কাশ্মীরের মর্যাদা কেড়ে নেয়ায় নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ


ঢাকা
Published: 2019-08-06 18:31:09 BdST | Updated: 2019-08-25 13:47:17 BdST

জম্মু-কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল করায় বিক্ষোভ করেছে দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সোমবার বিকালে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে তারা। এ সময় মোদি সরকারের সমালোচনাও করে। কোন আলোচনা ছাড়াই ভারত সরকারের এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগানও দেয় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

এর আগে সোমবার বেলা ১১টার দিকে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদার ৩৭০ ধারা বাতিলের ঘোষণা দেয়। এরপর ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এর প্রতিবাদ করে অনেকে। কোন ধরণের আলোচনা ছাড়াই রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে এককভাবে এই সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় সরকার। ফলে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরীদের এই অধিকার হরণ করায় দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নেমে পড়ে প্রতিবাদে।

এসময় তারা ভারতের অন্যায়মূলক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। তারা চিৎকার করে স্লোগান দেয়- ‘অমিত শাহ্ হোশমে আয়ো’, ‘মোদি সরকার হোশমে আয়ো’, ‘কাশ্মীর পে হামলা নেহি চলেগা’, ‘নেহি চলেগা’ ‘নেহি চলেগা’, ‘৩৭০ লাঘব কর’।

প্রসঙ্গত, ভারতীয় সংবিধানের যে ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদে কাশ্মিরকে স্বায়ত্তশাসিত রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে সোমবার সেটি বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সোমবার (৫ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের পর এ ঘোষণা দেন তিনি। ইতোমধ্যে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় এ সংক্রান্ত বিলও উত্থাপন করেছেন অমিত শাহ। আর ৩৭০ ধারা বাতিলের ঘোষণার পর কাশ্মিরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদারের কথা বলে নতুন করে সেখানে সেনা সংখ্যা আরও বাড়ানো হলো।

কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন ও সেখানকার বাসিন্দাদের বিশেষ অধিকার ক্ষুণ্ণ করার দিনটিকে ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসের ‘সব থেকে অন্ধকারাচ্ছন্ন দিন’ আখ্যা দিয়েছেন রাজ্যের মেহবুবা মুফতি। টুইটারে তিনি লিখেছেন,‘১৯৪৭ সালে জম্মু-কাশ্মির দুই জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে থাকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করা হলো।’

সোমবার সরকারের সিদ্ধান্তের পর প্রতিক্রিয়ায় জম্মু-কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ বলেছেন, ভারত সরকারের আজকের একতরফা ও জঘন্য সিদ্ধান্ত জম্মু-কাশ্মিরের জনগণের সঙ্গে চূড়ান্ত বিশ্বাসঘাকতকতা। এই সিদ্ধান্তের ফল হবে দীর্ঘমেয়াদি ও বিপজ্জনক। এটা রাজ্যের জনগণের বিরুদ্ধে আগ্রাসন।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।