যে শহরের জীবনযাত্রা পুরোটাই এর বিশ্ববিদ্যালয়কে জড়িয়ে


Dhaka
Published: 2020-11-19 08:55:09 BdST | Updated: 2020-11-27 19:59:39 BdST

খুব সম্ভবত পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি সংখ্যকবার যে মেয়েটাকে চুমু খাওয়া হয়েছে সে হচ্ছে The Gänseliesel (The Goose Girl)! Gänseliesel একটা জার্মান শব্দ। যদি ভুল না করে থাকি তাহলে শব্দটার উচ্চারণ হবে, গ্যাঞ্জেলিয়েজেল!

জার্মানির যে ছোট্ট সাজানো শহরটাতে আমি এখন আছি, এই মেয়েটাও সেই একই শহরে থাকে। শহরটার নাম Göttingen (গোটিনগেন)। এই শহরের জীবনযাত্রা পুরোটাই এর বিশ্ববিদ্যালয়কে জড়িয়ে। শহরটার নামও এর বিশ্ববিদ্যালয়ের নামানুসারে।

১৭৩৪ সালে স্থাপিত হওয়া এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম Georg-August-Universität Göttingen, সংক্ষেপে University of Göttingen! বলা হয়ে থাকে যে গোটিনগেনে গড়ে প্রতি ৫ জনের মধ্যে একজন হচ্ছে শিক্ষার্থী। সেই গড় হিসেবের একজনের মধ্যে আমিও আছি এখন!

তো যা বলছিলাম, The most kissed girl in the world! আমার বাসা থেকে ১০ মিনিট সাইকেলের দূরত্বে গেলেই ৩টা রাজহাঁস কোলে নিয়ে এই মেয়েটাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ডানহাতে একটা রাজহাঁস, বাম হাতে দুটো, যার একটা ঝুড়ির ভিতর। Gänseliesel মূলত একটা ঝর্ণার ভাস্কর্য। ১৯০১ সালে যখন এই ভাস্কর্যটা স্থাপন করা হয় তখন গোটিনগেন শহরজুড়ে একটা মজার প্রথা চালু হয়ে যায়। গোটিনগেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া সব নতুন শিক্ষার্থীরা সৌভাগ্যের আশায় ঝর্ণাটা বেয়ে উঠে মেয়েটাকে চুমু খেয়ে আসা শুরু করে। কেউ কেউ তো একধাপ এগিয়ে মেয়েটার হাতের ঝুড়ি ভর্তি করে দিয়ে আসে ফুলে। অবস্থা এতই বেগতিক হয়েছিল যে ১৯২৬ সালে গোটিনগেনের কাউন্সিলররা এক নতুন আইন চালু করে— ঝর্ণা বেয়ে ফুল নিয়ে উঠে গিয়ে সুন্দরীকে আজ থেকে আর চুমু খাওয়া যাবে না!

কিন্তু আইন করে কী আর সুন্দরীকে চুমু খাওয়া বন্ধ করা যায়! ওই আইন কেবল কাগজে কলমেই পড়ে রইল। ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে গোটিনগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা The goose girl of Göttingen-কে চুমু খেয়ে যাচ্ছে। তবে সময় এই প্রথাকে কিছুটা হলেও পরিবর্তন করেছে। এখন আর নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা না; বরং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নতুন ডক্টরেট ডিগ্রিধারীরাই Gänseliesel-কে চুমু খাওয়ার অধিকার রাখে! ডক্টরেট ডিগ্রি নেয়ার পর শিক্ষার্থীরা রীতিমত বিয়ের বাজনা বাজিয়ে বিশাল বহর নিয়ে এসে ফুলে-ফুলে সাজিয়ে দিয়ে দল বেঁধে চুমু খেয়ে যায় এই সুন্দরীকে।

জার্মানি আসার আগে গুগল করে যখন Gänseliesel সম্পর্কে পড়ছিলাম তখন আমার চোখমুখ রীতিমত চকচক করছিল। কিন্তু যখন সুন্দরীকে নিজের চোখে দেখলাম তখন কিছুটা হলেও থমকে গেছি। ভেবেছিলাম বিশাল বড় কিছু একটা হবে। বাস্তবে Gänseliesel চারপাশে বৃত্তাকার পরিধির ঝর্ণাতে মোড়ানো ছোট্ট একটা ভাস্কর্য। তবে এটা সত্য যে বালিকার মুখে বেজায় মায়া! বেশ কিছুক্ষণ অপলক তাকিয়ে থাকার জন্য যা যথেষ্ট।

আর বিষয়টা আসলে Gänseliesel-এর আকৃতিগত বিশালতা নয়, বরং এর শত বছরের ঐতিহ্যই এর মুগ্ধতা। তাছাড়া একটা চুমু খাওয়ার জন্য একটা ডক্টরেট ডিগ্রি— এ কী মুখের কথা!

এসেছি মাস্টার্স করতে। ভাবছি এই মেয়েকে একটা চুমু খাওয়ার জন্য হলেও ডক্টরেটটা করে ফেলব কিনা!