উত্তপ্ত শান্তিনিকেতন, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনশন


Dhaka
Published: 2021-01-10 11:19:56 BdST | Updated: 2021-01-28 18:14:11 BdST

অবস্থান, পাল্টা অবস্থানে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার শান্তিনিকেতনের প্রাঙ্গণ। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের যে রাস্তা রাজ্য সরকারের পূর্ত দফতর নিয়েছে, সেই রাস্তা ফেরানোর দাবিতে শনিবার শান্তিনিকেতনের ছাতিমতলায় অনশন, অবস্থানে বসলেন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, অধ্যাপক ও শিক্ষার্থীদের একাংশ।

২০১৭ সালে শান্তিনিকেতনে যাতায়াতের জন্য বিশ্বভারতীর কালিসায়র থেকে উপাসনা মোড় পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার রাস্তা বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়কে ব্যবহারে জন্য দিয়েছির রাজ্যের পূর্ত মন্ত্রণালয়। কিন্তু বিদ্যুৎ চক্রবর্তী উপাচার্য হয়ে আসার পরই ওই রাস্তা দিয়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

এমনকি উপাসনা মন্দিরে উপাসনা চলাকালীন সময়ে এই রাস্তায় যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া হয়। এনিয়ে সেসময় ক্ষোভও জানান নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক অমর্ত্য সেনসহ আশ্রমিক ও স্থানীয়রা। পরে আশ্রমিকরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠিও লেখেন।

এরপর গত মাসেই বীরভূম সফরে এসে বোলপুর প্রশাসনিক বৈঠক থেকে পূর্ত দফতরকে রাস্তা ফেরত নেওয়ার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরই রাজ্য সরকার ও বিশ্বভারতীর মধ্যে সংঘাত বাধে। গত ১ জানুয়ারি একটি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ওই রাস্তা অধিগ্রহণ করে পূর্ত দফতর।

এরপরই ওই রাস্তা ফেরানোর দাবিতে শনিবার সকালে প্রায় এক ঘণ্টা প্রতীকী অনশন অবস্থানে বসেন উপাচার্য বিদুৎ চক্রবর্তী। ছাতিমতলায় এই অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হন অধ্যাপক, কর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একাংশ।

এর আগে রাস্তা অধিগ্রহণের দাবিতে শুক্রবারই বিজেপির পক্ষ থেকে একটি মোমবাতি মিছিল বের হয়েছিল।

এদিকে ছাতিমতলায় যখন অনশন অবস্থানে বসেন উপাচার্যসহ অন্যরা ঠিক তার পাশেই উপাসনা গৃহের চারপাশে লাগানো বিজেপি পতাকাকে কেন্দ্র করে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। বিজেপির দলীয় পতাকা চোখে পড়তেই শনিবার সকালে তা সরিয়ে ফেলেন বিশ্বভারতীর নিরাপত্তারক্ষীরা। যদিও ওই পতাকাকে কেন্দ্রকে করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে একের পর এক প্রতিবাদী শিক্ষককে কোনো কারণ ছাড়াই বহিষ্কার, বিশ্বভারতীর প্রাঙ্গণকে রাজনীতিকরণের অভিযোগ তুলে ছাতিমতলার কাছেই বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের বাইরে অবস্থান বিক্ষোভে বসেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাম শিক্ষার্থীদের একাংশ।

উপাচার্যের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন তারা। উপাচার্যের বিরুদ্ধে স্লোগানও দিতে শোনা যায় বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের। একইভাবে পৌষমেলার সিকিউরিটি মানি ফেরতের দাবিতে উপাসনা মন্দিরের কাছে বিক্ষোভ দেখায় কবিগুরু মার্কেটের ব্যবসায়ীরা ও বোলপুর ব্যাবসায়ী সমিতির সদস্যরা।

তাদের অভিযোগ পৌষমেলায় স্টল দেওয়ার জন্য উপাচার্যের নির্দেশে তাদের কাছ থেকে সিকিউরিটি মানি নেওয়া হয়েছিল এবং মেলার শেষে তা ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রায় ২ বছর কেটে গেলেও সেই অর্থ এখনও ফেরত দেওয়া হয়নি।

সামনেই রাজ্যে বিধানসভার নির্বাচন। কিন্তু সম্প্রতি কয়েকটি ঘটনায় বিশ্বভারতীকে নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ বাড়ছে। গত মাসেই কয়েকদিনের ব্যবধানে শান্তিনিকেতন সফর করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি জয়প্রকাশ নাড্ডা।

এমনকি বিশ্বভারতীর জমি বিতর্কে নাম জড়িয়ে যায় নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক অমর্ত্য সেনের। তা নিয়েও পানি কম ঘোলা হয়নি। অমর্ত্য সেনকে জমি মাফিয়া বলেও অভিযোগ করেন বিজেপির নেতারা। ময়দানে নামতে হয় মমতা ব্যানার্জিকেও।