গেলেন প্রথম বর্ষে হয়ে গেছেন সবার সেরা, সিজিপিএ এর বেশি হয় না—চারে চার! পড়ার বাইরে গণিতের একটি ক্লাব করতেন। তবে প্রথম বর্ষের ফলাফলের পর লেখাপড়া ছাড়া অন্য কিছুর দিকে আর মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ হলো না। তারপর থেকে সিরিয়াস হয়ে গেলেন। সায়কার নিজের সঙ্গে নিজের যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। ক্লাসরুম কী ল্যাবরেটরির ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস আর ফাঙ্গাসগুলোকে ভালো লেগে গেল। ভালো ছাত্রী পেয়ে শিক্ষকরা সহযোগিতা করতে কার্পণ্য করেননি। এমনকি কোনো ব্যক্তিগত সমস্যা হলেও তাঁরা সহযোগিতার মাধ্যমে সেগুলোর সমাধানে এগিয়ে এসেছেন। ফলে আস্তে আস্তে স্বচ্ছন্দ হয়ে গেলেন তিনি। বন্ধুও জুটিয়ে নিলেন বেশ। মা-বাবা ছোটবেলা থেকেই ভালো করতেই হবে—এমন কোনো চাপ না দিয়ে ফলাফলের খবর শুনেই বলতেন, খুব ভালো করেছ। আরো ভালো করতে পারবে। এই উদ্দীপনা আজও পেয়ে এসেছেন তিনি। এ-ও তাঁর সেরা হওয়ার অন্যতম রসদ—হাসতে হাসতে বললেন সায়কা। ফলে ডেঙ্গুর মতো রোগে আক্রান্ত হয়েও, গায়ে এতটুকু জোর না থাকার পরেও ক্লাস করতে ঠিকই চলে গেছেন তিনি। সে বছরও ৩.৯৮ সিজিপিএ ধরে রেখে মেধার জানান দিয়েছেন তিনি। পরের বছর আবার চারে চার! তবে ফাইনাল ইয়ারে ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলতে থাকা ছাত্র-ছাত্রীগুলোও খুব পড়ালেখা করতে লাগলেন। তিনিও ছাড় দেননি। তবে একটি বিষয়ের পরীক্ষার আগে জ্বর এলো খুব, তাতে পরীক্ষা ভালো হলো না। দ্বিতীয় হলেও আগের বছরের অসাধারণ ফলাফলগুলো কাজে এলো খুব। ফলে অনার্সের ফলাফল ৩.৯৮ গড় নিয়ে সেরা হলেন তিনিই! চার বছরের এই অসাধারণ ফলাফলের আরো একটি কারণ জানালেন তিনি—‘ইংলিশ মিডিয়ামে পড়েছি বলে ইংরেজিমাধ্যমের বইগুলো পড়তে আমার কোনো কষ্টই হয়নি।’ বিজ্ঞানের ছাত্র-ছাত্রীরা অনার্সের পর ছয় মাসের শিক্ষানবিশি করেন। সায়কা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণাকেন্দ্রে। সেখানে তাঁরা যেকোনো বিষয়ের সাম্প্রতিক সময়ের গবেষণা করেন। এখানে কাজ করেই বিজ্ঞানী হওয়ার বাসনা জন্মেছে তাঁর। রোগ প্রতিরোধ বিজ্ঞানী হবেন তিনি। না হলে শিক্ষকতার দুয়ার তো খোলা রইলই। উচ্চতর ডিগ্রিও নেবেন।

