জীবনের সাথে ভর্তিযুদ্ধ


রেবেকা সুলতানা তাসমি
Published: 2018-09-09 17:16:52 BdST | Updated: 2018-12-12 05:49:40 BdST

রেবেকা সুলতানা তাসমি: গোধূলির আলো-আঁধারে সদ্য পিতাহারা মাহিরা জানালার পাশে বসে আকাশ দেখছে। হয়তো একরাশ অভিযোগ করছে উপরওয়ালার কাছে। আর দু’মাস পরই এস.এস.সি পরীক্ষা। কখনো ভাবে আর পড়া-শুনার প্রয়োজন নেই। কার জন্য এই পড়ালেখা! যার স্বপ্ন পূরণের জন্য পড়বে, সে ইতো চলে গেলো।

মাহিরা’রা চার বোন-দুই ভাই। বড় দু’বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। বাকিরা পড়া-শুনা করছে। বর্তমানে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আম্মু, হাই স্কুলের শিক্ষক। দু’দিন পর টেস্ট পরীক্ষার রেজাল্ট দিলো। রেজাল্ট ভালো হওয়া সত্ত্বেও এর কোনো প্রভাব পড়লো না। বিমর্ষ চেহারা নিয়ে বাড়ি ফিরলো। সবকিছু কেমন যেনো এলো-মেলো লাগছে। রাতে ঘুম আসে না, সারাক্ষন মনমরা হয়ে থাকে।

বাড়ির সবাই সারাক্ষন পড়া-লেখায় মনোযোগ দিতে বলছে। কিন্তু পড়তে বসলেই বাবার কথা মনে পড়ে। পড়ায় মন থাকে না। সময়তো বসে নেই, পরীক্ষার সময় এগিয়ে আসলো। ফেব্রুয়ারীতে পরীক্ষা শুরু হলো। কোনোরকমে পরীক্ষাটা দিয়ে যেনো হাফ ছেড়ে বাঁচলো।

মাহিরা ভাই-বোন সবার ছোট বলেই হয়তো সবাই একটু বেশী আদর করতো। তবুও বাবার আদর খুব মিস করে ও। আম্মুর ইচ্ছা ওকে ডাক্তার বানাবে, তাই পরীক্ষার পরপরই দু’জন স্যারের কাছে এইচ.এস.সি’র সাইন্সের সাবজেক্টগুলো প্রাইভেট পড়তে শুরু করলো। এখন আর আগের মতো সারাক্ষন মন খারাপ থাকে না।
এর মাঝেই জানা গেলো মে মাসের ৭ তারিখে এস.এস.সি’র রেজাল্ট দিবে। গ্রামে থাকলেও মাহিরার পড়া-শুনা মফস্বলের স্কুলেই হয়েছে। তাই সে ভাবলো এইচ.এস.সি’তে শহরের কোনো ভালো কলেজেই পড়বে। তাই সে তার আম্মুকেও কথাটা জানিয়ে দিলো।
২০১২ সালের মে মাসের ৭ তারিখ হয়তো আর কখনো ফিরে পেতে চাইবে না মাহিরা। তার রেজাল্ট দেখে সে নিজেই স্তব্ধ হয়ে গেছে। এবার জীবনের ভিন্ন রুপ তার সামনে এসে দাড়ালো। আপুরা, বড় ভাইয়া সবাই খুব বকাবকি করলো। আম্মুও বকেছে তবে তুলনামুলক কম।
যে আত্মীয়-স্বজনদের এতোদিন খবর ছিলো না, তারাও আজ ফোন দিয়ে রেজাল্ট জানতে চাইছে। যদিও অতোটা খারাপ রেজাল্ট সে করেনি তবুও সবার মন-মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো কেউ কেউ মজা করে ওকে ট্রাক্টর ডাকাও শুরু করলো।সবার এতোসব অপমানে তার মনের ভিতর জেদ চেপে বসলো। মাহিরা ঠিক করলো সে আর সাইন্সেই পড়বে না। কলেজে ভর্তি হওয়ার সময় সবার মতের বিরুদ্ধে গিয়ে আর্টসে ভর্তি হলো। কিন্তু তার মা একটা শর্তে আর্টসে ভর্তি হতে দিলেন। আম্মু বললেন, আর্টসে পড়লে এইচ.এস.সি’তে জিপিএ-৫ পেতে হবে, নইলে ওকে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হবে। বাধ্য হয়েই শর্তটা মেনে নিতে হলো ওর।
