‘বিসিএস নন-ক্যাডারদের জন্য স্বতন্ত্র বিধিমালা প্রয়োজন’


টাইমস প্রতিবেদক
Published: 2017-12-06 09:38:07 BdST | Updated: 2017-12-14 08:21:00 BdST

অ্যামিকাস কিউরি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেছেন, ‘বিসিএস নন-ক্যাডারদের জন্য স্বতন্ত্র বিধিমালা প্রয়োজন।’ বিএসএস ক্যাডার-নন ক্যাডার স্বতন্ত্র রাখা উচিত বলে মত দেন তিনি।

আইন অনুসরণ ছাড়া বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের নিয়োগ না দেওয়ার রিটে আদালতের নিয়োগকৃত অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে আজ মঙ্গলবার (০৫ ডিসেম্বর) বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক এ অভিমত তুলে ধরেন।

ফজলুল হক বলেন, ‘এই সুযোগে সুপ্রিম কোর্টের একটা পরিচ্ছন্ন রায় দেওয়া উচিত। আদালত বিসিএস নন-ক্যাডারদের জন্য স্বতন্ত্র বিধিমালা করে দিতে পারে।’ তখন আদালত বলেন, ‘আমরা দিকনির্দেশনা দিতে পারি।’

পরে আদালত থেকে বের হয়ে আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, ‘আমি প্রথম কথা বলেছি যে, সরকারের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। জাতীয় স্বার্থে জাতীয়করণ করা খুব ভালো কাজ। দ্বিতীয় কথা, এখানে জটিল একটা সমস্যা। কারণ বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে যাঁরা আসছেন এবং প্রাইভেট পরীক্ষা দিয়ে যাঁরা আসছেন তাঁদের চাকরিগত সুযোগ-সুবিধা, সিনিয়রিটি, এগুলো নিয়ে সমস্যা আছে। এই সমস্যার সমাধান সরকারকেই করতে হবে। কিন্তু এই সুযোগে সুপ্রিম কোর্টের একটা পরিচ্ছন্ন রায় দেওয়া উচিত।’

ফজলুল হক আরো বলেন, ‘এই মূলনীতির কথা আমি যতটা বুঝেছি তাতে বলেছি। যাঁরা বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে আসবেন তাঁদের সিনিয়রিটি, সুযোগ-সুবিধা এটা যথাসম্ভব অপরিবর্তিত রাখতে হবে। আর যাঁরা নতুন আসছেন, তাঁদের মর্যাদা, তাঁদের আর্থিক সুযোগ-সুবিধা যতদূর সম্ভব সরকার সব থেকে বেশিই দেবেন। কারণ তাঁরা তো আগে থেকেই বঞ্চনার মধ্যে আছেন। সেই বঞ্চনা যতটা কাটানো যায়।’

আদালত কী বলেছেন জানতে চাইলে আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, ‘আদালত তো আমার কথায় সায় দিয়ে কথা বলছেন।’

এর আগে গত ৩০ নভেম্বর আইনজীবী-শিক্ষাবিদ তিনজনকে অ্যামিকাস কিউরি (আদালতের বন্ধু) হিসেবে নিয়োগ দেন হাইকোর্ট। নিয়োগ পাওয়া তিন অ্যামিকাস কিউরি হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক এবং আইনজীবী ব্যারিস্টার কামাল উল আলম।

এই মামলায় অপর দুই অ্যামিকাস কিউরি আগামী ১৮ জানুয়ারি তাঁদের বক্তব্য আদালতে উপস্থাপন করবেন।

আদালতে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির পক্ষে করা রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সালাউদ্দিন দোলন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস।

২০০০ সালে তৈরি করা আত্তীকরণ বিধিমালা অনুসরণ করে জাতীয়করণ করা বেসরকারি কলেজের শিক্ষকদের বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে আত্তীকরণ করে আসছে সরকার। সরকারের এমন সিদ্ধান্তে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে আন্দোলন করছেন ক্যাডারভুক্ত শিক্ষকরা।

এসজে/ ০৬ ডিসেম্বর ২০১৭

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।