বঙ্গবন্ধু রেখে গেছেন বাংলাদেশ আর বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনাকে


খন্দকার হাবীব আহসান
Published: 2018-09-28 17:44:28 BdST | Updated: 2018-10-17 03:53:11 BdST

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বর্বরোচিত হত্যাকান্ডের ইতিহাস পড়ার পর মনে হয়, তার পরবর্তী সময়ে যে কোন ঘটনা ঘটা সম্ভব ছিলো, সম্ভাবনা ছিলো বাঙ্গালী জাতির পরিচয় চিরতরে নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার। আবারো পাকিস্তানী লেজুড়বৃত্তি আর চাটুকারিতার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার মুকুটকে পায়ের শিকল বানায়ে পরাধীনতা বরন করে নেওয়ার।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার কৈশর থেকে যৌবন, যৌবন থেকে পরবর্তী সব সময়ে রাজনৈতিক মানসিকতার যে পরিচয় দিয়েছেন তা শুধু তাঁর ব্যক্তি পরিচয় না বাঙ্গালী জাতির সত্যিকারের পিতার পরিচয়ই তিঁনি দিয়েছেন।

বঙ্গবন্ধুর জেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন।ছাত্র জীবন থেকেই তিঁনি সকল গনআন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছেন। জেষ্ঠ কন্যা হওয়ার সুবাদে বঙ্গবন্ধু শেখ হাসিনাকে অনেক ভালবাসতেন এবং তিঁনি রাজনৈতিক অনেক বিষয়াবলী নিয়ে আলোচনা করতেন যা শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক জীবনকে সহজতর করে তুলেছে।

বঙ্গবন্ধু হয়ত নিজের অজান্তেই তাঁর কন্যাকে পারিবারিক শিক্ষায় রাজনৈতিক ভাবে দক্ষ করে তুলেছিলেন যার নৈপুণ্যতায় বাংলাদেশ আজ সুখী, সমৃদ্ধ,ডিজিটাল ও মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হওয়ার পথে।

বঙ্গবন্ধুহীন বাংলায় কখনই বঙ্গবন্ধুর একটি পুত্র সন্তানের অভাববোধে আামাদের পড়তে হয়নি, বরং নারী নেতৃত্ব বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টকারী নেতায় পরিনত হয়েছেন শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু তাঁর রাজনৈতিক জীবনে যেমন অগনিত মানুষের সাথে মিশেছেন, তাদের সকলকেই তিঁনি নিজের আপনজন করে নিয়েছেন তেমনি রাজনৈতিক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে একটি দেশের স্বাধীনতা আনতে যে বাঁধা এসেছে সেগুলো মোকাবেলা করতে গিয়ে তিঁনি একজন যোগ্য পিতা হিসাবে দেশের অবিভাবকত্ব যেমন করেছেন তেমন নিজ পরিবারের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যোগ্য করে তোলার চেষ্টা করেছেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করা হলেও জার্মানিতে থাকার সুবাদে প্রানে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখা হাসিনা ও শেখ রেহেনা।

ঘাতকরা অনুধাবন করেছিলো বঙ্গবন্ধু রক্তের কেউ একজন বেঁচে থাকলে হয়ত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন অনিবার্য তাই সেটাকে নসাৎ করতেই এমন জঘন্য হত্যাকান্ড চালিয়েছিলো।বঙ্গবন্ধুর বুকের তাজা রক্ত যখন বাংলার অসহায়, নিপীড়িত, নির্যাতিত মানুষের চোখে অশ্রু হয়ে নেমে এসেছিলো, সে সময়টাতেও চলেছিলো ইতিহাস বিকৃতির মত ঘৃণ্যতম কুকর্মগুলো। এক বার ভেবে দেখেছেন সে সময়ের পর যদি শেখ হাসিনা না থাকত তবে আজকের বাংলাদেশ টা কেমন হতো!আদৌ বাংলাদেশ নামটাও কি থাকত!উন্নয়নের কথা তো অনেক দূরে।আমরা হয়ত বঙ্গবন্ধুর নামটিও শুনতাম ভিন্নভাবে।পরবর্তী প্রজন্ম গুলো বেড়ে উঠত মিথ্যাচারের ইতিহাস আর ক্ষুধা,দারিদ্র্যতা,নিরক্ষরতার বোঝা মাথায় নিয়ে।

যদি শেখ হাসিনার জন্ম না হত! বা বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৭ই মে বঙ্গকন্যা দেশরত্নের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন না হতো তবে আমি আপনি আজ হয়ত উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত না হয়ে আল কায়েদা বা আইএসের সদস্য হতাম।খেটে খাওয়া মানুষগুলোও হয়ত দুমুঠো ভাতের জন্য অস্ত্র হাতে তুলে নিতো। একটি জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিনত হতো বাংলাদেশ পাকিস্তানী এজেন্ট জামাত বিএনপি বা ভিন্ন কোন স্বৈরশাসকের হাত ধরে।

