মোবাইলে বই লিখে ঢাবি ছাত্রের বাজিমাতঃ সাড়া ফেলেছে সানজাক ই উসমান


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2019-02-15 00:20:02 BdST | Updated: 2019-10-19 04:10:49 BdST

বিশ্বব্যাপী হালের ক্রেজ হল তুরস্কের বিখ্যাত অটোমান সাম্রাজ্য। বিশ্বের ৬০টিরও বেশি দেশে প্রচারিত দিরিলিস আরতুরুল, মুহতেসিম ইয়ুজেঈল(বাংলা সুলতান সুলেমান), পায়িতাহত আব্দুল হামিদ আর মেহমেদ বির জিহান ফাতেহির মত সুপারহিট মেগা সিরিয়ালগুলোর কল্যাণে সারা বিশ্বের মানুষের মাঝেই অটোমান সাম্রাজ্য নিয়ে আগ্রহ এখন তুঙ্গে। বাংলাদেশের দর্শকদের ইতোমধ্যেই সম্মোহিত করে ফেলেছে সুলতান সুলেমান আর দিরিলিস আরতুরুল।দুটোই অটোমান সাম্রাজ্যের ওপর নির্মিত ঐতিহাসিক সিরিয়াল। আর এই অটোমানদের নিয়েই মোবাইলে টাইপ করে প্রায় চারশো চল্লিশ পৃষ্ঠার এক বই লিখে ফেলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র প্রিন্স মুহাম্মাদ সজল। বইয়ের নাম সানজাক ই উসমানঃঅটোমানদের দুনিয়ায়।
বিষয়বস্তুঃ
বিশ্বকাপানো দিরিলিস আরতুরুল থেকে সুলতান সুলেমান, এর মাঝে কেটে গেছে তিন তিনটি শতাব্দী।
আরতুরুল বের ছোট্ট সেই জায়গীর থেকে কিভাবে উত্থান হল অটোমানদের?? কিভাবে এই তিনশো বছরে তারা ক্রমেই হয়ে উঠলো তিন মহাদেশের শাসক??
কি হয়েছিল চেঙ্গিজ খান আর কাউন্ট ড্রাকুলার শেষ পরিনতি??

এই প্রশ্নগুলোর জবাব নিয়ে এবারের বইমেলায় ধুমকেতুর মত আবির্ভাব ঘটেছে ইতিহাসের সম্পুর্ণ নতুন বয়ানে লেখা বই-সানজাক ই উসমানের।


‘সানজাক ই উসমান’ বইটি মূলত উসমানী সালতানাত তথা অটোমান সাম্রাজ্য নিয়ে লেখা হলেও, এই বই শুরু হয়েছে ইতিহাস কুখ্যাত মোঙ্গল সাম্রাজ্যের উত্থান নিয়ে। বইয়ের ভাষাতেই বলা যাকঃ

‘আপনি কয়জন সিরিয়াল কিলারকে চেনেন? জগতের ইতিহাসে ভয়ংকরতম খুনির সঙ্গে কি আপনার দেখা হয়েছে? এই বইটি আপনাকে তার সঙ্গে দেখা করিয়ে দিতে চলেছে। তাকে দেখতে হলে আমাদের উঁকি দিতে হবে ৮০০ বছর আগের পৃথিবীতে।

ত্রয়োদশ শতাব্দীর শুরুতেই মঙ্গোলিয়ান স্তেপ থেকে যেন স্বয়ং আজরাইল হয়ে নেমে এলেন চেঙ্গিস খান এবং তার মোঙ্গল বাহিনী। মাত্র ২০ বছরের ভেতর যেন নরকে পরিণত হলো সারা পৃথিবী। প্রথমে চীন তারপর তুর্কিস্তান, খোরাসান হয়ে মোঙ্গল ঝড় ধেয়ে এলো ককেশাস, আনাতোলিয়া দিয়ে রাশিয়া আর হিন্দুস্তানের দিকে। মরে সাফ হয়ে গেল কোটি কোটি মানুষ। মোঙ্গলদের হাত থেকে কোনোমতে প্রাণ বাঁচিয়ে ইরান-তুর্কিস্তান থেকে আনাতোলিয়ার দিকে রওনা দিল কিছু মানুষ।

তারপর কী হলো? কী করে তারা গড়ে তুলল বিশাল এক সালতানাত? মোঙ্গলদের হাত থেকে কারা বাঁচাল মক্কা-মদিনাকে?’

