ডেন্টাল ভিনিয়ারস কী?


স্বাস্থ্য ডেস্ক:
Published: 2017-03-12 20:35:08 BdST | Updated: 2018-08-21 10:19:24 BdST

ডেন্টাল ভিনিয়ারস এর মাধ্যমে দাঁতের আকার, আকৃতি এবং দৈর্ঘ্যেরও পরিবর্তন করা যায়। ছবি : সংগৃহীত
ডেইলিমেইলবিডি ডট কম:
ঢাকা: অনেকেই ডেন্টাল ভিনিয়ারস এর নাম শুনে থাকবেন। মুখের হাসি সুন্দর করার জন্য করা হয় এটি। এটি বাঁকা বা ভাঙ্গা দাঁত ঠিক করার জন্য এবং দাঁতের রঙ নষ্ট হয়ে গেলে করা হয়। বিভিন্ন ধরনের দাঁতের ভিনিয়ারস পাওয়া যায়। আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী ভিনিয়ারসটি পছন্দ করতে পারেন আপনি। তবে ডেন্টাল ভিনিয়ারস লাগানোর আগে এর সম্পর্কে বিস্তারিত জানা প্রয়োজন যেমন- ডেন্টাল ভিনিয়ারস কী, ভিনিয়ারস কত প্রকারের হয়, এর উপকারিতা এবং অপকারিতা ইত্যাদি।  

ডেন্টাল ভিনিয়ারস কী?
দাঁতের সামনের অংশকে ঢাকার জন্য যে পাতলা ওয়েফারের মত আবরণ দেয়া হয় তাকে ডেন্টাল ভিনিয়ারস বলে। দাঁতের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য এই আবরণটি লাগানো হয়। শুধু বর্ণ পরিবর্তন নয় ডেন্টাল ভিনিয়ারস এর মাধ্যমে দাঁতের আকার, আকৃতি এবং দৈর্ঘ্যের ও পরিবর্তন করা যায়।

ডেন্টাল ভিনিয়ারস এর ব্যবহার
কোন আঘাতের কারণে দাঁত ভেঙ্গে গেলে অথবা দাঁতের রঙ নষ্ট হয়ে গেলে দন্ত চিকিৎসকেরা ডেন্টাল ভিনিয়ারস ব্যবহার করার কথা বলে থাকেন। সাধারণত দুটি দাঁতের মধ্যকার ফাঁকা স্থানকে বন্ধ করার জন্য,  অভিন্ন রঙ, আকার এবং ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য, ভাঙ্গা অংশকে মেরামত করার জন্য এবং খুব ছোট ত্রুটিকে ঠিক করার জন্য ব্যবহার করা হয় টুথ ভিনিয়ারস।

ডেন্টাল ভিনিয়ারস কী কী ধরনের হয়?
ডেন্টাল ভিনিয়ারস তৈরিতে যে উপাদান ব্যবহার করা হয় তার উপর ভিত্তি করে একে দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়েছে, এগুলো হচ্ছে কম্পোজিট টিথ ভিনিয়ার এবং পোরসেলিন টিথ ভিনিয়ার। কম্পোজিট ভিনিয়ারের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি দাঁতের উপরে তৈরি করা হয় অথবা একজন টেকনিশিয়ান ল্যাব এ তৈরি করে নিয়ে আসেন। তারপর এটি দাঁতের সাথে যুক্ত করা হয় রেজিন সিমেন্টের সাহায্যে। ভিনিয়ারস তৈরির সাধারণ উপকরণগুলো হচ্ছে সিরামিক এবং লুমিনিয়ারস (পাতলা ও শক্তিশালী পোরসেলিন থাকে), দ্যা ভিনিক (খুবই পাতলা পোরসেলিন), ম্যাক (শক্তিশালী  এবং উচ্চমাত্রার দাগ প্রতিরোধী), কম্পোজিট এবং অ্যাক্রাইলিক (ব্যবহার করা হয়না)।

দাঁতের কতটুকু অংশে ব্যবহার করা হবে তার উপর ভিত্তি করে ভিনিয়ারসকে দুই ভাগে ভাগ করা হয় যেমন – ফুল ভিনিয়ার ক্রাউন – এতে দাঁতের উপর থেকে নীচ পর্যন্ত পুরো অংশকেই আবৃত করা হয়। আরেকটি হচ্ছে ল্যামিনেট ভিনিয়ার – এতে দাঁতের উপরিভাগ আবৃত করা হয়। সাধারণত নান্দনিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয় এই ল্যামিনেট ভিনিয়ার।

দাঁতের ভিনিয়ার সম্পর্কে আরো যে বিষয়গুলো জানা প্রয়োজন:
দাঁতের ভিনিয়ারস লাগানোর পূর্বে কিছু বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন যেমন-
• কৃত্রিমভাবে দাঁত সোজা করার জন্য ডেন্টাল ভিনিয়ারস ব্যবহার করা উচিৎ নয়। নান্দনিকতার জন্য এটি ব্যবহার করাটা দাঁতের পাটির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এটি কঠিনভাবে নিষেধ করা  হয়, বিশেষ করে পূর্ণবয়স্কদের যাদের স্বাস্থ্যবান দাঁতের পাটি আছে। যদি শুধুমাত্র দাঁত সাদা করার জন্য অথবা দাঁত পরিষ্কারের জন্য এটি করানোর প্রয়োজন মনে করেন তাহলে একে এড়িয়ে যাওয়াই ভালো কারণ এতে শুধুই অর্থের অপচয় হবে এবং এটি অপ্রয়োজনীয় ও বটে।

• দাঁতের সাধারণ ক্ষয়ের কারণে বা খুব ছোট ক্ষতির কারণে পোরসেলিন বা সিরামিকের ভিনিয়ার ব্যবহার করা উচিৎ নয়। কারণ ভিনিয়ারস লাগানোর সময় প্রস্তুতি পর্বেই দাঁতের উপরিভাগের ৩-১০% ক্ষতি হয়ে যায়। এ রকম ক্ষেত্রে ৫০% টিথ ভিনিয়ারস স্থানচ্যুত হয়, পুনরায় মেরামত করতে হয় অথবা ১০ বছর পরে সন্তোষজনক অবস্থায় থাকে না।

• যদি এই প্রক্রিয়াটি একজন প্রশিক্ষিত দন্ত চিকিৎসকের দ্বারা করা না হয় বা সঠিকভাবে যদি করা না যায় তাহলে এর ফলে দাঁত ক্ষয় বা দাঁতের সংবেদনশীলতা সৃষ্টি হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এর দ্বারা দাঁতের সমস্যা তৈরি হয়।

• ভাঙ্গা বা আঁকাবাঁকা দাঁতের অধিকারীদের এবং দাঁতের অন্যকোন মারাত্মক ক্ষতির বা পূর্ণ দাঁতের প্রতিস্থাপন না করার পরামর্শ দেয়ার কারণে ডেন্টাল ভিনিয়ারস লাগানোর পরামর্শ দেয়া হয়।   

সূত্র: দ্যা হেলথ সাইট ও ওয়েব এম ডি 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।