ধূমপায়ীদের অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি বেশি হয়


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2018-11-29 00:04:34 BdST | Updated: 2019-08-19 02:01:53 BdST

শ্বাসতন্ত্রের জটিল রোগ সিওপিডি (অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিস) ধূমপায়ীদের বেশি হতে দেখা যায়। এটা ফুসফুসের একটা অসুখ যাতে নিঃশ্বাস নিতে অসুবিধা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।

সিওপিডি-র ফলে কাশি দেখা দেয়, সেই সঙ্গে কফসহ নানা উপসর্গ থাকে। ধূমপানের সঙ্গে এই অসুখটি যুক্ত। যাদের এটা হয়, তাদের অনেকেই ধূমপান করেন বা এককালে করতেন। এ ছাড়া বাতাসের দূষণ, ধুলো ও ধোঁয়া ইত্যাদি যা আমাদের ফুসফুসে প্রদাহের সৃষ্টি করে তাদের জন্যেও এই রোগটি দেখা দিতে পারে—বলে মন্তব্য করেছেন চিকিৎসকরা।

আজ বুধবার (২৮ নভেম্বর) বিশ্ব সিওপিডি দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্ষব্যাধি (রেসপিরেটরি) বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভা ও বৈজ্ঞানিক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

এবারে দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয় ‘আসুন, সিওপিডি প্রতিরোধ করি (নেভার টু আর্লি, নেভার টু লেট—ইট’স অলওয়েজ দ্য রাইট টাইম টু অ্যাড্রেস এয়ারওয়েস ডিজিস)। ২০০২ সাল থেকে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

Rally

সেমিনারে বক্তারা বলেন, ধূমপানের কারণেই প্রধানত মানুষ এই জটিল শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত হয়। তাই সিওপিডি প্রতিরোধে তামাকের চাষ ও উৎপাদন বন্ধ করতে হবে। সিগারেট ও তামাক কোম্পানিগুলো বন্ধ হলে হ্রাস পাবে সিওপিডিতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা, সেই সঙ্গে স্বাস্থ্যখাতের ব্যয়ও অনেকটাই কমে আসবে।সিওপিডি রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে ধূপমান নিরাময়কেন্দ্র, এনসিডি (নন কমিউনিকেবল ডিজিজেস) কর্নার, পালমোনারি রিহ্যাবিলেটশন সেন্টার (ফুসফুসের রোগীদের পুনর্বাসন কেন্দ্র), রেসপিরেটরি আইসিইউ ও রেসপিরেটরি ইমাজেন্সি প্রতিষ্ঠা জরুরি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিএসএমএমইউ-এর উপউপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার বলেন, ‘সিওপিডি রোগীদের চিকিৎসার ব্যয়ভার যাতে মানুষের সামর্থের মধ্যে থাকে সেটা বিবেচনায় রাখতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পালমোনারি রিহ্যাবিলেটশন সেন্টার (ফুসফুসের রোগীদের পুনর্বাসন কেন্দ্র), রেসপিরেটরি আইসিইউ, রেসপিরেটরি ইমাজেন্সি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বে সিওপিডি রোগীর সংখ্যা ৮০ মিলিয়ন। বাংলাদেশে এ সংখ্যা প্রায় ১০ ভাগ। যারা ধূমপান করে তাদের মধ্যে এই সংখ্যা ১২ ভাগ। আর অধূমপায়ীদের মধ্যে এই সংখ্যা ৩ ভাগ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্ষব্যাধি বিভাগের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ঢাকায় ৩৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে ১১ দশমিক চার ভাগ মানুষ সিওপিডি রোগে আক্রান্ত। এর মধ্যে ১১ দশমিক সাত ভাগ পুরুষ এবং ১০ দশমিক ছয় ভাগ নারী।

অধ্যাপক ডা. এ কে এম মোশরারফ হোসেন বলেন, দীর্ঘস্থায়ী এই রোগ সিওপিডি প্রতিরোধে গ্রামে-গঞ্জে পরিবেশবান্ধব চুলার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বক্ষব্যাধি (রেসপিরেটরি) বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম মোশরারফ হোসেন। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি ছিলেন উপউপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. সাহানা আখতার রহমান, উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।