হিন্দু মৌলবাদীদের চাপে পদত্যাগ মুসলিম অধ্যাপকের


Dhaka
Published: 2019-11-26 19:26:57 BdST | Updated: 2019-12-12 17:15:17 BdST

বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়(বিএইচইউ)এর মুসলিম অধ্যাপক বিতর্কে যবনিকা টানলেন খোদ মুসলিম অধ্যাপক ফিরোজ খান৷ তিনি এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য বিভাগে পড়ানোর জন্য নতুন ভাবে আবেদন করেছেন৷ তার আবেদনে সাড়া দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ৷এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কট্টর হিন্দু মৌলবাদী ছাত্র ও অধ্যাপকদের একাংশ পিরোজ খানের সংস্কৃত বিভাগে অধ্যাপক নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে লাগাতার বিক্ষোভ দেখিয়েছেন৷ পরে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ ফিরোজের পাশে দাঁড়ালে তারা আপাতত বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে নিয়েছিল৷ তবে এরা প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতিকে ফিরোজের নিয়োগের বিরেধিতা করে প্রতিবাদ পত্র পাঠিয়েছেন৷ এই পরিস্থিতিতে ফিরোজ নিজেই সংসকৃতর বিশেষ বিভাগ থেকে নিজেক সরিয়ে নিলেন৷তিনি সংস্কৃতের অন্য বিভাগে পড়াতে চেয়েছেন৷ তংআর আবেদন মঞ্জুর করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ৷

ফিরোজ খান মুসলিম হয়ে কিভাবে সংস্কৃত পড়াচ্ছেন? তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়ে যায় বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিদ্যা ধর্ম বিজ্ঞান বিভাগে ফিরোজের পড়ানো ঘিরেই মূল বিতর্ক জন্ম নিয়েছিল। এবার সেই বিতর্কের ইতি টানতে খোদ ফিরোজ খান নিজেই নিলেন বড়সড় পদক্ষেপ। তিনি এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য বিভাগে পড়ানোর জন্য আবেদন করছেন বলে জানা যাচ্ছে। আর সেই আবেদনে সাড়াও দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ফলে এবার , সংস্কৃত বিদ্যা ধরম বিজ্ঞান বিভাগের বাইরে অন্য বিভাগে সংস্কৃত পড়াতে পারবেন ফিরোজ খান।

সংস্কৃতে পিএইচডি ফিরোজ বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ৭ নভেম্বর যোগ দেন ওই ভাষার অধ্যাপক হিসাবে। এরপরই ফিরোজের ধর্ম ও সংস্কৃত ভাষা পড়ানো সংক্রান্ত প্রশ্ন তুলে বিক্ষোভে বসেন পড়ুয়াদের একাংশ। শুরু হয় আমরণ অনশন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগের পড়ুয়াদের থেকে যাবতীয় সমর্থন পেয়েছেন ফিরোজ। সমর্থন এসেছে বিশ্বহিন্দু পরিষদের তরফেও। উল্লেখ্য, ফিরোজের বাবা রামজান খান সংস্কৃতে ‘শাস্ত্রী’ উপাধিতে ভূষিত একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ। তিনি এই বিতর্ক অবসান করতে মন্দির পৌঁছে ভজনও গেয়েছেন। তবে তাতেও শান্ত হয়নি বিতর্ক।

সংস্কৃত বিদ্যা ধর্ম বিজ্ঞান (এসভিডিভি)-এর অধ্যাপক এবং সংস্কৃত স্কলাররা। সংস্কৃতে ডক্টরেট ফিরোজ খানের নিয়োগ বাতিলের বিষয়ে হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে দেশের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠিও লেখেন তাঁরা।এ বিষয়ে এসভিডিভির প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান তথা ১৯৯১ সালে সংস্কৃতে সাহিত্যে অকাদেমি প্রাপ্ত রেবা প্রসাদ দ্বিবেদী বলেন, ‘যারা অ-হিন্দু এই অধ্যাপককে এখানে নিয়োগ করেছেন, সেই অধ্যাপক নিজেই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। এই নিয়োগ অবিলম্বে বাতিল করা হোক। এটাই আমাদের একমাত্র দাবি। একজন অ-হিন্দু অধ্যাপক কখনই এসভিডিভিতে পড়াতে পারেন না।’এর উত্তরে ফিরোজের সাফ জবাব,‘সারা জীবন ধরে আমি সংস্কৃত পড়ে এসেছি। কোথাও মনে হয়নি, আমি মুসলিম বলে সংস্কৃত আমি পড়তে পারব না। এবার যখন সংস্কৃত পড়াতে গেলাম তখন তার মধ্যে ধর্ম নিয়ে আসা হল।’

জয়পুরের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শাস্ত্রী (স্নাতক), শিক্ষাশাস্ত্রী (বি.এড), আচার্য (স্নাতকোত্তর) এবং ২০১৮ সালে পিএইচডিও সম্পূর্ণ করেছেন ফিরোজ খান। এমনকী নেট এবং জেআরএফ-ও সম্পূর্ণ করেন কৃতী ছাত্র ফিরোজ। তাঁর কথায়, ‘আমি ক্লাস টু থেকে আমার মহল্লাতেই সংস্কৃত পড়া শুরু করি। সেখানে প্রায় ৩০ শতাংশ মুসলিমের বাস। কোনও দিন আমাদের সমাজ কিংবা মৌলবিরা আমাকে এ ব্যাপারে বাধা দেননি। আমি কোরানের চেয়ে অনেক বেশি সংস্কৃত জানি। আমি মুসলিম জেনেও আমার সংস্কৃতের জ্ঞানের প্রশংসা করেছেন হিন্দুরা।’

ধর্নায় শামিল ছাত্রদের মধ্যে এবিভিপি, কেন্দ্রীয় ব্রাহ্মণ মহাসভা এবং আরএসএস-এর সদস্য শশীকান্ত মিশ্র, শুভম তিওয়ারী এবং চক্রপানি ওঝাদের বক্তব্য, ‘যদি কেউ আমাদের ধর্মের না হয়, তাহলে সে কীভাবে আমাদের সংস্কৃতি বুঝবে? কীভাবে তিনি আমাদের ধর্মকে উপলব্ধি করতে পারবেন?’ এই দাবি মানতে নারাজ ফিরোজ। তিনি বলেন, ‘যাঁরা বলছেন আমি মুসলমান হয়ে হিন্দুত্ববাদ পড়াতে পারব না, তাঁদের আমি বলব, আমি সংস্কৃত ভাষা সাহিত্যের খুঁটিনাটি ছাত্রছাত্রীদের কাছে তুলে ধরি। যেমন অভিজ্ঞান শকুন্তলম, উত্তর রামচরিতম্ ইত্যাদি। এর সঙ্গে ধর্মের কোনও সম্পর্কই নেই।’

সংবাদটি ভারতীয় গণমাধ্যম মহানগর২৪ থেকে নেয়া