দক্ষিণ এশিয়ায় সেরাদের তালিকায় বিএসএমএমইউ: উপাচার্য


টাইমস প্রতিবেদক
Published: 2018-02-17 17:53:32 BdST | Updated: 2018-12-10 09:26:41 BdST

বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে গত বছরের দক্ষিণ এশিয়ায় সেরাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। মানসম্মত চিকিৎসা এবং গবেষণার দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার মেডিকেল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের অবস্থান দ্বিতীয় বলে জানানো হয়েছে।

শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কামরুল ইসলাম খান। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সমাবর্তনকে সামনে রেখে এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সেদিন বেলা তিনটায় কেবিন ব্লকের মাঠে এই সমাবর্তন হবে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

এক হাজার ২০২ জন উচ্চতর ডিগ্রি অজর্নকারী চিকিৎসক সমাবর্তনে অংশ নিয়ে তাদের সনদ নেবেন। এদের মধ্যে মেডিসিন অনুষদে ৩৪১ জন, সার্জারি অনুষদে ৩৮৮ জন, বেসিক সায়েন্স ও প্যারাক্লিনিক সায়েন্স অনুষদে ২৪১ জন, ডেন্টাল অনুষদে ৫০ জন, প্রিভেন্টিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিন অনুষদে ১৪০ জন উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনকারী চিকিৎসক এবং নার্সিং অনুষদে ৪২ জন ডিগ্রিধারী নার্স তাদের সনদ নেবেন। ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬০১ জন ছাত্র এবং ৬০১ জন ছাত্রী।

বর্তমানে মানুষের চিকিৎসা ও উচ্চ মেডিকেল শিক্ষার ভরসাস্থল এই প্রতিষ্ঠানটি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর ১৯৯৮ সালের ৩০ এপ্রিল পিজি হাসপাতালকে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির নামরণ করা হয় বঙ্গবন্ধুর নামে।

কামরুল ইসলাম খান বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্বদ্যিালয়ে বর্তমানে ৪২টি অধিভুক্তি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এখানে উচ্চতর কোর্সের সংখ্যা ৯৫টি। এর মধ্যে আবাসিক ৬২টি, অনাবাসিক ৩০টি, বিএসসি নাসিং একটি এবং মাস্টার অফ সায়েন্স ইন নাসিং একটি এবং পিএইডি একটি।

বর্তমানে এখানে প্রতি বছর দুই হাজার ২৭৪ জন ছাত্র ছাত্রী ভর্তি হয়। এর মধ্যে এক হাজার ৯৯ জন আবাসিক শিক্ষার্থী এবং এক হাজার ১৭৫ জন অনাবাসিক শিক্ষার্থী রয়েছে।


বিএসএমএমইউয়ে ৯৫টি পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কোর্স পরিচালনা করা হচ্ছে। চালু হয়েছে এমএসসি নাসিং কোর্স, বাংলাদেশের ছাত্র ছাত্রীদের বাইরেও প্রায় তিনশ বিদেশি ছাত্র বিভিন্ন কোর্সে লেখাপড়া করছেন।
বিএসএমএমইউয়ের উপাচার্য জানান, প্রতিদিন বর্হির্বিভাগে প্রায় আট হাজার রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন এখান থেকে। বিভিন্ন ইউনিটসহ ৫২টি পুর্ণাঙ্গ বিভাগ রয়েছে আরো সুশৃঙ্খল এবং ডিজিটাল করা হয়েছে আর্থিক ব্যবস্থাপনা।

‘আমাদের হাসপাতালে এখন সমাজের সর্বস্তরের মানুষ ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রী, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্র্মকর্তাবৃন্দ, সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা এখানে প্রতিনিয়ত চিকিৎসা নিচ্ছেন।’
রোগীদের উন্নত চিকিৎসা দিতে এখানে শিশু নিউরোলজি, শিশু কার্ডিয়াওলজি, প্যালিয়েটিভ কেয়ার মেডিসিন, রেপপিরেটরি মেডিসিন, পেডোডনটিক্স বিভাগ এবং জেরিয়াট্রকি মেডিসিন ইউনিট রয়েছে।

এছাড়া সার্জিক্যাল অনকোলজি, কলোরেক্টাল সার্জারি, হেপাটোবিলিয়ারি অ্যান্ড প্যানক্রিয়েটিক সার্জারি গাইনোকলোজিক্যাল অনকোলজি, রিপ্রোডাকটিভ এন্ডোক্রাইনোলজি ল্যান্ড ইনফার্টিলিটি এবং ফিটোম্যার্টার্নাল মেডিসিন নামে আরও ছয়টি বিভাগ খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অনুমোদিত হয়েছে নতুন শিশুরোগ অনুষদ। এই হাসপাতালে ৫১৭ টি কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

মেডিকেল শিক্ষা ব্যবস্থায় গবেষণাকে জোরদার করার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা কেন্দ্র।

প্রতিবন্ধী শিশুদের সঠিকভাবে বেড়ে ওঠাকে সহজ করতে ইনস্টিটিউট অব পেডিয়াট্রিক নিউরোডিজ অর্ডার অ্যান্ড অটিজম (ইপনা) স্থাপনের বিষয়টিও অনুমোদিত হয়েছে। চালু হয়েছে ২৪ ঘণ্টা ল্যাবরেটরি সেবা।

বিএসএমএমইউয়ের উপাচার্য জানান, শিক্ষা, সেবাসহ সকল পর্যায়ের মান উন্নয়নের জন্য চালু করা হয়েছে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি)। শিক্ষক, কনসালট্যান্ট, কর্মকর্তা ও নার্সদের জন্য আয়োজন করা হয়েছে প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা।

বিশ্ববিদ্যালয় জার্নাল এখন নিয়মিত প্রকাশ করা হচ্ছে। গত তিন বছরে এক হাজারের গবেষণা হয়েছে। প্রথমবারের মত উদযাপিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা দিবস।

গত তিন বছরে ১০৮ জন শিক্ষক এবং ৮০৭ জন ছাত্রকে গবেষণা অনুদান দেয়া হয়েছে। বিশে্বর বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

উপাচার্য জানান, চিকিৎসা সেবা আরও বিস্তৃত করতে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারে সহযোগিতায় এক হাজার শয্যার ‘সুপার স্পেশলাইজড’ হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে।

আগামী ৫০ বছরের পরিকল্পনা মাথায় রেখে একটি মহাপরিকল্পনা নিয়ে চলছে সকল উন্নয়ন কার্যক্রম। অচিরেই যুক্ত হতে যাচ্ছে ইমার্জেন্সি সার্ভিস, ওয়ানস্টপ পয়েন্ট চেকআপ সেন্টার, ডে কেয়ার সেন্টার, বোনমেরো ট্রান্সপ্লানটেশন, ই-টিকিটিং সর্বক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতি।

প্রতিদিন এখানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, ওয়ার্কশপ দেশি-বিদেশি চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের উপস্থিতিতে।

এসএম/ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।