অংকিত ভালোবাসা


Dhaka
Published: 2020-08-15 00:54:33 BdST | Updated: 2021-01-17 21:08:09 BdST

অভাগা মেয়েটির কপাল!
বাবা মারা যাওয়ার পর পরই মা পালিয়ে অন্য এক পুরুষকে বিয়ে করেন এরপর নানা বাড়িতেই বড় হয়েছে সে, দেখতে দেখতে বিয়ের বয়সও পেরিয়ে যাচ্ছে তার। এদিকে বাবা বেঁচে না থাকায় এবং মায়ের এমন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কথাটি জানতে পেরে অনেকেই বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসে অাবার পিছিয়ে পরেন। তাছাড়া নানা বাড়ির অার্থিক অবস্থাটাও তেমনটা সচ্ছল না দিলরুবা'র। তাই বর্তমান পেক্ষাপট বিবেচনায় টাকা পয়সা দিয়ে বিয়ে দেওয়াটাও বয়স্ক নানীর পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠছে না।

বেশ কয়েকমাস আগে চাচাতো এক মামা অল্পকিছু পঁয়সাকড়ি দিয়ে একটি ছেলের সাথে দিলরুবা'র বিয়ে ঠিক করলেও যৌতুক চাওয়ায় ঐ ছেলেকে বিয়ে করবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন সে। বাবা-মা হারা অপয়া মেয়েটি লেখাপড়ায় অত্যান্ত মনোযোগী তাইতো কোন অর্থকড়ি ছাড়াই সরকারি ভাবে বিনা খরচে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত লেখাপড়া শেষ করেছে সে।

দিলরুবা'র চিন্তায় চিন্তায় বৃদ্ধা নানীটির শারীরিক অবস্থায় দিনদিন খারাপের দিকে যাচ্ছে কোন কিছুতেই সেরে উঠতে পারছে না। এরইমধ্যে দিলরুবা একটা বেসরকারি এনজিওতে কিছুদিন ধরে কাজ করেছে, যোগ্যতা অনুযায়ী ফিল্ড লেবেলেই বেশিরভাগ সময় বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে কাজ করতে হয় তার। তাই কোন কোন দিন অফিসের কাজ শেষনকরে বাড়ি ফিরতে সন্ধ্যা লেগে যায়। সন্ধ্যায় বাড়িতে ফেরার সময় গ্রামের অশিক্ষিত লোকগুলো চায়ের অাড্ডায় বসে থেকে হা করে তাকিয়ে থাকে তারদিকে অার হাসাহাসি অাছেই। এদিকে বাড়িতে বৃদ্ধা নানীকে দেখাশোনা করার মতো কোন লোক না থাকায় চাকুরীটা অবশেষে ছাড়তে বাধ্য হয় দিলরুবা।

অপরদিকে কোভিড-১৯ এর লকডাউনে পুরোদস্তুর কোন কাজ না থাকায় অসহায় হয়ে পরে পুরো পরিবারটি। সরকার কর্তৃক যতোটুকু সাহায্য অাসে সেটুকু এলাকার চেয়ারম্যান, মেম্বারদের হাত ঘুরে পৌঁছাতে পৌঁছাতে অবশিষ্ট তেমন কিছু থাকে না। এরইমধ্যে লকডাউন শিথিল হওয়ায় হঠাৎ করে সেই চাচাতো মামা অাবারও একটি সম্বন্ধো নিয়ে অাসে দিলরুবা'র জন্য। এবার অার দিলরুবা না করতে পারলো না, ছেলেটি পাশের গ্রামের কালিমুউদ্দিনের একমাত্র পুত্র ফরিদ উদ্দিন, থাকে ইতালিতে। দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকায় লকডাউনের মাঝামঝি দেশে এসে পৌঁছেছে। লকডাউন শেষ হয়ে গেলেই অাবার বিদেশে পারি জমাবে।

ছেলেটি দেখতেও খুবই ভদ্র এছাড়া দীর্ঘদিন বিদেশ থাকায় অর্থকড়িও কামিয়েছে বেশ তাই মামা সবকিছু ঠিকঠাক করে বিয়ের দিন ধার্য্য করলেন। বিয়ের সানাই বাঁজলো দিলরুবার মনে কাজী সাহেবও খুব খুশি দীর্ঘদিন লকডাউনে থাকার পর নতুন করে শুভ কাজটি অাবারও শুরু করতে পারায়। কাজী সাহেব বকশিস পেয়ে মন ভরে দু-জনের জন্য হাত তুলে দোয়া করতে লাগলেন। বিয়ের অানুষ্ঠানিকতা শেষ হবার পর জামাই বউ যখন ঘরে ঢুকবে ঠিক সেই মুহুর্তে বাড়িতে পুলিশ এসে হাজির। পুলিশের উপস্থিতিতে চারিদিকে হৈচৈ শুরু হয়ে গেলো ঘরের ভিতর থেকে দিলরুবা ছোট্ট করে অাওয়াজ পেলেন স্বামী ফরিদ করোনায় অাক্রান্ত, তাকে এক্ষুনি হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে।

দিলরুবা চিৎকার দিয়ে মেহেদী রাঙ্গা হাতদুটিকে খাটের সাথে রক্তাক্ত করে ফেললো। সবাই এসে তাকে শান্তনা দেবার চেষ্টা করলেন, অবশেষে শ্বপ্ন পুরনের অপেক্ষায় সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে লাগলেন দিলরুবা।সকাল হলেই খবর ছড়িয়ে পড়লো ফরিদ অার নেই.... হার্টঅ্যাটাকে মারা গেছে। দিলরুবা'র শ্বশুর বাড়ি যাবার শ্বপ্ন শ্বপ্নই রয়ে গেলো, হৃদয়ে অংকিত হলো ভালোবাসার পরাজয়।

লেখক: মোঃ মনির হোসেন।