যদি ছাত্রজীবনে সময় বাঁচাতে চাও!


10minuteschool.com
Published: 2017-12-11 19:19:24 BdST | Updated: 2018-09-24 06:52:30 BdST

মনে করুন, কালকে আপনার একটা ক্লাস টেস্ট আছে কিন্তু পড়তে বসেই আপনার মনে হল যে, কোনো এক টিচার পরশু করতে দেয়া অ্যাসাইনমেন্ট, যার ডেডলাইন কালকে, সেটা এখনো করা হয়নি আপনার।

অথচ আপনি কালকে একটা গল্পের বই পড়ে শেষ করেছেন। বুঝতে পারছেন, আপনার সমস্যাটা কোন জায়গায়? জ্বী, টাইম ম্যানেজমেন্টে! ছাত্রজীবনে অনেক সময় আপনি অনেক পরিশ্রম করেও, কাঙ্ক্ষিত ফলটা পেতে পারেন না যার একটা মূল কারণ হতে পারে, সঠিক টাইম ম্যানেজমেন্টের অভাব। এই অভাবপূরণের ৭টা উপায়ই আজকে জানবো আমরা।

১। আপনার কী কী করতে হবে তার একটা তালিকা তৈরি করে ফেলুন

টাইম ম্যানেজমেন্টের জন্য শুরুতেই যেটার প্রয়োজন, তা হচ্ছে, আপনার যে জিনিষগুলো করতে হবে তা তালিকাবদ্ধ করে ফেলা। আমাদের একটা বাজে অভ্যাস হচ্ছে, জরুরী কাজগুলো আমরা সবসময় শেষ মুহুর্তের জন্য ফেলে রাখি এবং শেষে গিয়ে, কাজটা একদম মেস্ড‌ আপ হয়ে যায়।

অথচ, আরো একদিন আগে থেকে শুরু করলেই হয়ত, কাজটা সুন্দরমত শেষ হতে পারতো। তাই জরুরী কাজগুলোর একটা তালিকা এবং তা কবের মাঝে করতে হবে, এসব তালিকাবদ্ধ করে রাখাও আরেকটি জরুরী কাজ।

২। ক্যালেন্ডারের সদ্ব্যবহার করুন

আমরা অনেক সময়ই দেখব, আমাদের মায়েরা কবে কাকে বিল দিতে হবে, কবে থেকে বাসায় কার ঔষধ সেবন শুরু হয়েছে, কবে তা শেষ হবে, এসব ক্যালেন্ডারে মার্ক করে রাখে যে জিনিষটা আমাদেরও অনুসরণ করা উচিত।

দেয়ালে ঝোলানো ক্যালেন্ডার কিংবা ফোনের ক্যালেন্ডার কিংবা এ বিষয়ক কোনো মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, সুবিধামত যেকোনো কিছুতে, কোন দিন, কোন কাজটা করতে হবে, তা মার্ক করে রাখা উচিত এবং অবশ্যই তা যেন চোখের সামনে থাকে সে ব্যবস্থা করা উচিত।

৩। Schedule যেন বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং নমনীয় হয়

আমরা প্রতিদিন সকালে উঠেই হাজার রকমের কাজ আজ সারাদিন করব বলে চিন্তা করে ফেলি। কিন্তু বাস্তবে কিন্তু আমাদের সারাদিনে কাজ করার জন্য আমরা বেশি হলে ১২-১৪ ঘণ্টা এর বেশি পাই না।

এই যেমন, পরীক্ষার আগের দিন আমরা চিন্তা করি যে, ১২টা অধ্যায় ১২ ঘণ্টায় পড়ব কিন্তু বাস্তবে যা আর হয়ে উঠে না কারণ একটা কাজ আমরা যত সহজে চিন্তা করি, তাকে বাস্তবায়ন করা অত সহজ নয়। এতে কল্পনার চেয়ে সময়ও বেশি লাগে এবং কোনো মানুষের ক্ষেত্রেই একনাগাড়ে ১-২ ঘণ্টার বেশি মনোযোগ স্থির রাখা সম্ভব না।

আবার অনেক সময় হঠাৎ করেই অনেক নতুন কাজ এসে পড়ে যখন Schedule অনুসরণ করা আর সম্ভব হয় না। তাই Schedule যেন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় এবং প্রয়োজনে যে তাতে পরিবর্তন আনা যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

