শিক্ষার্থীদের অন্যতম পছন্দ জার্মানির হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়


Dhaka
Published: 2020-09-24 10:50:42 BdST | Updated: 2020-10-23 17:17:15 BdST

উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশি অনেক শিক্ষার্থীর পছন্দের গন্তব্য জার্মানির হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়৷ শুধু বাংলাদেশই নয়, বিশ্বের অনেক দেশ থেকেই এখানে পড়তে আসেন শিক্ষার্থীরা৷ সঙ্গে বাড়তি পাওনা পুরোনো এই শহরটির নান্দনিকতা৷

ইউরোপের অন্যতম ও জার্মানির সবচেয়ে পুরোনো বিশ্ববিদ্যালয় হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়৷ এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৩৮৬ সালে৷ শহরের ওল্ড টাউনে একটি ভবনে এর যাত্রা শুরু ধর্মতত্ত্ব, আইনশাস্ত্র ও দর্শনতত্ত্ব বিভাগ নিয়ে৷ দু'বছর পর যুক্ত হয় চিকিৎসা শাস্ত্র৷ বিজ্ঞান ও সমাজ গবেষণায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অনেক৷ এমনকি ১৯০১ সালে নোবেল পুরষ্কার চালু হবার পর থেকে নিয়মিত এখানকার গবেষকরা এই সম্মাননা অর্জন করে আসছেন৷

হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সরাসরি ১১ জন নোবেল পুরস্কার জিতেছেন৷ তাদের মধ্যে ৪ জন চিকিৎসাশাস্ত্রে, ৪ জন রসায়নে ও ৩ জন পদার্থবিদ্যায় পেয়েছেন এই পুরষ্কার৷ আরো ৪৬ জন নোবেলজয়ী কোনো না কোনোভাবে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িত৷

হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় বরাবরই তার শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছে৷ ২০১৮-১৯ শিক্ষাবছরে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য বিশ্ববিদ্যালয় .ব্যাংকিংগুলোতে জার্মানিতে এটি ১ থেকে ৩-এর মধ্যে, ইউরোপে ১২ থেকে ১৯-এর মধ্যে এবং বিশ্বে ৪৪ থেকে ৬৬-র মধ্যে ছিল৷

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এখানে রয়েছে অনেক সুবিধা৷ ব্যাচেলর, মাস্টার্স, পিএইচডি ও পোস্টডক মিলিয়ে এখানকার প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ বিদেশি শিক্ষার্থী৷ পিএইচডি পর্যায়ে এই সংখ্যা আরো বেশি৷ যেমন ২০১৯ সালে ১১৬৬ জন পিএইচডি শিক্ষার্থীর ৩৩১ জনই (২৮.৪%) ছিলেন বিদেশি৷

হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট চারটি ক্যাম্পাস৷ ওল্ড টাউন (মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান), নয়েনহাইমার ফেল্ড (ন্যাচারাল সায়েন্সেস ও মেডিসিন), ব্যর্গহাইম (সমাজবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অর্থনীতি) এবং মানহাইম ক্যাম্পাস (মেডিকেল ফ্যাকাল্টি মানহাইম)৷ এসব ক্যাম্পাসে দেড়শ'রও বেশি বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে৷ এখানে ৫৮টি ব্যাচেলর ও ৬৯টি মাস্টার্স ছাড়াও আরো অনেকগুলো প্রোগ্রাম চালু রয়েছে৷ রয়েছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, ইনস্টিটিউট ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পার্টনারশিপ৷

হাইডেলবার্গ শহরটিও খুব আকর্ষণীয়৷ জার্মানির দক্ষিণ পশ্চিমে বাডেন-ভ্যুটেমবার্গ রাজ্যের শহর এটি৷ নেকার নদীর তীরে মধ্যযুগীয় শহরটির পত্তন হয় ১৪ শতকে৷ শহরটিকে ঘিরে থাকা অরণ্যবেষ্টিত পর্বতমালাকে বলা হয় ওডেনভাল্ড৷ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে এখানে সবসময়ই পর্যটকদের আনাগোনা৷ শুধু তাই নয়, শতকের পর শতক ধরে বিজ্ঞান আর সাহিত্যের অপূর্ব মিলন ঘটেছে শহরটিতে৷ শহরের দেড় লাখ জনসংখ্যার চার ভাগের এক ভাগ হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী৷

ডয়চে ভেলে