চা বাগান থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থেরেসা


Dhaka
Published: 2020-10-02 14:16:50 BdST | Updated: 2020-10-23 16:37:22 BdST

প্রায় ২০০ বছর আগে দক্ষিণ ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় আসে চা শ্রমিকরা। তারা খুবই দরিদ্র ছিল। কোনোরকম খেয়ে-পরে দিনাতিপাত করতো। সন্তানদের লেখাপড়া করানোর মতো আর্থিক অবস্থা তাদের ছিল না। আর মেয়েদের পড়াশোনা করার কথা তো ভাবেইনি তারা। নিজেদের আর্থিক দৈন্যদশা আর সামাজিক অবস্থানের কারণে তারা ধরে নিয়েছিল, লেখাপড়া তাদের জন্য না।

তবে তাদের সেই ভুল ধারণা ভেঙে দিয়েছেন থেরেসা নামের এক তরুণী। তার এলাকার চা শ্রমিক সম্পদ্রায়ের মধ্যে তিনি প্রথম কোনো মেয়ে, যিনি শ্রীলঙ্কার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন।

থেরেসা বলেন, ‘চা শ্রমিকদের জীবন খুব কঠিন। এখানে সবাইকে সংগ্রাম করতে হয়। তবে এখানে সবাই কাজ করে। কোনো কাজই অসম্মানের নয়। আর শিক্ষা আমাদের একমাত্র সুযোগ, যেটা দিয়ে আমরা একটি নতুন ভোর নিয়ে আসব।’

আগে থেরেসাদের এলাকায় মাত্র একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল। একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয় ২০১৬ সালে। এরপর সেখানকার ছেলেমেয়েদের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার সুযোগ তৈরি হয়।

থেরেসা বলেন, ‘প্রাথমিকে পড়ার সময় একটি পুরনো ফ্যাক্টরির মধ্যে তাদের ক্লাস নেয়া হতো। মানুষ ভাবে, মেয়েদের লেখাপড়ার দরকার নেই। এর মধ্যে কয়েকজন স্কুলে গেলেও কয়েক বছরের মধ্যে ঝরে পড়ে। বাকিরা একেবারেই স্কুলে যায় না।’

থেরেসার মা একজন চা শ্রমিক। তার দাদিও চা শ্রমিক ছিলেন। বাবা কোম্পানিতে চাকরি করেন। খুব অল্প বেতন পান। তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন। তবে পড়াশোনা শেষ করে শিক্ষক হতে চান থেরেসা।

থেরেসার মা পুশপামারি সাথিয়ামুথু বলেন, ‘থেরেসা যখন কিশোরী ছিল তখন সে স্কুল ছেড়ে গৃহপরিচারিকার কাজ শুরু করে। কিন্তু স্কুলের শিক্ষকরা চাইলেন, সে পড়াশোনা করুক। পরে তারা তাকে অনেকটা জোর করে স্কুলে ফিরিয়ে নিয়ে গেলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে বাগান থেকে চায়ের পাতা তুলি। জোঁকের কামড় খেতে হয়। আমার মেয়ে যখন শিক্ষক হবে তখন সে আমাদের সম্প্রদায়কে পুনর্নির্মাণ করবে।’

ছুটির দিনগুলোতে নিজের পুরনো স্কুলে পড়ান থেরেসা। সম্প্রতি শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে তিনি একটি পথনাটকে অভিনয় করেছেন। এছাড়া ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতে অভিভাবকদের উদ্বুদ্ধ করছেন তারা।

থেরেসা বলেন, ‘আমার মা লিখতে-পড়তে পারেন। তবে আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে। আমাদের শুধু নিজেদের পড়াশোনা চালিয়ে গেলে হবে না, অন্যকেও শেখাতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের স্কুল সবকিছু পাল্টে দিয়েছে। কারণ সবকিছুর পরিবর্তন সম্ভব। আমাদের গ্রামের একটা পরিচয় তৈরি করে দিয়েছে এই স্কুল। সেই সঙ্গে আমাদের সামনে একটা নতুন পৃথিবীর দরজা খুলে দিয়েছে।’

সূত্র : বিবিসি