ফেরা না ফেরার সময়ে


Dhaka
Published: 2020-03-30 18:16:10 BdST | Updated: 2020-07-08 13:35:25 BdST

প্রিয়তম, এই ফাগুনের পর আরেক ফাগুনে দেখা যদি না হয়!
তবে মনে রেখো-
এই সময়ে অযাচিত ভালবেসেছিলাম পৃথিবীর মতন।তোমাকে।
টিএসসি'র ফুলকুঁড়ানি রাব্বী তোমাদের লকডাউনের সময়ে কেমন আছে? কোথায় আছে?
কিংবা বন্ধ হয়ে যাওয়া গ্রাম্য চায়ের দোকানির নিত্যদিনের সংসার চালানোর ছন্দপতন!
এই সব অজানার মতই-
তুমিও কি চিরদিনের জন্য হয়ে যাবে আমার কাছে চির অচিন?
ঠিক যেমন আমেরিকা প্রবাসিনী তৃষা চির অজানায় পাড়ি জমালো তার তিনটি ফুটফুটে শিশুকে রেখে!

প্রিয়জন, আবার যদি দেখা না হয় তবে, সাক্ষ্য দিও।
ধরণীর সকল স্তরবিন্যাস এক বিন্দুতে কিভাবে মিলিত হয়েছিল?
সাক্ষ্য দিও, সারা বিশ্বের তামাম প্যাগোডা-মসজিদ-গির্জা-মন্দিরে একযোগে সমস্বরে একই প্রার্থনা কিভাবে উচ্চারিত হয়েছিল!
মহামারির এই কালে তোমার আমার দেখা হোক কিংবা না হোক!
আমরা যুগপৎ দেখেছিলাম-
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলমান ধর্মযুদ্ধের মানুষের ক্লান্ত পদচারণের পর বৈশ্বিক সম্প্রীতি!

প্রিয়ংবদা, যদি তোমার সুললিত কণ্ঠ আমার অশ্রবণ থেকে যায়।
তবে জেনে রেখো, মানুষের ভালবাসার জয়গান
আমার শ্রবণগোচর হয়েছিল-
নদীর ঢেউয়ের তালে রোদের ঝিকিমিকি ছন্দের মতো!
মানুষের ফেরি করা দুমুঠো অন্ন,
সহস্র বছরের তিমিরের কষাঘাতে জর্জরিত কপাট কিভাবে ভেঙে দেয়!
কিভাবে একই ল্যাবরেটরিতে হিন্দু-মুসলমান, চান্ডাল-ব্রাহ্মণ, আশরাফ-আতরাফের রক্তকণিকার মানদণ্ড নির্ধারণ হয়?

প্রিয়তা,
আবার যখন সব মেঘ কেটে রোদ উঠবে তোমার বারান্দায়। আবার যখন অমানিশা কেটে প্রবল জোছনায় ভরবে তোমার ভুবন।
তখন কি মনে থাকবে?
ভিখারির মতন একটু খেয়েপড়ে সামান্য বাঁচতে চেয়েছিলে!

লেখক : রকিবুল ইসলাম ঐতিহ্য - সদস্য : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