জেলা শহরের ভালো কলেজগুলোর একটিতে ভর্তি করালো তার আম্মু এবং কলেজের হোস্টেলে থাকার ব্যবস্থা করলো। হোস্টেলে কেমন যেনো খাঁচায় বন্দি পাখি মনে হয় নিজেকে। যে মেয়ে কখনো পরিবার ছাড়া এক সপ্তাহ কোথাও ছিলো না সে কিনা দুই বছর তাদের ছাড়া এই খাঁচায় বন্দি থাকবে! প্রথম দিনেই রুমের দুজনের সাথে পরিচয় হলো। একজন মুনিয়া অন্যজন হিলমা।
হোস্টেলে উঠার দু’দিনের মাথায় ধুম জ্বর এলো। ছোট আপু এসে বাড়ি নিয়ে গেলো। আশ্চর্য্যজনক হলেও বাড়ি যাওয়ার পরদিনই জ্বর সেরে গেলো। সুস্থ হওয়ার পর আপু আবার হোস্টেলে দিয়ে গেলো। হোস্টেল কেমন যেনো যন্ত্রনাময়। নিয়ম-নীতির বাইরে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। বাড়িতেও এতো নিয়ম-কানুন নেই।
রুমে আরেকজন নতুন রুমমেট এসেছে, নাম রাইমা। ওদের তিনজনের সাথে মাহিরার ভালোই কাটছিলো সময়গুলো। যদিও মাঝে মাঝে জানালার পাশে বসে আকাশের সাথে মনের কথাগুলো বলা হতো। অন্যান্য রুমের ছাত্রীদের সাথেও ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠলো। হোস্টেলে সবচেয়ে চুপচাপ, শান্ত-শিষ্ঠদের একজন বলে শিক্ষকরাও খুব স্নেহ করতে শুরু করলেন।
ক্লাস, হোস্টেল আর বন্ধে বাড়ি যাওয়া, এভাবেই দিন কাটতে লাগলো। এর মাঝেই ছোট আপুর বিয়েও হয়ে গেলো। আপুর শ্বশুরবাড়ি হোস্টেলের কাছে হওয়ায় আপু-দুলাভাই প্রায়ই দেখতে আসতো। সেই সাথে ছোট ভাইয়াও দেখতে আসতো। তখন আর খারাপ লাগতো না।
দেখতে দেখতে ফার্স্ট ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষা চলে এলো। মাহিরা পড়া-লেখায় আগের চেয়ে আরো বেশী মনোযোগী হলো। এইচ.এস.সি’র এই দুইটা বছর অনেক চ্যালেঞ্জিং তার কাছে। পরীক্ষাও শেষ হয়ে গেলো দ্রুতই। “আর্টস খুব একটা কঠিন না, সবাই যেভাবে ভয় দেখাইছিলো”- মনে মনে ভাবলো মাহিরা। প্রত্যেকটা পরীক্ষার ফলাফলে উন্নতি হতে লাগলো। হোস্টেল জীবনটাও আগের মতো খারাপ লাগছে না, বরং বাড়িতে গেলে বান্ধুবীদের জন্য খারাপ লাগতে শুরু করলো।
ধীরে ধীরে স্বপ্নের পরিসর বড় হতে লাগলো। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ইচ্ছাটা প্রকট হতে শুরু করলো। দেখতে দেখতে দুই বছর প্রায় শেষ হয়ে এলো। ফাইনাল পরীক্ষাও চলে আসলো। পরীক্ষার মাঝে হোস্টেল ছেড়ে দিলো। বাকি পরীক্ষাগুলো ছোট আপুর বাসা থেকে দিলো। পরীক্ষা শেষেই বড় ভাইয়ার বিয়ে, তবে আনন্দ করার সময় কই! বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার জন্য কোচিং করতে হবে, অবসর সময় বলতে কিছুই রইলো না এই বছর। পরিবারের সবার চাওয়া ভালো রেজাল্ট, ভালো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া।
