ফি না কমানোয় হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির বিরুদ্ধে ছাত্রের মামলা


Dhaka
Published: 2020-06-24 22:32:11 BdST | Updated: 2020-07-05 07:45:52 BdST

করোনাভাইরাসের কারণে অনলাইনে শিক্ষাকার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। ‘প্রশাসন স্বাভাবিক ক্লাস থেকে অনলাইন ক্লাসের টিউশন ফি না কমিয়ে অপরিবর্তনীয় রেখেছে’— এমন অভিযোগ করে বিশ্ববিদ্যালয়টির বিরুদ্ধে মামলা করেছে আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থী। হার্ভার্ডের আইন বিভাগে ওই শিক্ষার্থীর নাম আব্রাহাম বার্খোদার। তিনি সবেমাত্র হার্ভার্ড আইন স্কুলটিতে প্রথম বছর শেষ করেছেন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বার্খোদার অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন এবিসি নিউজকে জানিয়েছেন, আমি হার্ভার্ডের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ তারা করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক ক্লাস নিতে না পেরে অনলাইন ক্লাস নিয়েই আগের মত টিউশন ফি নিচ্ছেন। তারা ফি না কমিয়ে তা অপরিবর্তনীয় রেখেছেন।

তিনি বলেন, অনলাইন ক্লাসে আমরা বেশকিছু সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছিলাম। শিক্ষার্থী হিসাবে আমরা এগুলো সমাধানের কথাও বলেছি। আমি প্রশাসনের আচরণে হতভম্ব এবং অপমানবোধ করছি। এ বছর আমি যেমনটা শিখেছি- আমি মনে করি, আমেরিকাতে ন্যায়বিচার পাওয়ার একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে আইনি ব্যবস্থা।

এ মামলায় সহপাঠীরা তার সঙ্গে আছেন জানিয়ে বার্খোদার জানান, সহপাঠীদের প্রতিনিধি স্বরুপ তিনি মামলাটি করেছেন। তিনি তাদের পূর্ণ সমর্থন পাচ্ছেন এবং আশা করছেন। ন্যায় বিচার পেতে এটা তাকে সহায়তা করবে।

হার্ভার্ড আইন স্কুলের বরাত দিয়ে এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষাবর্ষ শেষ করতে শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর ৬৫ হাজার ৮৭৫ ডলার টিউশন ফি দিতে হয়। যা এবারের করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে অনলাইন ক্লাস নিয়েও না কমিয়ে অপরিবর্তনীয় রাখা হয়েছে।

এবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ল স্কুলটি শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসে সহায়তার করার জন্য ১ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত খরচ করছে। তারা বলছে, এ অনলাইন শিক্ষা শিক্ষার্থীদের মাঝে এক দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা দিতে সহায়তা করবে।

ল স্কুলের ডিন জন ম্যানিং জানান, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সংবাদমাধ্যমের খবরের আলোকে আমরা স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এ পরিস্থিতে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ফল টার্ম ২০২০ অনলাইনের মাধ্যমেই শেষ করবো।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় মামলার বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে তারা জানিয়েছে, দ্রুত করোনাভাইরাস পরিস্থিতি পরিবর্তনের আশা করছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সকলের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানের এ শিক্ষা করোনা পরবর্তী পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।