প্রিন্স মুহাম্মাদ সজল বলেন, ‘এটা কোনো নিয়মিত ইতিহাসের বই বা কোনো ঐতিহাসিক উপন্যাস নয়। এটা একই সঙ্গে ইতিহাস, ফিকশন আর থ্রিলার। আজকের পৃথিবী কী করে নির্মাণ হলো, তা জানতে এই বই আপনাকে দারুণ সহযোগিতা করবে।’

‘সানজাক ই উসমান’ প্রকাশিত হয় গত বছরের ১৯ এপ্রিল। এরপর সবাইকে অবাক করে দিয়ে মাত্র ১১ দিনের মাথায় শেষ হয়ে যায় প্রথম সংস্করণে বাজারে আনা এক হাজার কপি। ৪৩২ পৃষ্ঠার একটা ইতিহাসের বই কীভাবে এত দ্রুত শেষ হলো তাতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বইটির প্রকাশকও।

কুরবানীর ঈদের আগেই শেষ হয়ে যায় দ্বিতীয় সংস্করনের প্রথম ও দ্বিতীয় মুদ্রণ।

জানুয়ারী মাসের ২০ তারিখ বাজারে আসার পর ইতোমধ্যেই শেষ হওয়ার পথে রয়েছে বইটির তৃতীয় সংস্করন। একেবারেই নতুন একজন লেখকের বই এভাবে বিক্রি হতে থাকায় বিস্মিত হয়েছেন বইয়ের প্রকাশকও।

ইতোমধ্যেই বোদ্ধাদের নজর কেড়েছে বইটি।
বইটি নিয়ে বাংলাদেশ ইতিহাস পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান খান মন্তব্য করেছেনঃ

‘এটি কোনো সাধারণ ইতিহাসবিষয়ক গ্রন্থ নয়। তাই ইতিহাসবোদ্ধারা এতে ইতিহাসের প্রণালিসিদ্ধ রচনা পদ্ধতির আলোকে বিষয়বস্তু অনুসন্ধান করলে হতাশ হবেন। তবে সাধারণ পাঠকসহ ইতিহাসের পাঠক ও গবেষকের জন্য এ বইটি গুরুত্ব কম হবে না। কারণ, ইতিহাসের জ্ঞাত এবং বিশেষ করে অন্তরালে চাপা পড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলিকে পাদপ্রদীপের আলোয় আনার চেষ্টা রয়েছে বইটিতে। ইতিহাসের ছাত্র বা গবেষক না হয়েও ইতিহাসের প্রতি অনুরাগ থেকে লেখক আলোচ্য গ্রন্থটি রচনার যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। আমি তার এ দুঃসাহসী আন্তরিক প্রয়াসকে স্বাগত জানাই। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী, তরুণ লেখকের ব্যতিক্রমী রচনাটিই ইতিহাসের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গবেষক, ইতিহাস অনুরাগী ও সাধারণ পাঠকদের কাছে সমাদৃত হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুগোল ও পরিবেশ বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মাদ আব্দুর রব মন্তব্য করেছেনঃ 'আমি প্রথমে ভেবেছিলাম বইটি কোন প্রবীণ গবেষক সাহিত্যিকের লেখা, কিন্তু পরে আমি জেনে অবাক হই যে মাত্র চব্বিশ-পচিশ বছরের এক তরুণ এই বই লিখে ফেলেছে। সানজাক ই উসমান অভূতপূর্ব এক সৃষ্টি। ইতিহাসকে ঐতিহাসিক সত্যতা বজায় রেখে, গবেষকের নিষ্ঠা নিয়ে যথাযথ রেফারেন্স ব্যবহার করে আবার ঝানু ঐতিহাসিকের মত ফিকশনের ধাচে বর্ণনা করা সত্যিই চমকপ্রদ। সানজাক ই উসমানের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে ইতিহাস চর্চার এক নতুন ধারার সূচনা হল। বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের সাহিত্য এই বইটির মাধ্যমে আরো সমৃদ্ধ হবে। ইতিহাস সচেতন পাঠকদের পাশাপাশি চিরায়ত থ্রিলারের পাঠকরাও বইটিকে উপভোগ করবেন বলে আমার মনে হয়।
আমি বইটির উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি।'

সমর ইতিহাসবিদ ও হালের জনপ্রিয় লেখক,  বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেজর ও মিলিটারি স্টাফ কলেজের প্রশিক্ষক ডেল এইচ খানও 'সানজাক ই উসমানঃঅটোমানদের দুনিয়ায়' বইটির ব্যাপারে তার উচ্ছসিত অভিব্যক্তি প্রকাশ করে বলেছেনঃ
প্রুফ, এডিটিং, কাগজ, ছাপা, বাইন্ডিং মিলিয়ে দারুন একটি প্রকাশনা। ফিকশনের ধাঁচে সাজানো ইতিহাসের এটি এক চমৎকার উপস্থাপনা!! চেংগিস, তৈমুর, সুলতান মুহম্মদ, ইস্তাম্বুল জয়, ড্রাকুলা... সব মিলিয়ে দুর্দান্ত!!

ব্যাপকভাবে নন্দিত সানজাক ই উসমানঃঅটোমানদের দুনিয়ায় পাওয়া যাচ্ছে বইমেলায় মাতৃভাষা ল্রকাশনীর(স্টল নং-৪৭০) স্টলে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রের বাংলা সাহিত্যের অঙ্গনে এই চমক লাগানো আবির্ভাবে আনন্দিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও।