দেয়াল লিখনে নষ্ট হচ্ছে বাকৃবির সৌন্দর্য


শাহরিয়ার আমিন
Published: 2017-10-26 04:55:30 BdST | Updated: 2019-09-15 23:17:18 BdST

বিভিন্ন অনুষদের করিডোরে, শিক্ষার্থীদের হলের প্রবেশমুখে দেওয়াল লিখন ও পোস্টারের কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) সৌন্দর্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অশালীন পোস্টার ও লিখনের ফলে ক্রমাগত অধোমুখী সাংস্কৃতিক মানকে প্রতিফলিত করছে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনের দেয়ালে লেখা রয়েছে ‘এখানে পোস্টার লাগানো নিষেধ’। তারপরও নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই বিভিন্ন পোস্টার লাগানো হয়েছে। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেও কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি।

সম্প্রতি শহীদ শামসুল হক হলের ফ্লোর ফিষ্টকে কেন্দ্র করে কিছু উশৃঙ্খল শিক্ষার্থী রাতের বেলায় বেগম রোকেয়া হলের গেইট ও দেয়ালে অশ্লীন আলপনা আঁকে। এ নিয়ে ক্যাম্পাসে সবার মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। কিন্তু ছাত্রনেতাদের ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলছে না। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অনেকেই পক্ষে বিপক্ষে মতামত দিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সামিহা আজাদ লিখেছেন,‘কোনো রুচিশীল মানুষের কাজ এমন হয়না। হলের গেইট হয়েছে ৬ মাসও হয়নি। প্রতিটা লেডিস হল, ফ্যাকাল্টি সব জায়গায় একই অবস্থা। কয়দিন পর ভর্তি পরীক্ষা, ভালোই তো বাইরের লোকজন এসে দেখে যাবে আমরা আসলেই কি কি পারি!’

আরেক শিক্ষার্থী রায় চোধুরী অনিরুদ্ধ লিখেছেন,‘কেন করেছে? কারা করেছে? ছোটরা করেছে না বড়রা করেছে? তাদের রুচি কি? তাদের পারিবারিক শিক্ষা কি এসব নিয়ে বলতে চাই না। ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির দেয়ালে যখন ফিস্টের নামে উদাত্ত আহবান লেখা থাকে যে ‘মেয়েরা এসো চলে, দরজা আছে খোলা’। তখন নিজের প্রতি লজ্জা হয়, কারণ আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী।’

আশেয়া আক্তার লিখেছেন, ‘আয়োডিন যুক্ত লবণের অভাব ছিল মনে হয় যাই হোক, এইসব মস্তিষ্ক বিকৃত পোলাপানের পিছনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অযথাই টাকা খরচ করে তাদের ডিগ্রী দিচ্ছে, আগে এদের আদবকায়দা শেখানো উচিৎ। প্রশাসন চাইলেই কারা এই কাজ করছে বের করতে পারবে, কিন্তু তাদের এত সময় কোথায়!’

নাজমুল হক শাহিন লিখেছেন,‘প্রথম শ্রেণীর মানুষ যে সব ছাত্ররা হবে তাদের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ লজ্জাজনক। তাদের বিশ্ববিদ্যালয় শব্দের মর্ম জানা নেই। তাদের কে হুশিয়ারি বার্তা নিজেরা নিজের মুখে কালি মাখছেন। নিজেদের অবস্থান নিজেরা ধরে রাখুন। আপনারা নিজেরা নিজেদের সামাজিক অবস্থান নষ্ট করছেন। সময় আছে বিবেকবান হন।’

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ‘দেয়াললিখন ও পোস্টার লাগানো (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১২’ পাস করা হয়। আইন থাকলেও কার্যকারিতা নেই এসব নিয়ন্ত্রণে। ফলে দেয়াল লিখন ও পোস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বিনষ্টে স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে।‘দেয়াল লিখন ও পোস্টার লাগানো (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১২’এর প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রদর্শন করে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল থেকেও দেয়াল লিখন ও পোস্টার সাঁটানোর প্রতিযোগিতায় দেখা যাচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান এমনকি বাদ যায়নি বিদ্যুতের খুঁটি, ল্যাম্পপোস্ট, রাস্তার পার্শ্ববর্তী গাছগুলোও। গাছের ওপর পেরেক ঠুকে সেঁটে দেয়া হয়েছে বিভিন্ন সাইনবোর্ড। যদিও এটাকে ‘দন্ডনীয় অপরাধ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আইনটির ৩ ও ৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী সরকার নির্ধারিত স্থান ছাড়া দেয়ালে লিখলে কিংবা পোস্টার লাগালে সেটি দন্ডনীয় অপরাধ। কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে ওই ধারা অনুযায়ী নূন্যতম পাঁচ হাজার টাকা এবং অনূর্ধ্ব ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করবে, অনাদায়ে অনধিক ১৫ দিন পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদন্ড দেয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিজ খরচে দেয়াল লিখন বা ক্ষেত্রমতে পোস্টার মুছে ফেলা কিংবা অপসারণের আদেশ দেয়া যাবে। তবে এসব কথা শুধুমাত্র কাগজেই সীমাবদ্ধ।

এবিষয়ে কৃষি অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর ড. হুমায়ূন কবির ক্যাম্পাস টাইমসকে বলেন,‘গতকাল রাতে (মঙ্গলবার) ছেলেদের চিল্লাচিল্লাতে আমার ঘুম হয়নি। এদের শিক্ষক হওয়াটাও লজ্জার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হোক। এদেরকে চিহ্নিত করে শাস্তি দেয়া উচিত।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান খোকন ক্যাম্পাস টাইমসকে বলেন,‘যারা এই ধরনের কাজ করেছে তাদেরকে অবহিত করেছি। তাদের দ্বারা আমরা লেখনীগুলো মুছে ফেলানোর ব্যবস্থা করব। পরবর্তীতে কেউ এই ধরনের কাজ করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এমএস/ টিআই/ ২৬ অক্টোবর ২০১৭

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।