মাটি ও মানুষের প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাগতম


মাহমুদুল হাসান
Published: 2018-08-31 21:44:10 BdST | Updated: 2018-12-12 05:47:33 BdST

রাত পোহালেই বিশ্বের অন্যতম সেরা রাষ্ট্রপ্রধান, প্রতিটি পদক্ষেপে যিনি সফলতায় সিদ্ধহস্ত, গণতন্ত্রের মানসকন্যা, বাঙলা ও বাঙালীর ভাগ্যোন্নয়নে দিনরাত পরিশ্রম করা এক মহীয়সী নারী, পরিবারের সবাইকে হারিয়ে যিনি বাঙলা ও বাঙালার মানুষের জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন, বাঙলীর মহান পুরুষ, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী বাঙলার স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য তনয়া মানবতার মা, জাননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্পন করবেন।

রোকেয়া হলের ১১তলা বিশিষ্ট ৭ মার্চ ভবন উদ্বোধন করতে শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসবেন তাই সেজেছে রোকেয়া হল। তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী, যে হলে তিনি থাকতেন সেই হলে আসবেন। একজন সফল এবং ভিশনারী নেতা আসবেন; বর্ণিল সাজে যদি নাই সাজে তবে সেটা বেমানান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ আনন্দ বিরাজ করছে। যিনি এই দেশের দায়িত্ব পেলে দেশটা যেন সাপ লুডুর সিড়ি পেয়ে যায় সকল ব্যার্থতা পিছে ফেলে উপরে উঠে যায়। এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যার সম্পর্ক সবচেয়ে বেশি। তাইতো তিনি যতবারই ক্ষমতায় এসেছেন ততবারই এই বিশ্ববিদ্যালয়কে দিয়েছেন দুহাত ভরে।

বিগত সব সরকার ঢাবিকে যা দিয়েছে তার চেয়ে বেশি গত দশবছরে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে তিনি দিয়েছেন। বিজয় একাত্তর হল, সুফিয়া কামাল হল, বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকেন্ড ক্যাম্পাস, কক্সবাজারে বর্ধিত ক্যম্পাস, চতুর্থ শ্রেণীর জন্য টাওয়ার নির্মাণ, অফিসারদের জন্য বঙ্গবন্ধু টাওয়ার, শিক্ষকদের জন্য সুউচ্চ ভবন নিমার্ণ, প্রভোস্ট কমপ্লেক্স, গণিত ভবন, সামজিক বিজ্ঞান ভবনসহ শত শত উন্নয়ন তার উপহার।

সর্বশেষ মেয়েদের আবাসন সংকট নিরসনে নির্মিত হয়েছে ৭ মার্চ ভবন। আর এই ভবন উদ্বোধন করতে তিনি আসছেন আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এছাড়াও আরো অনেকগুলো প্রকল্প পাস হওয়ার পথে রয়েছে। 

এই ঢাবির প্রতিটি কণা তাকে চিনে। প্রতিটি পুরোনো দেয়ালের তাঁর কণ্ঠ পরিচিত। আন্দোলন সংগ্রামের দিনেগুলোতে তো এই ক্যাম্পাসেই তিনি কাটিয়েছেন। এই ক্যাম্পাসে তিনি আসবেন। তাকে স্বাগতম জানাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আজ সেজেছে। তাকে গ্রহণ করতে আজ ঢাবির প্রতিটি দেয়াল অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় রয়েছে।

এই মহীয়সী নারীকে স্বাগতম জানাতে কতনা আয়োজন আজ। হয়তো দেয়ালে দেয়ালে কথা হয় এমন এই সেই শেখ হাসিনা যার সুখ দুঃখ হাসি কান্নার স্বাক্ষী ছিলাম আমরা। স্লোগনে স্লাগানে মুখরিত করেছিলো আমাদের প্রাঙন। এ তো আমাদের লোক, এরে আমরা ভালোবাসি সেই স্বাধীকার সময় থেকে। কখন আসবে একটু দেখার আগ্রহে দেয়াল তার অপেক্ষা দীর্ঘায়িত করতে চায়না।

দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে আজ লিখতে হচ্ছে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এই ঢাবিতে আসার কথা ছিলো জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের । কিন্তু ঘাতকরা এই বিশ্ববিদ্যালয়কে ধন্য হতে দেয়নি। কিন্তু আগামীকাল আসবেন তাঁর সুযোগ্য কন্যা । সুখের দিনেও সেই দিনের কথা মনে করে আজ মন খারাপ হয়ে যায় আমাদের। আমরা যদি পিতাকে না হারাতাম তবে আমাদের অন্য কোনো দেশকে উদাহরণ দিতে হতোনা। উদাহরণ হতো বাংলাদেশ, শেখ মুজিব আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বুনো ঘাতকরা এই তিনটি শব্দকে অবরুদ্ধ করেছিলো। হত্যা করতে চেয়েছিলো। কিন্তু পারেনি। আজ বাংলাদেশ মাথা তুলে দাড়িয়েছে, জীবীত মুজিবের চেয়ে মৃত মুজিব বেশি শক্তিশালী হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পুরোনো যৌবন ফিরে পেয়েছে।

আর এ সবকিছুর সিংহভাগ অবদান দেশরত্ন শেখ হাসিনার । তিনি আসবেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাজবেনা তা কি করে হয়!

তাইতো প্রতিটি ইট পাথর অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছে আজ চিৎকার করে বলবে স্বাগতম হে জাতির পিতার কন্যা, স্বাগতম হে মানবতার জননী, স্বাগতম হে বিশ্ব নেত্রী, স্বাগতম আপোষহীন নেতা।

স্বাগতম আমাদের সন্তান, স্বাগতম জনগণের ভাগ্য উন্নয়ন কর্তা, স্বাগতম বাঙালী জাতির অর্থনৈতিক উন্নয়নের ত্রাতা।

স্বাগতম তোমায়!

লেখকঃ মাহমুদুল হাসান, শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট, ঢাবি ছাত্রলীগ
সভাপতি, ঢাবি সাইক্লিং ক্লাব
সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, ঢাবি আইটি সোসাইটি

 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।