ইলিশের স্যুপ ও নুডলস উদ্ভাবন


শাহরিয়ার আমিন
Published: 2017-10-18 12:25:20 BdST | Updated: 2019-09-15 23:21:16 BdST

ইলিশ একটি সুস্বাদু ও জনপ্রিয় মাছ। ইলিশের পুষ্টিগূণ পৃথিবীর যেকোন উৎকৃষ্ট মাছের সমতূল্য অথবা তার চেয়ে বেশি। একই সাথে এটি অধিক আমিষ ও চর্বির মাছ। ইলিশের অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড বাতাসের সংস্পর্শে সহজেই জারিত হয়ে দূগর্ন্ধযুক্ত পার অক্সাইড উৎপন্ন করে। লোনা ইলিশ ছাড়া অন্য ইলিশকে সহজে সংরক্ষণ যায় না বলে বর্ষাকাল ছাড়া বছরের অন্যান্য সময়ে এই মাছ সাধারণ মানুষ খুব বেশি খেতে পায় না।

সম্প্রতি ইলিশ সারাবছর ঘরে রেখে সস্তা ও অবিকল স্বাদের কাঁটাবিহীন পণ্য উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. এ কে এম নওশাদ আলম।

প্রায় দেড় বছরের নিরলস প্রচেষ্টায় তিনি এবং তার গবেষণা টিম ইলিশ মাছের গন্ধ ও স্বাদকে অপরিবর্তিত রেখে ইলিশের স্যুপ ও নুডলস তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।

ইলিশের চর্বিতে বিদ্যমান ওমেগা-৩ অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড মানুষের রক্তে কোলেস্টেরোলের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে মানুষের দেহে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।

পণ্য হিসেবে ইলিশের আমিষ, অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড, অন্যান্য পুষ্টি উপাদান ও ভিটামিনের কোন ঘাটতি না ঘটিয়ে মাছের কিমা, মাথা, নাড়ি-ভুড়ি ও ডিম থেকে আলাদা আলাদা ভাবে ফ্রিজে সংরক্ষণযোগ্য ছোট আকৃতির কিউব বা ব্লক তৈরি করা হয়েছে। একটি কিউবে ১ জনের গ্রহণ উপযোগী ৭০ গ্রাম নুডল্স অথবা ১৩০ মি.লি স্যুপ তৈরি করা যায়।

ওয়ার্ল্ড ফিস সেন্টারের ইকোফিস প্রকল্প ইলিশ পণ্য উদ্ভাবন ও বাজারজাতকরণ গবেষণায় আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে। ভারগো ফিশ অ্যান্ড এগ্রো-প্রসেস লিমিটেড এর মাধ্যমেই শীঘ্রই স্যুপ ও নুডলস দেশব্যাপী বাজারজাত করা হবে বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক ড. এ কে এম নওশাদ আলম।

এসজে/ ১৮ অক্টোবর ২০১৭

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।