বিশ্ববিদ্যালয়ে সকাল ৮ টায় ক্লাস: যন্ত্রণা নাকি নির্মলতা?


ওয়ালি খান রাজু
Published: 2017-08-12 17:54:24 BdST | Updated: 2018-08-14 20:24:59 BdST

বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শিক্ষার্থীদের কাছে এটি একটি বৈচিত্রময় জীবনের নাম, স্কুল কলেজের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে জীবন যেন অন্যরকম হয়ে যায়। আগের সেই বাধা-ধরা জীবন পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন হয়ে উঠে অনেকটা স্বাধীন ও শাসনমুক্ত। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের হললাইফের কথাতো বলাই বাহুল্য, উদ্দাম ও স্বাধীনচেতা এক জীবন যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের হল এ কাটানো সময়টুকু। 

স্কুল কলেজ বলতে আমরা বুঝি শাসন আর শৃংখলাবদ্ধ জীবন, যেখানে ভোর সাতটা কিংবা আটটা থেকে ক্লাস শুরু হবে, হোমওয়ার্ক এর ভয়, টিচারদের বেতের ভয় ইত্যাদি থাকবে। আর বিশ্ববিদ্যালয় জীবন বলতে আমরা ভাবি এখানে হয়ত ক্লাস না করলেও চলে, এক্সাম একরকম দিলেই হয়, কিন্ত এই মিথ যে অবাস্তব তা শিক্ষার্থীরা টের পান ক্লাস শুরু করার কয়েকদিন পরেই।

প্রকৃতপক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস না করার চিন্তা ত মাথাই আনা যায় না এটেন্ডেন্সের ভয়ে। আবার অনেক বিভাগের ক্লাস প্রাইমারী স্কুল জীবনের সেই সকাল আটটা থেকেই শুরু হয়, এরপর আছে প্রেজেন্টেশন, ল্যাব, এসাইনমেন্টের যন্ত্রণা।

আর দেখা গেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে আটটার ক্লাসে থাকেন সবচেয়ে কঠিন স্যার। যিনি একটু বিলম্ব হলেই ক্লাশে ঢুকতে দেন না।   

বিশ্ববিদ্যালয়ে সকাল ৮ টায় ক্লাস, ভোগান্তির কারণ নাকি নাকি মজার কারণ? এ নিয়ে ক্যাম্পাসটাইমস বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীর নিকট মতামত জানতে চায়। 

বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া প্রায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীই সকাল ৮ টার ক্লাসের ব্যপারে করেছেন নেতিবাচক মন্তব্য। কারো কাছে এটা এক যন্ত্রণার নাম, কারো কাছে ঘুমের ব্যাঘাতের কারণ, এসব শিক্ষার্থীরা সকাল ৮ টার ক্লাশকে বিভীষিকাময় হিসেবে ভাবেন।

এর কারণ জানতে চাইলে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন যুক্তি প্রদর্শন করেন। তাদের অনেকের মতে রাত জেগে চ্যাট, ইউটিউবে ঘোরা এখন তরুণ প্রজন্মের কাছে ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। রাত জেগে ফেসবুকে চ্যাট কিংবা ইউটিউবে ঘোরার ফলে শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই রাত ৩ টা এমনকি ৪ টায় ঘুমোতে যান। যার প্রভাব পরে সকাল আটটার ক্লাস পড়ে। গড়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী আটটার ক্লাসে অনুপস্থিত থাকেন। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী আরাফাত ইয়াসীন বলেন, ''বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী যারা হলে থাকেনা তারা রাত জাগার কারনে সকালে আটটার ক্লাসে হাজির হতে পারেন না। ক্যাম্পাস থেকে দূরে থাকে তাদের জন্য সকাল আটটায় ক্লাশ করা অনেকটা কঠিন হয়ে দাড়ায়। বিশেষ করে যারা ঢাকা, চট্রগ্রাম সহ বড় বড় শহরে ট্রাফিক জ্যামে দূর থেকে আসা অনেক শিক্ষার্থী ক্লাশ মিস করে বসে। তার মতে, সকাল আটটায় ক্লাস ধরতে হলে পূর্বপ্রস্তুতি অনেক ভোর থেকে নিতে হয় যেটা সবার পক্ষে সম্ভব হয়না।'' 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসটাইমসকে বলেন, ''সকাল আটটায় ক্লাশের ফলে অনেক শিক্ষার্থী তন্দ্রাচ্ছন্নতার কারণে ক্লাশে অমনোযোগী থাকেন। যা সারাদিনের ক্লাশে প্রভাব বিস্তার করে।''

ঢাকার আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আহনাফ শাকিল বলেন, ''প্রায় দিনই এসাইনমেন্টের কাজ করতে হয়। এসাইনমেন্ট শেষ করতে অনেক শিক্ষার্থী রাত জাগেন। যার ফলশ্রুতিতে আটটায় ক্লাশ থাকলে প্রায় শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকেন, তার মতে সোশাল নেটওয়ার্কিং ও রাত জাগার অন্যতম কারণ।''

তবে অধিকাংশ শিক্ষার্থী সকাল আট টার ক্লাশ নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করলেও কেউ কেউ ইতিবাচক মন্তব্য ও করেছেন।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী আনিকা ফেরদৌসি বলেন, ''আটটার ক্লাস অবশ্যই ইতিবাচক কারণ
সকাল সকাল ক্লাস হলে মাইন্ড ফ্রেশ থাকে, পড়া বুঝা যায়! ক্লাস করতেও ভালো লাগে, Early to bed and Early to rise, এর প্রতিফলন ঘটে। অনেক শিক্ষার্থী গরমে সকালে ক্লাস করতে পছন্দ করেন, এজন্য তাদের মতে সকাল আট টায় ক্লাশ অতি ইতিবাচক।''

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিদিন যেমনিভাবে পর্যাপ্ত ঘুম প্রয়োজন, তেমনিভাবে রাত জাগা পরিহার করে সকাল সকাল উঠার স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস করে তোলাও প্রয়োজন বলে মনে করেন স্বাস্থ্যসচেতন এবং শিক্ষাবিদরা। 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কি শিক্ষার্থীদের সকাল আটটার কাস একটু পিছিয়ে তাদের আরো কিছু সময় বিশ্রামের জন্য দিবে? নাকি বিশ্ববিদ্যালয় এর শিক্ষার্থীরা রাত জাগা পরিহার করে প্রত্যুষে উঠার অভ্যাস রপ্ত করবেন তাই দেখার বিষয়। 

এদিকে, যমুনা টিভির এক টকশোতে ড জাফর ইকাবালকেও বলতে শুনা গেছে, ছাত্রজীবনে তিনিও ঘুমের যন্ত্রনায় সকাল আটটার ক্লাসে হাজির হতে পারতেন না। 

এমএসএল 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।