সাঈদ বাপ্পী’র তিনটি ছোটগল্প


সাঈদ বাপ্পী
Published: 2017-08-06 12:00:08 BdST | Updated: 2018-08-21 10:14:46 BdST

তমোজ্যোতি তমোময়

জোনাকি পাখিরা রাতে ঘুরতে বের হয়ছে। হয়তো কোন মধু চাঁকের মধু খাবে অথবা অন্য উপায়ে রাতে খাবার ব্যবস্থা করবে। শহরের পঁচা আবর্জনাতেও আজকাল ক্যামিকাল। সেই আবর্জনার ভেতর পড়ে থাকা বেলুনের উপর একটি মেয়ে জোনাকি এসে বসলো। রাতের খাবারের সন্ধান সে পেয়ে গেলো। খাবার খাওয়ার পর তার খুব ভালো লাগছে। শুধু রাত্রে তারা খেতে পারে, দিনে ঘরের ভেতর বন্ধি। এরপর ধীরে ধীরে তার শরীর গরম হতে শুরু করলো। বারবার তার বুকে হলুদ আলোটা জ্বলেছ আর নিভছে। হঠাৎ তার নাকে বেলী ফুলের গন্ধ ভেসে আসে। তার আর বুঝতে বাকি রইলোনা বাড়ির ভেতরে ফুলের বাগান আছে।

কিন্তু কিভাবে সে ফুলের বাগানে যাবে? এক একা যেতে তার ভয় করে অথচ বুকের হলুদ আলোটা বারবার জ্বলে উঠছে নিজস্ব নিয়মে।

এদিক-ওদিক তাকাতে দেখে, একটু দূরে ড্রেনের পাশে একজন যুবক জোনাকি সবুজ সংকেত দিচ্ছে। এ সংকেতের অর্থ বোঝা খুব কঠিন হয়ে পড়ে মেয়ে জোনাকি পাখিটির জন্য। সে ভাবে তার কাছে যাওয়া ঠিক হবে না। তবু সে বুকের আলো নেভাতে ছুটে যায় যুবক জোনাকির কাছে। সবুজ আর হলুদ আলো জ্বলে উঠলো ট্রাফিক সিগনালে। শহরের যানবাহনগুলো তখন দাঁড়িয়ে সম্মান জানালো জোনাকি পাখিদের সঙ্গমকে। সঙ্গম শেষে নিচে পড়ে থাকা গোলাপটি পুরুষ জোনাকিকে মৃত ঘোষণা করে। মেয়ে জোনাকি ধীরে ধীরে ঠাণ্ডা হয়ে যায় এবং পুরুষ জোনাকির কপালে এঁকে দেয় শতাব্দীর শেষ চুম্বন। মেয়ে জোনাকি চলে যায় বাগানের দিকে। এখন তার আর কোনো ভয় নেই।

মৃত পুরুষ জোনাকিকে এ-শহরে নিষিদ্ধ করা হলো। তার কবর এখানে দেওয়া যাবে না। রাজপথে পুরুষ জোনাকির লাশ নিয়ে মিছিল বের করলো প্রগতিশীল জোনাকিরা। সে মিছিলের শব্দ মেয়ে জোনাক বাগানে বসে শুনতে পায়। হুনুমানের দল তাদের সে-মিছিলকে ছত্রভঙ্গকরে দেয়। এ খবরও সে শুনেছে। তবু সে ঘরের ভেতের থাকে, বাইরে বের হতে তার মানা। কারণ সে ভিনদেশী।

বিচার----
একটি তেলাপোকা হত্যার দায়ে পিপীলিকে কারাগারে আটকে রাখা হলো। কারাগারের সারা দেয়াল জুড়ে সে কি যেনো খুজেঁ বেড়ায়। বাগানে তেলাপোকাকে মরে পড়ে থাকতে দেখে, সে তার কাছে গিয়েছিল তাকে বাঁচাতে অথচ সে নিজেই আসামী হয়ে বন্দী কারাগারে। তবু সে দেওয়ালে খুঁজতে থাকে হারিয়ে যাওয়া এক টুকরো চিনির দলা, যে কারণে সে তেলাপোকা হত্যা করেছে। কীভাবে সে তেলাপোকাকে হত্যা করেছে তা সে জানে না। শুধু এটুকু জানে যে, চিনির দলা মুখে নিয়ে সে ফিরছিলো জর্জ সাহেবের বাড়ি থেকে। বাগানের ভেতর দিয়ে আসার সময় তেলাপোকার নিচে চাপা পড়ে, তারপর তার আর কিছু মনে নেই। চোখ খুলে দেখে সে কারাগারে।

ওদিকে এক টুকরো চিনির আশায় হলুদ প্রজাপতি বসে আছে পিপীলিকার পথ হয়ে। আজ প্রজাপতির জন্মদিন।


জোড়া দুঃখ

আনুমানিক কয়টি মৃত্যু সংবাদ শোনার পর আমাদের মৃত্যু হয়? সে হিসাব দৈনিক সাংসারিক খাতায় লিখে রাখার প্রয়োজন বোধ করি না বিধায় আমরা মৃত্যুর থেকে মৃত্যু পরবর্তী জীবনের হিসাব নিয়ে বেশি চিন্তা করি।যার ফলে এসব মগজে গজিয়ে ওঠে এক অন্ধ বটো বৃক্ষ।এমনি এক বটো বৃক্ষের নিচে দাড়িয়ে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলাম।আমার পাশে দাড়িয়ে থাকা ফরমাল পোষাকের লোকটি তার পকট থেকে ফোনটি বের করে কথা বলতে শুরু। তার কথা শেষ হতে আমি তার দিকে তাকালাম,সে হেঁসে আমাকে প্রশ্ন করলো "আপনার বাবা আছে" আমি ঘাড় নাড়িয়ে হ্যা সুচক উত্তর দিলাম। এবার সে একটু শান্ত গলায় বল্লো" কিছুক্ষণ আগে আমারও বাবা ছিলো,এখন নেই,একটু আগে তিনি মারা গেছে"। আমি লোকটির দিকে তাকিয়ে রইলাম, সে একটি সিএনজি নিয়ে চলে গেলো।আর আমি শুধু আরও একটি মৃত্যু সংবাদের সাক্ষী হয়ে লোকাল বাসের প্রতিক্ষায়। আজ বাবা দ্বিতীয় মৃত্যু বার্ষিকী।

লেখক পরিচিতি
লেখক জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। শখের বশে গল্প, কবিতা লিখেন। পাশাপাশি কাজ করেছেন বেশ কয়েকটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচিত্র নিয়েও।

এমআর/ ০৬ আগস্ট ২০১৭

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।