৪। কাজ করার আগে তাকে বোঝার এবং তা নিয়ে পরিকল্পনা করার সময় বরাদ্দ রাখতে হবে

আমরা অনেক সময়ই না বুঝে অনেক ক্লাস অ্যাসাইনমেন্টে হাত দিয়ে দেই এবং মাঝ পথে গিয়ে আটকে যাই অথবা দেখি যে, অ্যাসাইনমেন্টে শিক্ষক যা চেয়েছেন, আমরা তার বিপরীত কিছু করেছি।

"অন্য কারো ক্ষেত্রে একটা পন্থা যেভাবে কাজে দেয়, আপনার ক্ষেত্রে তা সেভাবে নাও দিতে পারে"

এতে করে অ্যাসাইনমেন্ট আবার শুরু থেকে করতে হয় যাতে করে অনেকখানি সময় নষ্ট হয়ে যায়। এরকম সময় অপচয় বন্ধ করার জন্য, যেকোনো কাজ শুরুর আগে সুন্দর করে বুঝে নিতে হবে। তাকে নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে এবং প্রয়োজনে বিকল্প পরিকল্পনাও রাখতে হবে।

৫। অলসতা এবং অমনোযোগিতা পরিহার করুন

আমরা অনেক সময়ই অলসতা এবং অমনোযোগিতার জন্য অনেক কাজে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় ব্যয় করি। সেক্ষেত্রে খুঁজে বের করতে হবে যে, কোন কারণে এই অলসতা আসছে এবং কোন জিনিষটার জন্য আমরা অমনোযোগী হচ্ছি। সেই ব্যাপারগুলো তৎক্ষণাৎ বাদ দিয়ে দিতে হবে।

মনে করুন, আপনি কোনো একটা মুভি ডাউনলোড করে রেখেছেন কিন্তু কাজের চাপে তা দেখতে পারছেন না অথচ ঐটার চিন্তায় কাজও ঠিকমত করতে পারছেন না। তখন পারলে, ২ ঘন্টার বিরতি নিয়ে মুভিটা দেখে আসুন। কারণ এভাবে কাজ করলে, আপনার কাজ ঠিকমত হবে না এবং প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় চলে যাবে।

অনেক সময় আমরা কাজ করার সময় অন্যের অবলম্বনকৃত পন্থা অনুসরণ করি। মনে রাখতে হবে যে, অন্য কারো ক্ষেত্রে একটা পন্থা যেভাবে কাজে দেয়, আপনার ক্ষেত্রে তা সেভাবে নাও দিতে পারে।

৬। কাজের ফাঁকে একটু ঘুরে আসুন

একনাগাড়ে কাজ করতে করতে মনোযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া অনেক স্বাভাবিক আর একবার মনোযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেই, যেকোনো কাজে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় ব্যয় করতে হয়। তাই কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেলে, একটু ঘুরে আসুন কিংবা কাজ পরিবর্তন করুন। এতে করে মনও পরিষ্কার থাকে।

৭। আপনার টাইম ম্যানেজমেন্ট কি সঠিক হচ্ছে?

উপরের সব কাজগুলো অনুসরণের পর, এক সপ্তাহ পর নিজেকে প্রশ্ন করুন, এক সপ্তাহ আগের আপনার এবং বর্তমান আপনার মাঝে কি কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে? উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তবে আপনি সঠিক দিকে আগাচ্ছেন। উত্তর না হলে, শিডিউলটা খুলে বসুন, এই এক সপ্তাহের কাজগুলো নিয়ে চিন্তা করুন, বের করুন, কোথায় ঘাটতি ছিল।

মানুষের জীবনে কাজ করা যেমন প্রয়োজনীয়, তেমনি প্রয়োজন বিশ্রাম এবং বিনোদনটাও। লক্ষ্য রাখতে হবে, যেন এই টাইমিং এর মাঝে পর্যাপ্ত ঘুম, বিনোদন এবং সামাজিকতা পালনের সময়ও থাকে।

সূত্র: 10minuteschool.com

টিআর/ ১২ ডিসেম্বর ২০১৭

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।