কেন আমরা এতটা গুজবপ্রিয়?


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2018-08-13 20:27:31 BdST | Updated: 2018-09-26 00:04:31 BdST

একথা সত্যি যে, দেশের বেশিরভাগ মানুষই কমবেশি গুজবে কান দিয়েছেন, কিন্তু তাদের মধ্যে খুব কম লোকেরই উদ্দেশ্য ছিল মিথ্যাচারিতা। সত্যে উপনীত হওয়ার চেষ্টা থেকেই তারা গুজবের আশ্রয় নিয়েছেন। এর সুযোগ নিয়েছে ছাগুরা এবং ক্ষমতালোভী রাজনীতিবিদরা। যে দেশে সত্যকে ধামাচাপা দেওয়ার সংস্কৃতি চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে, যে দেশে কেউ মুখ খুলতে গেলেই তার মুখে কুকুরের মতো মাউথগার্ড পরিয়ে দেওয়া হয়, সেই দেশে গুজব রটবে ফাটবে ফাটাবে সেটাই কি স্বাভাবিক নয়? আকাশ কুয়াশাচ্ছন্ন থাকলে মানুষ অনুমানের আশ্রয় নেবেই, তার ওপর যদি সেই অনুমানকে উসকে দিতে উপস্থিত হয় নানান রকম স্থির-অস্থির অডিও-ভিডিও, মানুষ তখন কী করবে? তা ছাড়া যদি সরকারের ওপর মানুষের আস্থা থাকলে গুজবগুলো এতটা সফল হতো বলে আমার মনে হয় না।

আমার একজন বন্ধু এই পরিস্থিতির একটা সুন্দর ব্যাখ্যা দিয়েছেন-‘গুজব হলো ব্ল্যাক মার্কেট, যখন হোয়াইট মার্কেট কাজ করে না তখনোই এই মার্কেট সক্রিয় হয়। সাত দিন ধরে যখন ছাত্ররা মন্ত্রী/বিচারক/নির্বাচন কমিশনের লাইসেন্সবিহীন গাড়ি আটকে দিচ্ছিল, তখন ‘হোয়াইট মার্কেট’-এর উচিত ছিল সঠিক খবর সততার সঙ্গে পরিবেশন করে জনগণকে সচেতন রাখা। প্রকৃতপক্ষে সচেতন জনগণ কখনোই গুজবে কান দিত না।’

এ দেশের মানুষ একটা ভয়ভীতির পরিবেশে বেড়ে ওঠে। সন্ত্রাসীদের ভয় পেতে হয়, বিরোধী দলকে ভয় পেতে হয়, মোল্লাদের ভয় পেতে হয়, সরকারকে ভয় পেতে হয়। ভয় থেকেই গুজব জন্ম নেয়, ভীতু মানুষরাই গুজবে বিশ্বাস করে। সেদিন যখন রটে গেল কয়েকটা বাচ্চা খুন হয়েছে এবং কয়েকটা মেয়ে ধর্ষিত হয়েছে আমি নিজেও ভীষণ ভয় পেয়েছিলাম কারণ আমি জানি আমার দেশে এটা ঘটতেই পারে। ঘটনাটা মিথ্যা হতেই পারে, কিন্তু যদি সত্য হয়, যদি অন্য বাচ্চারা বিপদে থাকে? আমি স্থির থাকতে পারছিলাম না। যদি জানতাম আমার দেশের পুলিশ বাচ্চাদের পাশে এসে দাঁড়াবেই তবে আমি এতটা উতলা হতাম না। আমি দেখেছি কী নির্দয়ভাবে পুলিশ পিটিয়েছে বাচ্চাদের কদিন আগেও। কার ওপর ভরসা করে স্থির থাকব আমরা বলতে পারেন?

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।