গবেষণার ভুবনে ফিরবেন

মো. মাহমুদুল হাসান আকাশ


মো. মাহমুদুল হাসান আকাশ
জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি
গড় সিজিপি : ৩.৯৯, শ্রেণি উপস্থিতি : ৯৮ শতাংশ
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), মেডিক্যাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি)—সব বিশ্ববিদ্যালয়েই সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক’ ইউনিটে ষষ্ঠ হয়েছিলেন বলে এখানেই ভর্তি হলেন। আরো একটি স্বপ্ন ছিল তাঁর—চিকিত্সা বা কৃষি খাতে গবেষণা করবেন। ফলে জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগে ভর্তি হলেন। তবে মা-বাবাকে মেডিক্যাল, বুয়েট ছেড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে রাজি করাতে বেশ কষ্ট হলো। এর পরও ছেলের ইচ্ছাকে সম্মান করে তাঁরা তাঁকে ভর্তি করে দিলেন। ছোটবেলা থেকেই ক্লাসের সেরা ছাত্রটি বিভাগেও সেরা হওয়ার বাসনা নিয়ে পড়ালেখা শুরু করলেন। শুরু থেকেই নিয়মিত পড়ালেখা করেছেন। অন্যদের মতো লেকচারের দিকে নয়, শিক্ষকদের পড়ানোটা বোঝার চেষ্টা করতেন। পরে বন্ধুদের নোট নিয়ে নিজের বোঝাকে লেকচারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতেন। আর রেফারেন্স বইগুলো তো পড়তেনই। দাগিয়ে পড়তেন বলে যেটুকু প্রয়োজন সেটি পরে আবার দেখলে মনে পড়ে যেত। নিজেই বললেন, ‘চাইলেও টানা ক্লাস, ল্যাব করে প্রতিদিন পড়তে পারতাম না। ফলে পরীক্ষার বেশ কয়েক দিন আগে থেকে আমাকে বই নিয়ে বসতে হতো। ফাইনালের আগে ছোট একটি নোট খাতা বানিয়ে নিতাম। সেখানে বিষয়গুলোর মূল সারাংশ থাকত, যাতে সেই বিষয় সম্পর্কে দেখলেই পুরো ধারণাটি পাই।’ প্রথম বর্ষের পরীক্ষায় তিনি যৌথভাবে ‘৩.৯৭’ সিজিপিএ পেয়ে প্রথম হলেন। এরপর তাঁর নিজেকেই টপকে যাওয়ার যুদ্ধ শুরু হলো। কারণ অন্যের ফলাফলের দিকে মনোযোগ দিলে তো আর তাঁর সেরাটি দেওয়া হবে না। সেই আকাঙ্ক্ষা তাঁর পূর্ণ হলো দ্বিতীয় বর্ষের সিজিপিএ ‘৪’-এর মধ্যে ‘৪’ পেয়ে। তবে এবারও যৌথভাবে প্রথম। তৃতীয় বর্ষে আগের চেয়ে দ্বিগুণ পড়তে হলো তাঁকে। কারণ এবার বিষয়গুলো অনেক জটিল। এর পরও পড়ে গেলেন। চাপ কমানোর জন্য ঘুরলেনও কয়েক জায়গায়। ফিরে এসে কিংবা যখনই সময় পেয়েছেন দাঁত কামড়ে পড়ালেখা করেছেন। তৃতীয় বর্ষের ফলাফলে তিনি এককভাবে সিজিপিএ ‘৪’ পেয়ে প্রথম হলেন। তবে চতুর্থ বর্ষে একটি বিষয়ে ‘এ প্লাস’ ছুটে গেল বলে ‘৩.৯৭’ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হলো। আর গড় সিজিপিএ হলো তাঁর ‘৩.৯৯’। লেখাপড়ার অবসরে তিনি বাংলাদেশ সায়েন্স আউটরিচের হয়ে দেশের প্রত্যন্ত স্কুলগুলোতে বিজ্ঞানকে ছড়িয়ে দিয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার ‘কোইকা’ নামের বিজ্ঞানের প্রসারে কাজ করা একটি সংগঠনেও কাজ করেছেন। টেন মিনিটস স্কুলের রসায়নের শিক্ষক ছিলেন। বিভাগের হয়ে ফুটবল খেলেছেন, আন্ত বিভাগ ব্যাডমিন্টনেও তিনি দুইবারের রানার-আপ। উচ্চতর লেখাপড়া শেষে তিনি গবেষণার ভুবনে ফিরে যেতে চান।