১৯৮১ সালে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি হওয়ার ঘটনা ছিলো ৭৫ এর পরবর্তী সময়ে আশাহত বাঙ্গালীর চোখে আবারও একটি আশা সঞ্চারনার বীজ।পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা আবার প্রমান করেন বঙ্গবন্ধুর রক্ত কখনও পিছু হটতে পারে না।তাঁর রাজনৈতিক মেধা,যোগ্যতা আর অসাধারন নৈপুণ্যতায় তিনি বাংলার জনগনের কাছে রত্ন হয়ে ওঠেন।১৯৯৬-২০০১,২০০৮-২০১৪,২০১৪-চলামান সময়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ-সরকার গঠন করে জনগনের হৃদয়ের স্পন্দনে পরিনত হয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধুহীন বাংলায় একমাত্র শেখ হাসিনা ছাড়া আর একজন মানুষও ছিলেন না,যিনি এদেশের মানুষের স্বাধীনতা অর্জনের সুফল ভোগের সুযোগ করে দিতে পারতেন।শেখ হাসিনা ছিলেন তাই বাংলার মানুষ যুদ্ধাপরাধের বিচার পেয়েছে,ক্ষুধা-দারিদ্রতা মুক্ত, সুখী সমৃদ্ধ উন্নয়নশীল বাংলাদেশ পেয়েছে।বিশ্বের বুকে বার বার মাথা তুলে দাঁড়াবার সুযোগ পেয়েছে।

বঙ্গবন্ধু হয়ত এমনটাই স্বপ্ন দেখেছিলেন,তাঁর বাস্তবায়নের সুযোগ না হলেও তাঁরই কন্যার মাধ্যমে জনগনের চোখ দিয়ে দেখা সেই স্বপ্ন আজ বাস্তবায়ন হওয়ার পথে।শেখ হাসিনা না থাকলে এদেশের মানুষের সকল লড়াই সংগ্রামের ফসল বৃথা যেত।
জননেত্রী শেখ হাসিনা যে শুধু বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটিকে পাকিস্তানি দোষর দের হাত থেকে আজ অবধি বাঁচানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন তা নয়,এদেশের মানুষের জন্য তিঁনি তার পরিবার হারায়ে একজন নীলকন্ঠ বা লৌহমানবী হয়েও দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন এদেশের মানুষের ভাগ্যউন্নয়নের জন্য।ফলশ্রুতিতে তিঁনি ইতিমধ্য একাধিক সম্মাননায়য় ভূষিত হয়েছেন।

আর্ন্তজাতিকভাবে-২০১৭ সালে: মাদার অব হিউম্যানিটি।২০১৬ সালে:প্লানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন,এজেন্ট অব চেঞ্জ।২০১৫ সালে :চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা আর্থ,ITU(International Telecommunications Union Award),WIP (Woman in parliament) Award.
২০১৪ সালে :শান্তি বৃক্ষ পদক(peace tree award)২০১৩ সালে:South South Award.
২০১২ সালে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় সন্মানসূচক ডিলিট ডিগ্রি দেয়।Cultural Diversity award.
Global Diversity award. ২০১১ সালে:South South award, Digital Development Health.নারীর ক্ষমতায়নে অবদান রাখার জন্য ফ্রান্সের ডফিন বিশ্ববিদ্যালয় শেখ হাসিনাকে স্বর্ন পদক দেয়।বাংলা একাডেমীর সন্মানসূচক ফেলোশিপ পান শেখ হাসিনা।

২০১০ সালে : MDG(Millennium Ddevelopment Goal)Award. St.petrsburg university শেখ হাসিনাকে সন্মানসূচক ডক্টরেট দেন।ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পদক' ২০০৯' পান।২০০৫ সালে।Peoples Friendship University Of Russia তাকে সন্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি দেন।১৯৯৯ সালে: ডক্টর অব লজ,সেরেস পদক।১৯৯৮ সালে:এম কে গান্ধী পুরষ্কার,মাদার তেরেসা পদক,ফেলিক্স হুপে বইনি শান্তি পুরষ্কার,শান্তিনিকেতন বিশ্বভারতী থেকে 'দেশিকোত্তম উপাধি।১৯৯৭ সালে:রাষ্ট্রপ্রধান পদক,পল হ্যারিস ফেলো,নেতাজী মেমোরিয়াল পদক ১৯৯৭, ডক্টর অব লিবারেল আর্টস,
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বোষ্টন, ও জাপানের ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পৃথকভাবে শেখ হাসিনা ডক্টর অব লজ ডিগ্রি পান।

বঙ্গবন্ধু তার জীবনের পুরোটা সময় দেশের জন্য দেশের মানুষের জন্য দিয়ে গেছেন কখনও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোসহীন লড়াই সংগ্রাম করে কখনও শোষকদের বিরুদ্ধে যাওয়ার জন্য কারারুদ্ধ হয়েছেন।সবকিছু শেষে তিঁনি বাঙ্গালী জাতিকে স্বাধীনতা এনে দিতে পেরেছিলেন কিন্তু ১৯৯৭৫ সালে তাঁকে স্বপরিবারে হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে আমরা যে অন্ধকারের দিকে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলাম,তাঁর রেখে যাওয়া চেতনা হারাতে বসেছিলাম,সে আঁধারে আলোর দিশারী হিসাবে তিনি যে মূল্যবান রত্ন বাঙ্গালীর জন্য রেখে গেছেন তিঁনি হলেন দেশরত্ন শেখ হাসিনা।জন্মদিনের শুভেচ্ছা ১৮ কোটি বাঙ্গালীর স্বপ্নের অবিভাবকসকলের প্রাণের স্পন্দন, মদার অব হিউম্যানিটি বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা।

লেখক- খন্দকার হাবীব আহসান
সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।