যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপককে মারধর


India
Published: 2019-07-27 13:11:42 BdST | Updated: 2019-12-09 00:46:53 BdST

চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের চার নম্বর গেটের বাইরে। হঠাৎ একটি ছেলে চুলের মুঠিটা ধরেই মারতে শুরু করে। পড়ে যান ছিপছিপে চেহারার লোকটা।

ওই কয়েক সেকেন্ডে তখন ছুটে এসেছেন আশেপাশের লোকজন। ছুটে এসেছে ছাত্রছাত্রীরা। ক্যাম্পাসে তখন তড়িৎ গতিতে খবর ছড়িয়ে পড়েছে, ‘কাফিদাকে মেরেছে।’ গোটা ক্যাম্পাসের অভিমুখ তখন চার নম্বর গেটের দিকে। মিনিট খানেকের মধ্যে কয়েকশো ছাত্র। উঠে দাঁড়ালেন বাংলার অধ্যাপক আবদুল কাফি। ছাত্রদের উদ্দেশে বললেন, “তোমরা ওর গায়ে হাত দেবে না। ওকে নিয়ে যাও রেজিস্ট্রারের কাছে।”

তখন ফুঁসছে যাদবপুর। কিন্তু ‘কাফিদা’র বারণ! গায়ে হাত পড়ল না একটাও। অধ্যাপক পেটানো সেই প্রাক্তন ছাত্রকে ধরে তুলে দেওয়া হল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাররক্ষীদের হাতে। তাঁরা নিয়ে গেলেন রেজিস্ট্রারের ঘরে।

তারপর ঘাড়ে-মুখে জল দিয়ে আবদুল কাফি হাঁটলেন অরবিন্দ ভবনের দিকে। পিছনে ছাত্রছাত্রীদের ঝাঁক। সিঁড়ির একটা ধাপ উপরে দাঁড়িয়ে ফের ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে বললেন, “কোনও ভাবেই গায়ে হাত দেওয়া যাবে না। যা করার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ করবে।” তারপর অধ্যাপককে নিয়ে যাওয়া হয় কেপিসি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেই তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসা হয়।

রাজেশ সাঁতরা। আরামবাগের ছেলে। ২০১৫-তে যাদবপুর থেকেই পাশ করে বেরিয়েছে। জানা গিয়েছে, মাস দুয়েক ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আবদুল কাফির বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াচ্ছে এই প্রাক্তনী। তারপর শুক্রবারের ঘটনা। চার নম্বর গেটের বাইরে অধ্যাপকের উপর হামলার আগে বাংলা বিভাগে গিয়েও চিৎকার করে হট্টগোল পাকায় ওই যুবক।

বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশের হাতে তুলে দেয়। উপাচার্য সুরঞ্জন দাস বলেছেন, “প্রশাসন ব্যবস্থা নিক। এটা চলতে দেওয়া যায় না।” দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা আবদুল কাফির ছাত্ররা সংহতি জানাচ্ছেন প্রিয় মাস্টারমশাইকে। আর বলছেন, মার খেয়েও চলতে থাকা গণপিটুনির সংস্কৃতির কলঙ্ক থেকে যাদবপুরকে রক্ষা করলেন। তাই জেইউ-এর বর্তমান, প্রাক্তনীদের মুখে একটাই কথা, ‘নামটাই কাফি।’

The news first was published at Thewall.in