অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইংল্যান্ডে মহান একুশে পালন


Australia
Published: 2020-02-23 01:05:57 BdST | Updated: 2020-04-08 09:21:01 BdST

অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইংল্যান্ডে প্রথমবারের মতো মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বাংলাদেশি ছাত্র সংগঠন না থাকায় এর আগে কোনো দিবস পালন করা হয়নি।

জানা গেছে, ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইংল্যান্ডে বাংলাদেশের ৩৪ জন পিএইচডি ও ৬ জন মাস্টার্স শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। এ ছাড়া তিনজন শিক্ষক ও কয়েকজন পোস্ট ডক্টরাল ফেলো করছেন। ২০১৯ সালের জুলাইয়ে ‘বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব ইউএনি’ নামে একটি ছাত্র সংগঠনের আত্মপ্রকাশের পর একুশে ফেব্রুয়ারি পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এদিন মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। উপস্থিত ছিলেন শান্তি অধ্যয়ন বিভাগের জৈষ্ঠ্য অধ্যাপক হেলেন ওয়্যার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক টড ওয়াকার।

এ সময় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মূল প্রতিপাদ্য তুলে ধরেন বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও শান্তি অধ্যয়ন বিভাগের পিএইচডি গবেষক সাফি এমডি মোস্তফা।

লিখিত বক্তব্যে অবিভক্ত পাকিস্তানে ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের প্রতি পাকিস্তানের নির্মতা, ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ ও মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্মের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়। এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

উপ-উপাচার্য বলেন, ‘ষোল বছর আগে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম। সে সময় শহীদ মিনারেও গিয়েছিলাম। সেখানে খালি পায়ে ১৫-২০ মিনিট ঘুরে দেখেছি। একটা জাতির ভাষার প্রতি এত আবেগ, ভালোবাসা ও আত্মত্যাগ আমাকে অভিভূত করেছে। তোমাদের ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা’।

এ দিবস আয়োজন করায় অধ্যাপক হেলেন ওয়্যার ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘তোমাদের এ দিবসটি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় আরও একটি তাৎপর্যপূর্ণ ইভেন্ট যুক্ত করল’। মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে অংশ নিতে আসা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা শ্রদ্ধাভরে ভাষা শহীদদের স্মরণ করেন।

এক শিক্ষার্থী তার আবেগ বহিঃপ্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘এখানে মহান একুশে ফেব্রুয়ারি পালনে আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় আমরা কে এবং আমাদের অস্তিত্ব কোথায়’।

দিবসটি আয়োজনের জন্য বর্তমান কমিটির প্রতি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। উল্লেখ্য, মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক ভাষা দিবসের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।