এইচ.এস.সি’তে ভর্তি হওয়ার পর থেকে পরিবারের সবার ইচ্ছাই নিজের ইচ্ছা ভেবে নিয়েছে মাহিরা। নিজের আর আলাদা স্বপ্ন বোঁনা হয়নি। ভর্তি পরীক্ষার কোচিং এর জন্য ঢাকায় চলে এলো। এক চাচার বাসায় উঠলো। যদিও তার কোনো আত্মীয়ের বাসায় উঠার ইচ্ছা ছিলো না। মায়ের ইচ্ছাতেই বাধ্য হয়ে উঠতে হলো।
স্বাধীনচেতা মানুষ এখানে এসেই যেনো জীবনের কঠিন পরীক্ষাগুলোর সম্মুখীন হলো। প্রতিদিন কোনো না কোনো সমস্যাতে পড়তেই হচ্ছে। প্রথম দিনেই বুঝে গেলো তার এই বাসায় উঠাটা বাড়ির কর্তীর মোটেই পছন্দ হয়নি। একজন মানুষ একসাথে কতজনের সাথে যুদ্ধ করতে পারে? নিজের মনের সাথে, অন্য মানুষের সাথে!এই কথাগুলোই মাহিরার মনের ভিতর ঘুরপাক খাচ্ছে গত কয়েকদিন ধরে।
প্রতিদিন গৃহকর্তীর অভিযোগের অন্ত নেই। কখনো বলবে, “এই যে খাওয়া-দাওয়া করে, এগুলা কোথা থেকে আসে কারো খবর আছে? শুধু খাইতেই জানে!” এই কথা শোনার পর থেকে আর খেতে ইচ্ছে করতো না। ক্ষুধা থাকলেও নেই বলে খাওয়া কমিয়ে দিলো। পরদিন আবার অন্য অভিযোগ, বেশী রাত করে পড়লে লাইট জ্বললে, কারেন্ট বিল বেশী আসে, টাকা বেশী খরচ হয়। সেদিন থেকে লাইট অফ করে নোকিয়া মোবাইলের টিমটিমে আলো দিয়ে পড়া শুরু করলো। আর প্রতিদিন গালি-গালাজতো ফ্রি। এ-আর এমন

আর প্রতিদিন গালি-গালাজতো ফ্রি। এ-আর এমন কি ব্যাপার!পড়ার সময় অন্যকাজে পাঠানোতো আছেই। তবুও মুখ বুজে সহ্য করতেই হবে। বাড়িতে এগুলো বলা হয়না, আম্মু-আপুরা চিন্তা করবে যে! সেদিন থেকে লড়াইটা একান্ত নিজের হয়ে গেলো। আম্মু, আপুদের স্বপ্ন পূরনের জন্য হলেও সব মেনে নিতে হবে। তাই পড়া-লেখার প্রতি আরো জোর দিতে শুরু করলো মাহিরা।
এইচ.এস.সি’র রেজাল্ট দেয়ার আগের দিন গৃহকর্তীকে উনার ছোট্ট ছেলে প্রশ্ন করেছিলো “মাহিরা আপুর রেজাল্ট কেমন হতে পারে? উনি কি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাবে?” উনি বলেছিলেন, “গ্রামের মেয়ে পড়া-শুনা আর কতটুকুই করবে, কোনোরকম পাশ করবে। আর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য যোগ্যতা লাগে। এরাতো শখের বশে ভর্তি পরীক্ষা দেয়, অকারনে টাকা খরচ। দু’দিন পর সেই শ্বশুড়বাড়ি গিয়ে কাজ করবে।” গৃহকর্তীর উত্তর মাহিরার ভিতরটা যেনো দুমড়ে-মুচড়ে দিয়েছিলো সেদিন এবং প্রতিজ্ঞা করেছিলো এর সমুচিত জবাব দিতেই হবে। কে জানতো পরদিনই তিনি উত্তরটা পেয়ে যাবেন!
