ইবিতে তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপাকে শিক্ষার্থীরা


আহসান নাঈম
Published: 2018-04-20 00:15:15 BdST | Updated: 2018-06-22 23:15:19 BdST

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) গত কয়েকদিন ধরে তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপাকে পড়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ঘন্টায় অন্তত চার থেকে পাচঁ বার লোডশোডিং হচ্ছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক কর্মকান্ডে ব্যাপক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সাথে বারবার বিদ্যুৎ আসা যাওয়ায় মূল্যবান ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ শিক্ষাক-শিক্ষার্থীদের।

চলছে বৈশাখ মাস। বাইরে খাঁ খাঁ রোদে প্রচন্ডতায় পুড়ছে ধরনী। ভ্যাপসা গরমে হাসঁপাস অবস্থা সকলের। পরিবেশের এমন বৈরিতায় যোগ হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। সকাল ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস, পরীক্ষা, একাডেমিক এবং প্রশাসনিসহক সকল কার্যক্রম চলছে। এর মাঝে দূর্ভোগের নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে লোডশিাডিং, বারবার বিদ্যুৎ আসা যাওয়া। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজিস্ব জেনারেটরের ব্যাবস্থা থাকলেও জেনারেটর চালু হতে পাচঁ থেকে সাত মিনিট অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

বারবার বিদ্যুৎ আসা যাওয়ার কারণে ক্লাসে ভাপসা গরমে ঘেমে যাচ্ছেন শিক্ষাথীরা। আবার লোডশেডিংয়ের কারণে প্রজেক্টররে ক্লাস নিতে পারছেননা শিক্ষকেরা। তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ও লাইব্রেরীতে পর্যাপ্ত আলো না পেয়ে ঠিকমত পড়ালেখা করতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। রাতে আরো বাড়ছে লোডশেডিংয়ের তিব্রতা। বারবার বিদ্যুৎ যাওয়ার কারণে পরীক্ষার্থীদের রাতে পড়ালেখার ব্যঘাত ঘটতেছে। পরীক্ষার হলেও পরীক্ষার্থীরা ঠিকমত আলো পেয়ে না ঠিক মত লিখতে পড়ছেন না। বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীদের ল্যাবে ক্লাস ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

লোকপ্রশাসন বিভাগের দ্বিতীয় শিক্ষার্থী আরিফ বিল্লাহ ক্যাম্পাস টাইমসকে বলেন, আজকে আমাদের ক্লাসে স্যার একটি গুরত্বপূর্ণ টপিকস প্রজেক্টরের মাধ্যমে বুঝাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বারবার বিদ্যুৎ আসা যাওয়ার কারণে স্যার প্রজেক্টর ব্যবহার করতে পারেনি। যার কারণে আমরা বিষয়টি ভালো ভাবে বুঝতে পারিনি।

কেন্দ্রীয় লাইব্ররীতে পড়তে আসা সায়মা আক্তার নামক এক শিক্ষার্থী জানায়, বারবার বিদ্যুৎ আসা যাওয়ার কারণে পড়ালেখায় মনোযোগ দিতে পারছিনা। পড়ার জন্য ঠিক মত আলো পাচ্ছিনা, আর সকলের তো জানালার কাছে বসার সুযোগ হয় না।

বাংলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইমন বলেন, আমাদের ফইনাল পরীক্ষা চলাকালে চার ঘন্টায় দশ থেকে বারোবার বিদ্যুৎ আসা যাওয়া করেছে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের হয়ে যাওয়া আন্তর্জতিক সেমিনারেও বক্তব্য প্রদানের সময় বিপাকে পড়ছে বক্তারা। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজিস্ব জেনারেটরের ব্যবস্থা থাকলেও জেনারেটর চালু হতে পাচঁ থেকে সাত মিনিট অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ম্যানেজমেন্ট বিভাগে আন্তর্জতিক সেমিনারে ভারত থেকে আগত প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানের সময় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।

খোজঁ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসসহ বিভিন্ন গুরত্বপূর্ণ আফিস দপ্তরে লোডশেডিংয়ের কারণে স্বাভাবিক কর্মকান্ডে ব্যাপকভাবে ব্যঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।

অন্যদিকে তীব্র লোডশোডিংয়ের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও অফিসের ইলেক্ট্রনিক লাইট, ফ্যান, কম্পিউটার, প্রজেক্টর, প্রিন্টর, এসি সহ বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে প্রধান প্রকৈশলী আলীমুজ্জামান টুটুল ক্যাম্পাস টাইমসকে বলেন, ‘কুষ্টিয়ার বিদ্যুৎ লাইন মেরামত করার কারণে ঝিনাইদহ জেলার বিদ্যুৎ লাইন থেকে চালনো হচ্ছে। ঝিনাইদহের বিদ্যুৎ লাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের লোড সঠিকভাবে টানতে পারছেনা, যার কারণে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে।’ জেনারেটরের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়ে এসি সংখ্যা বেরে যাওয়ায় জেনারেটর ঠিকভাবে লোড টানতে পরছেনা। বিষয়টি আমি উর্ধ্বতন প্রশাসনকে জানিয়েছি, আশা করি অল্প সময়ের মধ্যে এ সমস্য সমাধান হবে।’

এইচজে/ ২০ এপ্রিল ২০১৮

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।