চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক পাচ্ছেন আট শিক্ষার্থী

যবিপ্রবির তৃতীয় সমাবর্তনে অংশ নিচ্ছেন ৫৭০ গ্রাজুয়েট


মোসাব্বির হোসাইন
Published: 2018-02-03 18:57:59 BdST | Updated: 2018-05-28 03:49:35 BdST

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ‘তৃতীয় সমাবর্তন-২০১৮’ তে অংশগ্রহণের জন্য ৫৭০ জন গ্রাজুয়েট রেজিস্ট্রেশন করেছেন। তাঁদের মধ্যে আটজন গ্রাজুয়েট পাচ্ছেন চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক। একটি বর্ণাঢ্য ও মনোজ্ঞ সমাবর্তনের জন্য প্রায় সব প্রস্তুতিই শেষ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

শনিবার (০৩ জানুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর সম্মেলন কক্ষে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন ‘তৃতীয় সমাবর্তন-২০১৮’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘তৃতীয় সমাবর্তন ২০১৮’-এ ৫৭০ জন গ্রাজুয়েট রেজিস্ট্রেশন করেছেন এবং ৪৬৬ জন অভিভাবক গ্রাজুয়েটদের সঙ্গে আসবেন। এ অনুষ্ঠানে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক, কর্মকর্তাসহ ৪৮৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ‘তৃতীয় সমাবর্তন-২০১৮’ সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ১৯টি কমিটি ও উপ-কমিটি তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব অত্যন্ত সূচারুভাবে পালন করছে। পরীক্ষায় অসাধারণ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখার জন্য এবারের সমাবর্তনে আটজন গ্রাজুয়েটকে চ্যান্সেলর স্বর্ণ পদক, পাঁচজন শিক্ষার্থীকে ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড এবং ৫৬ জন শিক্ষার্থীকে ডিন্স অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হবে। ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য মেডেল, ক্রেস্ট এবং অন্যান্য উপহার সামগ্রী তৈরির কাজও সুসম্পন্ন হয়েছে।’

১১ বছর কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কোনো উল্লেখযোগ্য সময়ই নয় উল্লেখ করে উপাচার্য ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এ স্বল্প সময়ের পথ পরিক্রমায় তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারাটা যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি বড় অর্জন। আমি গত ২০ মে ২০১৭ খ্রি. তারিখে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে একটি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করি। সে সম্মেলনে আপনাদেরকে কথা দিয়েছিলাম যে, এই বিশ্ববিদ্যালয়কে বাংলাদেশ তথা সারা বিশ্বেও কাছে একটি বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করব। সে প্রচেষ্টারই অংশ হিসেবে এবারের সমাবর্তনে একজন নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানীকে আমন্ত্রণের পরিকল্পনা করা হয় এবংআমরা সে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে চলেছি।’

সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন আরও বলেন, ‘তৃতীয় সমাবর্তন-২০১৮’ আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি, বুধবার বেলা আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবে। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় চ্যান্সেলর জনাব মোঃ আবদুল হামিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান। এবারের সমাবর্তনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হচ্ছে এই প্রথম এশিয়া মহাদেশের বাইরের কোনো নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে আসছেন। তিনি হলেন, জার্মান নাগরিক, ১৯৮৮ সালে রসায়ন শাস্ত্রে নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. রবার্ট হিউবার। তিনি ম্যাক্স প্লাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর বায়োকেমিস্ট্রি’র ইমেরিটাস ডাইরেক্টর। আপনারা নিশ্চয় জানেন, তিনিই প্রথম গাছের সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়া আবিষ্কার করে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। এমন জগৎখ্যাত বিজ্ঞানীর আগমনে সারা দেশে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে; একজন নোবেল বিজয়ীর সান্নিধ্য পেয়ে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েটগণ আগামীর বাংলাদেশ গঠনে অনুপ্রাণিত হবেন বলে আমার বিশ্বাস।

সমাবর্তনের প্রস্তুতির বিষয়ে উল্লেখ করে ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, বিভিন্ন প্রকারের দেশি-বিদেশি ফুলে পুরো ক্যাম্পাস সাজানো হয়েছে। আলোক সজ্জাসহ ক্যাম্পাসের সব ভবনের সৌন্দর্য বর্ধনের কাজও চলছে। যশোর শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং চুড়ামনকাটি থেকে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক পর্যন্ত সড়ক বর্ণিল ব্যানার ও ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হচ্ছে।

সমাবর্তন উপলক্ষে চুড়ামনকাটি থেকে ক্যাম্পাস পর্যন্ত স্বাধীনতা সড়কও মেরামত করা হয়েছে। এ জন্য ‘যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগ’কে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাই। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোও কার্পেটিং করা হয়েছে। মোটকথা, একটি বর্ণিল, মনোজ্ঞ সমাবর্তন অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রস্তুত। এ সমাবর্তনকে সফল করতে যে সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী নিরলস পরিশ্রম করছেন এবং যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাঁদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বিপ্লব কুমার বিশ্বাস, ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন ড. মোঃ ওমর ফারুক, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মোঃ নাসিম রেজা, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. এ এম এম মুজাহিদুল হক, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ জিয়াউল আমিন, রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী আহসান হাবীব প্রমুখ।

এসএম/ ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।