ঐতিহ্য বজায় রেখে ঢাবিতে শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে না: প্রধান বিচারপতি


টাইমস প্রতিবেদক
Published: 2017-08-03 18:51:29 BdST | Updated: 2017-12-12 16:32:27 BdST

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বর্তমানে যেভাবে শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে সেটা অ্যালার্মিং (অশানিসংকেত) বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। তিনি বলেছেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা ঐতিহ্য রয়েছে। সেই ঐতিহ্য বজায় রেখে বর্তামানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে প্রভাষক পদে খন্দকার তোফায়েল আহমেদের নিয়োগকে অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া আদেশের বিরুদ্ধে ওই শিক্ষকের করা আপিল শুনানিতে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন। প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের তিন বিচারপতির বেঞ্চ রায় স্থগিত না করে ‘নো অর্ডার’ দেন।

তোফায়েলের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সগির আনোয়ার; সঙ্গে ছিলেন গোলাম সরওয়ার পায়েল।

আইনজীবী গোলাম সরওয়ার পায়েল জানান, দর্শন বিভাগে প্রভাষক পদে খন্দকার তোফায়েল আহমেদের নিয়োগকে অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। ফলে তিনি আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর শিক্ষক থাকতে পারবেন না।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘একজন ভিসি পর্যন্ত ঐতিহ্য বজায় রেখে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। তখন বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে যারা প্রথম শ্রেণিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হতেন তাদেরকে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হতো। কিন্তু এখন আর সেটি হচ্ছে না। এটা অ্যালারমিং।’

গত ২৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে প্রভাষক পদে খন্দকার তোফায়েল আহমেদের নিয়োগকে অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট। এছাড়া ওই শূন্য পদে নিয়োগের জন্য নতুন করে কমিটি গঠন করে নিয়োগ দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এ সংক্রান্ত রুল নিষ্পত্তি করে বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

গত ৩০ জানুয়ারি রিট আবেদনটি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে শিক্ষক পদে আরেক আবেদনকারী এইচ এম মিরাজ সৌরভ।

রিট আবেদনে বলা হয়, গত বছরের ২ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে দুইজন প্রভাষক নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনকারীদের এসএসসি ও এইচএসসি-তে যোগ্যতা চাওয়া হয় সিজিপিএ-৫ এর মধ্যে ন্যূনতম ৪.২৫। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর দুইজনকে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দেয় দর্শন বিভাগ। কিন্তু নিয়োগপ্রাপ্ত দুই জনের মধ্যে খন্দকার তোফায়েল আহমেদের সিজিপিএ-৩.১৯। ফলে তিনি এ পদে আবেদন করারই অযোগ্য বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।

এমজে/ ০৩ আগস্ট ২০১৭

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।