ইবি ভিসির উপর হামলায় যবিপ্রবিশিসের নিন্দা


মোসাব্বির হোসাইন
Published: 2018-01-31 15:53:39 BdST | Updated: 2018-02-25 13:35:35 BdST

গত ২৬ জানুয়ারী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশীদ আশকারী দুর্বৃত্তদের দ্বারা আক্রমনের শিকার হওয়ায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছে এবং সেই সাথে সন্ত্রাসীদের সনাক্তকরণ ও দ্রুত বিচারের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কাছে জোরালো দাবি জানান তারা।

গত বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) রাত তিনটার দিকে ঢাকা থেকে অফিসের কাজ শেষ করে ক্যাম্পসে ফেরার পথে ঝিনাইদহের শৈলকূপার গাড়াগঞ্জের বড়দাহ নামক এলাকায় আক্রমণের শিকার হন উপাচার্য। এসময় দুর্বত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ব্যবহৃত গাড়ী কোপাতে থাকে। পরে তিনি কোন ভাবে পালিয়ে অন্য একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। তবে উপাচার্য ও তার গাড়ি চালকের কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানা যায়। হামলার ধরণ দেখে ডাকাতি মনে হলেও উপাচার্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা পূর্বপরিকল্পিত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন।

উল্লেখ্য, ঐদিন জরুরী মিটিং শেষে রাত সোয়া ১০টার দিকে ঢাকা থেকে ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে রওনা দেন উপাচার্য প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশীদ আশকারী। গাড়াগঞ্জ বাজার পার হলে রাস্তায় গাছ ফেলে ব্যারিকেট তৈরী দেখতে পান গাড়ি চালক। বিপদ আচঁ করতে পেরে তিনি গাড়ি পিছনের দিকে নেওয়ার চেষ্টা করেন কিন্তু ততক্ষণে কয়েকটি ট্রাক জমা হয়ে যাওয়ায় গাড়ি পিছনে নিতে ব্যর্থ হয়।

এসময় হঠাৎ করেই তিনজন মুখোশধারী বড় আকৃতির রামদা হাতে গাড়িতে হামলা চালায়। প্রথমে গাড়ির বাম পাশে সামনের গ্লাস ভেঙে সেখানে কাউকে না পেয়ে পিছনের গ্লাসে উপর্যুপুরি আঘাতে ভেঙে ফেলে। আর সেখানেই বসে ছিলেন উপাচার্য। এসময় গাড়ি চালক সামনের দিকে গাড়ি চালিয়ে ব্যারিকেটের কাছে থামালে উপাচার্য এবং গাড়ি চালক আত্মরক্ষার্থে গাড়ি থেকে নেমে রাস্তার পাশের জঙ্গলে আশ্রয় নেয়। পরে হামলাকারীরা টর্চ লাইট দিয়ে উপাচর্যকে খুঁজে বের করে। তখন তারা বলে ‘এইতো পেয়েছি’।

উপাচার্য বলেন, ‘ঠিক এসময় আমার মনে হচ্ছিল এটিই জীবনের শেষ মুহুর্ত। তখন আল্লার নাম জপতে থাকি।’ পরে তারা আমাকে ধরে নিয়ে গাড়ির কাছে এসে টাকা চায়। কিন্তু আমার কাছে কোন টাকা ছিল না। তারা আগেই মানিব্যাগ নিয়ে যায়। আমি তাদের ল্যাপটপ দিতে চাইলেও তারা নেয় না। তখন অনেকগুলো ট্রাক জমে যায় রাস্তার দুইপাশে। তারা হর্ণ বাজাতে থাকে।

এসময় তারা আমাকে গাড়ির নিকট দাড় করিয়ে ‘একটুও নড়বি না’ বলে চলে যায়। তখন ট্রাকের লাইটের আলোয় আমি প্রাণভয়ে রাস্তা দিয়ে সামনের দিকে দৌড়াতে থাকি। প্রায় মিনিট খানেক দৌড়ানোর পরে একটি বাড়ি পেয়ে সেখানে আশ্রয় নি। পরে সেখান থেকে একজন স্থানীয়র ফোন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে ফোন দিলে বিশ্ববিদ্যালয় থানা ও শৈলকূপা থানার পুলিশ গিয়ে আমাকে উদ্ধার করে। ভোর ৫টার দিকে আমি ক্যাম্পাসে পৌঁছাই।

এঘটনার নিন্দা জানিয়ে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে ইবি প্রেসক্লাব, ছাত্রলীগ, শিক্ষক সমিতি, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, শাপলা ফেরাম, জিয়া পরিষদ ও বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন।

এইচজে/ ৩১ জানুয়ারি ২০১৮

Loading...

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।