পরদিন এইচ এস সি পরীক্ষার রেজাল্ট দিলো। সকালটা উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় কাটলো মাহিরার। দুপুর ১২ টার একটু পর গৃহকর্তা মানে মাহিরার চাচা ফোন দিলেন এবং জানালেন মাহিরা এ-প্লাস পেয়েছে। খবরটা গৃহকর্তীর মুখ কিছুক্ষনের জন্য হলেও মলিন করে দিয়েছিলো। তবুও নিজেকে সামলে নিয়ে মাহিরাকে ডেকে অভিনন্দন জানালেন।
বিকেলে চাচা কয়েক প্রকার মিষ্টি নিয়ে এলেন। উনি আবার এই রেজাল্টে খুশিতে আত্মহারা। বলা বাহুল্য, এই বাসায় উনিই একমাত্র ব্যক্তি যার কাছ থেকে আদর-ভালোবাসার কোনো কমতি ছিলো না কখনো। চাচা আবার এক কাজিনকে বলে দিলেন পরীক্ষার আগে এক মাস যেনো ইংরেজীটা পড়ায়। নিজেও প্রতিদিন সকালে, বিকালে, রাতে মাহিরার পড়ালেখার খোঁজ-খবর নিতেন। বলা যায় উনিই শুধু মাহিরার জন্য ভাবতেন এই বাসায়। তবে উনি উনার বউ এর দুর্ব্যবহারের কিছুই জানতেন না। কারন উনার সামনে উনার বউ অত্যন্ত মিষ্টি ব্যবহার করতেন।
মাঝে মাঝে মনে হতো, যদি জীবন থেকে পালিয়ে যাওয়া যেতো, তবে এতোসব সহ্য করতে হতো না। বাবার কথা মনে হতো, যদি তার মতো করে চলে যাওয়া যেতো, এই কষ্ট থেকে মুক্তি মিলতো! এই কষ্ট কারো কাছে বলা যায় না, নিজের ভিতর নিজেকেই গুমড়ে মরতে হয়। ঘুমহীন কত রাত কেটে যায়, শুধু কান্নারা সাক্ষী থাকে।
যাই হোক কয়েকদিন পর ওই ভাইয়া পড়ানো শুরু করলেন। উনি আবার ঢাবির ছাত্র। ধীরে ধীরে ইংরেজীতে উন্নতি হতে লাগলো। এক মাসে যতটুকু পারলেন পড়ালেন, তবে উনি নিজের সবটা উজাড় করেই দিয়েছিলেন। ইংরেজীর পাশাপাশি সাধারন জ্ঞানও পড়ালেন। বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা দেয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বই কিনে দিলেন।ভর্তি পরীক্ষার আর এক সপ্তাহ বাকি তাই পুরোদমে প্রস্তুতি নিতে লাগলো মাহিরা।
ভর্তি পরীক্ষার দিন বড় ভাইয়া এসে পরীক্ষা দিতে নিয়ে গেলেন। ঢাবি এবং জবিতে একই দিনে পরীক্ষা হওয়ায় বাসায় ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে গেলো। পরদিন আবার জাবিতে পরীক্ষা তাই রাতেই ছোট ভাইয়ার সাথে যেতে হলো এক মামার বাসায়। দু’দিন পর আবার সেই চাচার বাসায় ফিরে আসলো। এসেই শুনলো পরদিন ঢাবির ভর্তি পরীক্ষার রেজাল্ট দিবে। জবিতে ওয়েটিং এবং জাবির একটি ইউনিটে চান্স পেলো মাহিরা। পরদিন সন্ধ্যার পর ওই ভাইয়া ফোন দিয়ে জানালো ঢাবির রেজাল্ট দিয়েছে এবং মাহিরা চান্স পেয়েছে। আনন্দে চোখে জল চলে আসলো। সবার আগে মনে পড়লো বাবা এবং মায়ের কথা। বাবা বেঁচে থাকলে খুব খুশি হতেন আর মা নিশ্চয়ই এতক্ষনে খুশিতে আত্মহারা। আপুরা-ভাইয়ারা ফোন দিতে লাগলো। আত্মীয়-স্বজনরাও যেনো হঠাৎ করেই বেশী ভালোবাসা প্রকাশ করতে লাগলো।
