ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণে সীমাহীন দুর্নীতি অনিয়ম


মেইল ডেস্ক:
Published: 2017-03-13 06:12:37 BdST | Updated: 2018-11-18 02:24:02 BdST

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ঢাকা। ফাইল ছবি
ডেইলিমেইলবিডি ডট কম:
ঢাকা: ঢাকার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় ক্ষতিপূরণের অর্থের চেক বিতরণ নিয়ে সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করেও কোনো সুফল পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা।

১৩ মার্চ সোমবার ‘ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণে সীমাহীন দুর্নীতি অনিয়ম’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে দৈনিক ইত্তেফাক।

এ দিকে, সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বহীনতা ও প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতার কারণে ভুয়া আপত্তি, ভুয়া দাবিদার ও মামলা-মোকদ্দমার সংখ্যা বাড়ছে। ফলে নতুন করে প্রকৃত ভূমি মালিকরা আইনি জটিলতায় পড়ছেন। ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অধিগ্রহণ শাখার কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা এই দুর্ভোগ ও অনিয়মের জন্য দায়ী বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ভূমি মালিক। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সূত্রও এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্র জানায়, ৪৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে করার জন্য সরকার রসুলবাগ, নাখালপাড়া ও মগবাজার এলাকায় ২৪৭ একর জমি অধিগ্রহণ করে। ক্ষতিপূরণ হিসাবে ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে। গত এক বছরে সংশ্লিষ্ট শাখা হতে ২০০ কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, তারা বাস্তুভিটা হারানো সম্পত্তির ক্ষতিপূরণ আনতে গিয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অধিগ্রহণ শাখায় নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ঘুষ না দিয়ে কেউই তাদের পাওনা চেক পাচ্ছেন না। নির্ভেজাল জমির ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের অর্থের দশ শতাংশ টাকা নেয়া হচ্ছে। আর ঝামেলাযুক্ত জমিতে টাকার পরিমাণ আরো বেড়ে যায়।

রসুলবাগ, নাখালপাড়া ও মগবাজারের আলমগীর হোসেন, জসিম উদ্দিন এবং মোবারক আলীসহ বেশ কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিক অভিযোগ করেন, মালিকানার সব কাগজপত্র থাকার পরও ক্ষতিপূরণের চেক পেতে তাদের মোটা অংকের টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে।

নাখালপাড়া এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মাহবুব উদ্দিন বলেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মিত হলে হয়তো ঢাকার চেহেরা পাল্টে যাবে। কিন্তু আমাদের মতো যাদের বাড়িঘর অধিগ্রহণ করে স্থাপনাটি তৈরি করা হচ্ছে, তাদের ভাগ্যের কী পরিবর্তন হবে? সরকার এলএ শাখার বরাবর ক্ষতিপূরণের ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখলেও কয়েকজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার খেয়াল খুশির কারণে সেটা আমরা পাচ্ছি না। নানা অজুহাতে তারা সে টাকা ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিকদের দিচ্ছেন না।

ঢাকার জেলা প্রশাসক মোঃ সালাউদ্দিন বলেন, অধিগ্রহণ শাখায় দুর্নীতি অনিয়ম চলছে— এমন অভিযোগ পেলে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

- দৈনিক ইত্তেফাক

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।