আলোচনায় ‘সানজাক ই উসমান: অটোমানদের দুনিয়ায়’


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2018-05-04 18:24:29 BdST | Updated: 2018-12-15 09:39:34 BdST

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড সায়েন্স-এর ছাত্র প্রিন্স মুহাম্মাদ সজলমোবাইলে টাইপ করেই লিখে ফেলেছেন চার শ বত্রিশ পৃষ্ঠার এক চমৎকার বই, নাম সানজাক ই উসমানঃঅটোমানদের দুনিয়ায়।

ইতিমধ্যেই বইটি অনলাইনে ও পাঠকসমাজে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের মুখে মুখে এখন সানজাক ই উসমানের নাম। বইটি প্রকাশ করেছে গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্স।

সানজাক ই উসমান বইটি মূলত উসমানী সালতানাত তথা অটোমান সাম্রাজ্য নিয়ে লেখা হলেও এই বই শুরু হয়েছে ইতিহাসকুখ্যাত মোঙ্গল সাম্রাজ্যের উত্থান নিয়ে। বইয়ের ভাষাতেই বলা যাকঃ

‘আপনি কয়জন সিরিয়াল কিলারকে চেনেন? জগতের ইতিহাসে ভয়ংকরতম খুনীর সাথে কি আপনার দেখা হয়েছে? বইয়ের নাম 'সানজাক ই উসমানঃ অটোমানদের দুনিয়ায়'। এই বইটি আপনাকে তার সাথে দেখা করিয়ে দিতে চলেছে। তাকে দেখতে হলে আমাদের উঁকি দিতে হবে আট শ বছর আগের পৃথিবীতে।

ত্রয়োদশ শতাব্দির শুরুতেই মঙ্গোলিয়ান স্তেপ থেকে যেন স্বয়ং আজরাঈল হয়ে নেমে এলেন চেঙ্গিজ খান এবং তার মোঙ্গল বাহিনী। মাত্র কুড়ি বছরের ভেতর যেন নরকে পরিণত হলো সারা পৃথিবী। প্রথমে চীন তারপর তুর্কিস্থান, খোরাসান হয়ে মোঙ্গল ঝড় ধেয়ে এল ককেশাস, আনাতোলিয়া দিয়ে রাশিয়া আর হিন্দুস্থানের দিকে। মরে সাফ হয়ে গেল কোটি কোটি মানুষ। মোঙ্গলদের হাত থেকে কোনোমতে প্রাণ বাঁচিয়ে ইরান-তুর্কিস্থান থেকে আনাতোলিয়ার দিকে রওনা দিল কিছু মানুষ।

তারপর কী হলো? কী করে তারা গড়ে তুলল বিশাল এক সালতানাত? মোঙ্গলদের হাত থেকে কারা বাঁচালো মক্কা-মদীনাকে?’

প্রিন্স মুহাম্মাদ সজল বলেন, এটা কোনো নিয়মিত ইতিহাসের বই বা কোনো ঐতিহাসিক উপন্যাস নয়। এটা একই সাথে ইতিহাস, ফিকশন আর থ্রিলার। আজকের পৃথিবী কী করে নির্মাণ হলো, তা জানতে এই বই আপনাকে দারুণ সহযোগিতা করবে।

সানজাক ই উসমান প্রকাশিত হয় গত ১৯শে এপ্রিল, এরপর সবাইকে অবাক করে দিয়ে মাত্র ১১ দিনের মাথায় শেষ হয়ে যায় প্রথম সংস্করনে বাজারে আনা এক হাজার কপি।চার শ বত্রিশ পৃষ্ঠার একটা ইতিহাসের বই কিভাবে এত দ্রুত শেষ হল তাতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বইটির প্রকাশকও।

বই

বইটি নিয়ে বাংলাদেশ ইতিহাস পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান খান মন্তব্য করেছেনঃ এটি কোনো সাধারণ ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থ নয়। তাই ইতিহাস বোদ্ধারা এতে ইতিহাসের প্রণালি সিদ্ধ রচনা পদ্ধতির আলোকে বিষয়বস্তু অনুসন্ধান করলে হতাশ হবেন। তবে সাধারণ পাঠকসহ ইতিহাসের পাঠক ও গবেষকের জন্য এ বইটি গুরুত্ব কম হবেনা। কারণ, ইতিহাসের জ্ঞাত এবং বিশেষ করে অন্তরালে চাপা পড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলীকে পাদপ্রদীপের আলোয় আনার চেষ্টা রয়েছে বইটিতে। ইতিহাসের ছাত্রবা গবেষক না হয়েও ইতিহাসের প্রতি অনুরাগ থেকে লেখক আলোচ্য গ্রন্থটি রচনার যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। আমি তাঁর এ দুঃসাহসী আন্তরিক প্রয়াসকে স্বাগত জানাই। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী, তরুণ লেখকের ব্যতিক্রমী রচনাটি ইতিহাসের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গবেষক, ইতিহাস অনুরাগী ও সাধারণ পাঠকদের কাছে সমাদৃত হবে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা গেছে বইটির দ্বিতীয় সংস্করণ বাজারে আসছে আগামী ৭ই মে। 

বিদিবিএস 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।