চাকরি-বেতন নয়, সনদ চান শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা


টাইমস ডেস্ক
Published: 2020-08-03 21:08:11 BdST | Updated: 2020-09-24 11:29:02 BdST

২০১৭ ও ২০২০ সালে অনুষ্ঠিত এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা সনদের দাবিতে টানা ২৮তম দিন প্রতীকী অনশন পালন অব্যহত রেখেছেন।

সোমবার (০৩ আগস্ট) সকাল ১০টায় প্রতিদিনের মতো ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনশন শুরু হয়ে শেষ হয় দুপুর ২টায়।

এসময় শিক্ষানবিশ আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক ফজলে রাব্বি স্মরণ বলেন, আমরা মনে করেছিলাম বার কাউন্সিল ও এনরোলমেন্ট কমিটির অামাদের অভিভাবকগন আমাদের যৌক্তিক দাবিটি মেনে নিয়ে ঈদ করার জন্য অামাদেরকে আমাদের বাবা- মার কাছে পাঠিয়ে দিবেন কিন্তু তারা তা করেননি। ঈদের দিন আমাদের রাস্তায় ঈদ করতে হয়েছে। এ স্মৃতি কোনোদিন ভুলে যাওয়ার নয়। এমন দিনের কামনা অভিভাবকদের কাছ থেকে আমরা কখনো করিনি। আমরা আমাদের অভিভাবকদের কাছে দাবি জনাই সনদ দিয়ে আমাদেরকে বন্দি খাচা থেকে দ্রুত মুক্তি দিন। আমরা আর পারছি না। দাবি পূরন না হওয়া পর্যন্ত আপনাদের সন্তানরা রাস্তায় থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেননা তাদের যাওয়ার জায়গা নেই।

শিক্ষানবিশ আইনজীবী পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক এ কে মাহমুদ বলেন, আমাদের অভিভাকগন আমাদের প্রতি সদয় হবেন, সন্তানদের ভুলক্রুটি ক্ষমা করে আমাদের সনদের ব্যবস্থা করবেন সেই প্রত্যাশায় টানা ২৮তম দিন রাস্তায় অবস্থান করছি। আমরা আর পারছি না। আমাদের বরিশাল বারের ইলোরা ইয়াসমিন আপা ও বগুড়া বারের জাহাঙ্গীর ভাই ইতোমধ্যে আমাদের কাছ থেকে চির বিদায় নিয়েছেন। আরও অনেকে ইতোমধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আমরা আর কাউকে হারাতে চাই না। অভিভাবকগণের কাছে দাবি আমাদের সনদের ব্যবস্থা করে দিন, আমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ বাড়ি ফিরে যাই।

জানা গেছে, গত ৭ জুলাই থেকে শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা সনদের দাবিতে অনশন করছেন।

ইতোমধ্যে কয়েকজন শিক্ষানবিশ আইনজীবী অসুস্থ্য হয়ে রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

বার কাউন্সিল আইন অনুযায়ী প্রতি ৬ মাস পর পর বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্তির পরীক্ষা নেওয়ার কথা থাকলেও ২০১৭ সালের পর এখন পর্যন্ত একটি পরীক্ষাও সম্পন্ন করতে পারেনি বার কাউন্সিল, অথচ এই সময়ে আইন অনুযায়ী কমপক্ষে ৬টি পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার কথা। ঠিক সময়ে পরীক্ষা না হওয়ায় আইন বিষয়ে পড়া লেখা করেও মারাত্মক সঙ্কটের মধ্যে আইনে ডিগ্রি অজর্নকারীরা। ৬ মাস পর পর প্রতি পরিক্ষায় ৫ হাজার আইনজীবী তালিকাভুক্ত হলেও গত ৩ বছরে ৬টি পরীক্ষায় কমপক্ষে ৩০ হাজার আইনজীবী তালিভুক্ত হতেন। সে তুলনায় বতর্মান ১২৮৭৮ জন খুবই সামান্য।

২০২০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারী কঠিন প্রতিযোগিতামূলক এমসিকিউ পরীক্ষায় প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষানবিশ আইনজীবী অংশ নিয়ে পাস করেন মাত্র ৮৭৬৪ জন। আর ২০১৭ সালের সাড়ে ৩ হাজার জন।

বার কাউন্সিল ঠিক মতো সময় পরীক্ষা না নেওয়ায় পরীক্ষার দাবিতে শিক্ষানবিশ অাইনজীবীরা গত বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সামনে অনশন করেন। বার কাউন্সিল যেহেতু ঠিক সময় পরীক্ষা নিতে পারেনি তাই শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা মানবিক বিবেচনায় রিটেন ও ভাইভা পরীক্ষা মওকূফের দাবি জানিয়ে গেজেট করে ১২৮৭৮ জনকে তালিকাভুক্তির বা সনদ প্রদানের দাবি জানাচ্ছে। বার কাউন্সিল ইচ্ছা করলে সনদ দিতে পারে। বার কাউন্সিল আইনের ৭৩এ বিধিসহ বিভিন্ন বিধিতে এ সম্পর্কে উল্লেখ আছে। শিক্ষানবিস আইনজীবী নুপুর আক্তার বলেন,
আইন বিষয় নিয়ে পড়ালেখা করে কি আমরা অপরাধ করেছি? তাহলে আমাদেরকে কেন হতাশায় রাখা হচ্ছে।

বিষয়টি দেখার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি এবং হস্তক্ষেপ কামনা করেন এই নারী। তিনি বলেন, আমরা চাকরি চাই না, বেতন চাই না, বোনাস চাই না। কাজ করার একটি লাইসেন্স বা সনদ চাই।