‘চমেকেও’ চলছে ইন্টার্ন চিকিৎসক ধর্মঘট


চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
Published: 2017-03-06 18:13:16 BdST | Updated: 2018-05-26 23:15:57 BdST

ডেইলিমেইলবিডি ডট কম:
ঢাকা: গত শনিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সফরের কারণে ধর্মঘটে যাননি ‘চমেক’ হাসপাতালের ইন্টার্ন ডাক্তররা। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী যাত্তয়ার পরদিনই (রবিবার) বেলা ১২টা হতে অন্যান্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ন্যায় ধর্মঘটে নামেন ইন্টার্ন ডাক্তাররা। এতে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হলেও ইন্টার্ন ডাক্তারের সংখ্যা কমে যাত্তয়ায় বেশ কিছুটা বিপাকে আছেন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা।

চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা জানান, ‘একজন চিকিৎসক যদি ব্যক্তিগত ভাবে অপরাধ করেন তবে তাকে কি স্বাস্থি দেয়া যাবে না? স্বাস্থি দিলে এর প্রতিবাদে ধর্মঘট আহবান কি প্রমাণ করে? এতে রোগীদের দুর্ভোগ বাড়ছে।’

উল্লেখ্য, ‘চমেক’ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের এসোসিয়েশনের কার্যালযে আজও গত দিনের ন্যায় ঝুলতে দেখা যায় বড় তালা। তবে সূত্রে জানা যায়, ইন্টার্ন ডাক্তারদের ধর্মঘটে তেমন প্রভাব পড়ছে না চিকিৎসা সেবায়। জরুরী বিভাগেও অন্যান্য দিনের ন্যায় স্বাভাবিক কার্যক্রম চলতে দেখা গেছে। তবে বিভিন্ন ওয়ার্ডগুলোতে চিকিৎসক স্বল্পতা দেখা গিয়েছে কিছুটা। ডাক্তার আছেন কোথাও এক-দু’জন।

ধর্মঘটের ব্যাপারে জানতে চাইলে সার্জারি ডিপার্টমেন্টের ইন্টার্ন ডাক্তার সাজিয়া আক্তার জানান, ‘আমরা ডিপার্টমেন্টাল হেড’দের সাথে কথা বলতে সবাই একত্রিত হয়েছি। এখনও মিটিং চলছে (সময় বেলা ১২.১৫)। মিটিংত্রর পর আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি কি হবে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’ তবে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ব্যাপরে জানতে চাইলে ইন্টার্ন ডাক্তারদের তেমন কেউই সদুত্তর দিতে চাননি। তবে সূত্রে জানা যায়, দেশের অন্যান্য মেডিকেল কলেজগুলোয় ধর্মঘট চলার কারণে ‘চমেকের’ ইন্টার্ন ডাক্তাররাও ঘর্মঘটে নামতে এক প্রকার বাধ্য হয়।

জানতে চাইলে ‘চমেক’ এর পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. জালাল উদ্দিন জানান, ‘আমাদের হাসপাতালের কার্যক্রম চলছে আগের মতোই স্বাভাবিক নিয়মে। তেমন ব্যাঘাত ঘটেনি। ইনডোরে আগে যেভাবে রোগী ভর্তি হতো সেবা পেতো তার তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমরা পোস্ট গ্যাজুয়েট ও নিয়মিত ডাক্তারদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে দিয়েছি।’

উল্লেখ্য, ১৯ ফেব্রুয়ারী বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গুরুতর অসুস্থ এক রোগীর স্বজনকে বেদম মারধরের পাশাপাশি অবমাননাকর সাজা দেন কয়েকজন ইন্টার্ন ডাক্তার। পরবর্তিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ ভিডিও প্রকাশ পায়। কিন্তু ইন্টার্ন ডাক্তাররা উল্টো রোগীর স্বজনদের দোষারোপ করেন মহিলা চিকিৎসককে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ আনেন। পরে নিজেদের নিরাপত্তাসহ কয়েকদফা দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে নামেন উক্ত মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন ডাক্তাররা।

এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশে গত ২৩ ফেব্রæয়ারী স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে আরেকটি কমিঠি গঠন করে। গঠিত কমিটিতে দু’জন চিকিৎসকও ছিলেন। গত বুধবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি। তদন্ত প্রতিবেদনে ইন্টার্ন ডাক্তর কর্তৃক রোগীর স্বজনদের অন্যায় ভাবে সাজা ও মারধরের ব্যাপারটি উঠে আসে। এবং ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায় তদন্ত কমিটি। তদন্ত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনায় জড়িত থাকা চার ইন্টার্ন ডাক্তারের ইন্টার্নশিপ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রণালয়। পাশাপশি বাকি ছয় মাস ইন্টার্নশিপ বগুড়া মেডিকেলের পরিবর্তে তাদেরকে অন্যত্র ইন্টার্নশিপ শেষ করতে হবে।

মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বেশ কয়দিন ধরেই ধর্মঘট পালন করে আসছে বগুড়ার ওই হাসপাতালসহ দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন ডাক্তাররা। এদিকে গত (শনিবার) চট্টগ্রামে এসে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) চট্টগ্রাম শাখার নব-নির্বাচিত কমিটির অভিশেক ও চিকিৎসক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চিকিৎসক নেতাদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে বগুড়ার চার ইন্টার্ন ডাক্তারের বিরুদ্ধে শাস্তির বিষয়টি আবারো বিবেচনা করবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি। কিন্তু এর একদিন না যেতেই এক প্রকার এ আশ্বাস উপেক্ষা করেই ধর্মঘটে নেমেছেন ‘চমেকের’ ইন্টার্ন চিকিৎসক ডাক্তাররা।

 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।