নিজের ভাষায় সাবলীলভাবে লিখতেন

মোহা. আল জাহিদ শিবলী


মোহা. আল জাহিদ শিবলী, মাত্স্যবিজ্ঞান
গড় সিজিপিএ : ৩.৯৫, শ্রেণি উপস্থিতি : ৯৮.১৩

প্রথমে ভর্তি হয়েছিলেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগে। মাইগ্রেশনের পর পেলেন মাত্স্যবিজ্ঞান বিভাগ। ছোট্ট এই বিভাগে বন্ধুরা খুব ভালো। শিক্ষকরা ক্লাসে বললেন, আমাদের সেশনজট নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একমাত্র এই বিভাগেরই বিসিএসে আলাদা ক্যাডার সার্ভিস আছে। ফলে অন্যদের চেয়ে আমাদের সুযোগ বেশি। আর মাছে-ভাতে বাঙালি বলে আমাদের বিভাগের চাকরিও অনেক। সবার সঙ্গে মিশে বিভাগের প্রতি ভালোবাসা আরো বেড়ে গেল তাঁর। ফলে আর কোনো দিন ক্লাস মিস হতো না। নিয়মিত স্যারদের লেকচার ভালোভাবেই তুলতেন তিনি। রাতে ফিরে এসে দিনের পড়া গুছিয়ে রাখতেন মনোযোগ দিয়ে। এসবের ফলাফলে প্রথম ইনকোর্সে সবার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নম্বর পেয়ে গেলেন। এর পর থেকে আর লেখাপড়ায় মনোযোগ সরেনি তাঁর। ক্লাস, ল্যাবের পর থেকে বাকি সময়টি হলের রিডিং রুমই হলো জাহিদের ঠিকানা। কোনো দিন সেখানে পড়তে না পারলে চলে যেতেন সায়েন্স লাইব্রেরিতে। ঘুম আর খাওয়া বাদে সেখানেই তাঁকে পেতেন সবাই। শুক্রবার আর শনিবার ক্লাস নেই বলে এই দুটি দিন সকাল থেকে টানা লাইব্রেরিতে পড়ালেখা করতেন। যেকোনো বিষয় বিস্তারিতভাবে পড়াটিই ছিল তাঁর ভালো ফলের মূল রহস্য। যেকোনো লেকচার বা বিষয়বস্তু তিনি ইংরেজিতে নিজের ভাষায় সাবলীলভাবে লেখার দক্ষতা আয়ত্ত করলেন। এটিই তাঁর আরেকটি গুণ। এসব কারণে তিনি প্রথম বর্ষের পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হলেন। তাঁর সিজিপিএ ছিল ৩.৮৩। দ্বিতীয় বর্ষে তাঁর ফল আরো ভালো—সিজিপিএ ৩.৯৭! তৃতীয় বর্ষে ৩.৯৮! ফলে চতুর্থ বর্ষে তাঁর ফল ছিল সিজিপিএ ৪! চার বছর মিলিয়ে তাঁর গড় সিজিপিএ হলো ৩.৯৫! এত ভালো ফল করলেও বন্ধুদের আড্ডা আর খেলাধুলায় বেশ আগ্রহ ছিল তাঁর। বিভাগের হয়ে ফুটবল, ক্রিকেট খেলতেন নিয়মিত। ক্রিকেটে বিভাগীয় দলের হয়ে দু-দুবার তিনি আন্ত বিভাগীয় প্রতিযোগিতায় ম্যান অব দ্য ম্যাচও হয়েছেন। বিভাগের অনুষ্ঠানে নাচ পরিবেশন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন সবাইকে। তিনি ঘুরতে ভালোবাসেন খুব। সারা দেশের ৪৪টি জেলা ঘুরেছেন এরই মধ্যে। বাকিগুলোও বেড়ানোর ইচ্ছা আছে।

কালেরকন্ঠ

বিডিবিএস 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।