এই বাসায় একটা মানুষকেই শুধু আপন মনে হয়েছিলো। যদিও আসার পর প্রথম প্রথম ভালো মানুষ মনে হয়নি। তবে একটা সময় মনে হলো মানুষটা ভালো। শুধু পরিবেশের কারনেই পরিবর্তনটা চোখে পড়েনি। সে হচ্ছে গৃহকর্তীর ভাইয়ের মেয়ে, এখানে থেকেই পড়াশুনা করছে।
দশ-পনের দিন পর কোরবানির ঈদ। তাছাড়া এই রেজাল্টের পর মায়ের সাথে দেখা করাটাও আবশ্যক। তাই অনেকদিন পর ক্লান্ত দেহটা মায়ের কোলে মাথা রেখে প্রশান্তির ঘুমের জন্য ছটফট করছে। বাড়িতে ঢোকার মুহুর্তে আম্মু মিষ্টি খাইয়ে বরন করে নিলেন আর মা-মেয়ের আলিঙ্গন, বাঁধাহীন চোখের জল ঝরছেই। হয়তো এই দৃশ্যটা পৃথিবীর সেরা দৃশ্যগুলোর একটি।
ঈদে বাড়িতে খুশির আমেজ তৈরি হলো। আপুরা সবাই শ্বশুড়বাড়ি থেকে এসেছে, সেই সাথে এই রেজাল্টে সবাই দারুন খুশি। কিন্তু মাহিরা ভাবছে আবারও তাকে ঐ বাসায় ফিরে যেতে হবে! কাউকে বলাও যাচ্ছে না, কিছুই করার নেই। পরবর্তী দু-তিন মাস ভর্তির কাজ ছাড়া আর ঢাকায় যাওয়া হয়নি। জানুয়ারীতে ক্লাস শুরু হলো, আবার সেই বাসায়। তবে এবার পরিবেশ বেশ পরিবর্তন হয়েছে, আগের চেয়ে শীতল। কারন মাহিরা এবার ওনাদের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করছে।
অবশেষে মার্চ মাসে এই অন্ধকার বিভীষিকাময় সময়টা জীবন থেকে বিদায় নিচ্ছে। বড় ভাইয়া বাসা নিয়েছে, ভাবিকে নিয়ে এসেছে। মনে হলো জীবনে বসন্তের আগমন ঘটেছে। অবশেষে শান্তির ছোঁয়া পাওয়া গেলো। তবুও মাঝে মাঝে ওই সময়টার কথা মনে পড়ে। থাকুক না এই দুঃসময়টা একান্তই নিজের ভিতর। কিছু কিছু দুঃখ কাউকে বলতে নেই।
এভাবেই হয়তো অনেক মাহিরার আগমন ঘটে ঢাকায়, ভর্তি পরীক্ষার কোচিং করার জন্য্‌, আত্মীয়ের বাড়িই হয় যাদের শেষ আশ্রয়স্থল। তবুও যুদ্ধতো যুদ্ধই! ভর্তি পরীক্ষার যুদ্ধ, ধৈর্য্যধারনের যুদ্ধ। সকল প্রতিকূলতাকে হার মানিয়ে কেউ জয়ী হয়, কেউবা পরাজিত। তবুও তারা সবাই সৈনিকই বটে আর এই যুদ্ধ চলমান অনেক বছর ধরে।

বি.এস.এস (অনার্স) ৪র্থ বর্ষ
সেশন:২০১৪-১৫
সমাজকল্যাণ ইন্সটিটিউট
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।