ডাকসু নির্বাচন, সম্ভাবনা নাকি শঙ্কা!


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2019-02-10 16:10:00 BdST | Updated: 2019-08-19 15:21:25 BdST

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন দীর্ঘ দিনের স্থবিরতা কাটিয়ে আলোচনায় যে বসন্ত হাওয়া তুলেছে তা কতটুকু প্রশান্তির সম্ভাবনা নিয়ে আসবে বা কতটুকু শঙ্কার মেঘ সৃষ্টি করবে তা নির্ভর করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকটি শিক্ষার্থীদের উপরই।

নির্বাচনে প্যানেল গঠন থেকে শুরু করে ভোটাধিকার প্রয়োগ পর্যন্ত শিক্ষার্থী-ছাত্রনেতা উভয়ের ভাবনার উপরেই নির্ভর করছে ডাকসুর ভবিষ্যৎ।শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক-সুশৃঙ্খল-উন্নয়নমূখী চিন্তার ফলাফল হিসাবে ডাকসু নির্বাচন হতে পারে সম্ভানার একটি উন্মুখদ্বার,অন্যদিকে অযোগ্য প্রার্থীদের দিয়ে ছাত্রসংগঠন গুলোর প্যানেল গঠন-শিক্ষার্থীদের ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে অসচেতনতা ডাকসু নির্বাচনের দীর্ঘ সময়ের লালিত আকাঙ্খা ম্লান করে শঙ্কার কারনও হতে পারে।

ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন গুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সবচেয়ে বেশি সক্রিয় এই বিষয়টি স্পষ্টত হওয়ায় কিছু ইতিবাচক কাজ মেনে নিতেই হয় যে বিগত বছরগুলোতে ক্যাম্পাস স্থিতিশীল রেখে বিশ্ববিদ্যালয়কে সেশনজট মুক্ত করা,সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাম্পাস নিরাপদ রাখা,বহিরাগত যেকোন বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে সোচ্চার থাকা সহ ক্যাম্পাসে সকল অসাম্প্রদায়িক,মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নির্ভর প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠন গুলোর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের কৃতিত্বটা বাংলাদেশ ছাত্রলীগেরই।

অন্যদিকে রাজনৈতিক কৌশলগত কারনে এবং ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ প্রতিক্রিয়াশীল সন্ত্রাসী ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবিরের সাথে যৌথভাবে রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনার স্বার্থে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের অধিকাংশ নেতারা হলের বাইরে অবস্থান করে।সঙ্গত কারনে ছাত্রদলের প্রায় সকল নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত।তবে ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মীদেরকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা চিনেছে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করতে এসে হাতেনাতে ধরা পড়া বা আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আটক হওয়ার পর সংবাদ বা টিভি মিডিয়ার মাধ্যমে।ছাত্রদলের এই অপরিচিত বয়স্ক নেতাকর্মীদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে ডাকসু নির্বাচনে কতটা গ্রহনযোগ্য হবে তা প্রশ্নের বিষয়!

কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় মিথ্যা গুজব রটিয়ে ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার চেষ্টা,ভিসি মহোদয়ের বাসভবন ভাংচুর-লুটপাট-অগ্নিসংযোগ এবং ক্যাম্পাস বিশৃঙ্খল করে রাজনৈতিক ফায়দা আদায়ের চেষ্টা করা কিছু শিক্ষার্থী কোটা বাতিল হওয়ার পরও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এজেন্ট হিসাবে ক্যাম্পাসে অবস্থান করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নাম ব্যবহার করে ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করতে পারে এমন শঙ্কাটা সুষ্ঠু ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার ব্যাপারে একটি অন্যতম বাঁধা।কারন এই সকল শিক্ষার্থীদের হাত ধরেই প্রতিক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবিরের কর্মীরা ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করতে চেষ্টা করেছে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময়।

সঙ্গত কারনে ১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচনটি সম্ভাবনাময় ইতিবাচক হওয়া সম্ভব,যদি সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোটের রায়টা মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের অসাম্প্রদায়িক এবং প্রগতিশীল ছাত্র নেতৃবৃন্দের দিকে হয়।যে নেতৃত্ব শিক্ষার্থী-বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন-সরকারের উন্নয়ন অগ্রগতির সাথে সমন্বয় করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষার্থীবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয়ের রুপ দিতে পারবে।অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের ভোট যদি ইতিপূর্বে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ সহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত কোন ছাত্রনেতা,ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করতে চক্রান্তকারী কোন দলের এজেন্ট বা শিক্ষার্থীদের থেকে বিছিন্ন কোন ছাত্র সংগঠনের নেতার দিকে যায় তাহলে ডাকসু নির্বাচনের ২৮ বছরের প্রতীক্ষার তেষ্টা না মেটা স্বাভাবিক।

স্বাধীনতার পূর্বে বা স্বৈরশাসকের শাসন আমলে দেশে ছাত্ররাজনীতির ধরন চলমান ছিলো স্বাধীনতা অর্জনের জন্য বা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে উন্নয়নের প্রবাহ তৈরি করার জন্য কিন্তু বর্তমান উন্নয়নের মহাসড়কে চলমান বাংলাদেশে ছাত্ররাজনীতির ধরন অবস্যই হওয়া উচিত উন্নয়নমুখী কর্মকান্ডের সাথে তাল মিলিয়ে ইতিবাচক ধারায় চলমান থাকা।ছাত্ররাজনীতির এই অগ্রসরতা ডাকসু নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে মনোভাবে প্রভাব ফেলতে পারলেই আমরা কাঙ্খিত ডাকসু পাওয়ার আশা করত পারি।তাছাড়া ডাকসু নির্বাচন হবে ২৮ বছর পর একটি স্বপ্নভঙ্গ।


লেখক
খন্দকার হাবীব আহসান
সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।