ডাকসুঃ প্রার্থীরা দেয়া প্রতিশ্রুতি পালনে সক্ষম হবে কি?


ঢাবি টাইমস
Published: 2019-03-06 23:50:17 BdST | Updated: 2019-07-17 19:28:58 BdST

দীর্ঘ আটাশ বছর অপেক্ষার পর কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। জমে উঠেছে পদপ্রার্থীদের প্রচারণাও। বিভিন্ন রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক প্যানেলভুক্ত হয়ে কিংবা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন কয়েকশো শিক্ষার্থী।

ইতোমধ্যে পদপ্রার্থীরা নির্বাচন উপলক্ষে দিয়েছেন তাদের নির্বাচনী ইশতেহার। অধিকাংশের ইশতেহারেই ফুঁটে উঠেছে জনপ্রিয় সব প্রতিশ্রুতি। সেসব অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির অধিকাংশই বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে শুনতে স্বপ্নের মত মনে হয়।

প্রশ্ন হচ্ছে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এসব ইশতেহারের বাস্তবায়ন কি আদৌ সম্ভব? নাকি অন্তঃসারশূন্য বাগাড়ম্বরতা হিসেবে কালের গর্ভে হারাবে ইশতেহারের আড়ম্বরপূর্ণ জমকালো বক্তব্যগুলো? সময়ই তার উত্তর দেবে।

প্রায় সব প্যানেল থেকেই বলা হয়েছে আবাসন সংকট সমাধান করার লক্ষ্যে কাজ করার কথা। অথচ বাস্তবতা এমন নয় যে ১১ মার্চ এর পরই ক্যাম্পাসে কোনো জাদুশক্তির বলে নতুন হল তৈরি হয়ে যাবে। আজ যে স্বপ্ন গণরুমে পচে মরছে, ১১ মার্চের পর যেই জিতুক, বিজয়োল্লাস উদযাপন হয়তো সেই গণরুমেই হবে। তড়িৎ কোনো সুফল গণরুমের শিক্ষার্থীরা পাবেনা। অদূর ভবিষ্যতে কোনো সমাধান আসে কিনা সেই প্রত্যাশাই সর্বোচ্চ চাওয়া হতে পারে।

অধিকাংশ প্যানেলের অধিকাংশ প্রার্থী ইশতেহারে বলছেন সান্ধ্যকালীন কোর্স বাণিজ্য বন্ধ করার লক্ষ্যে কাজ করবেন তারা। প্রশাসনের আর্থিক লাভজনক এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে কীভাবে তারা কাজ করবেন?
যেখানে উপরের পদগুলোর অধিকাংশ প্রার্থীই শেষ মুহুর্তে কোনোরকমে সান্ধ্যকালীন কোর্সে ভর্তি হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন!
এমন আরও নানা উপসর্গ ইশতেহারগুলোর বাস্তবায়নযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

ডাকসু নির্বাচন উপলক্ষে বহুবছর পর ক্যাম্পাসে সরব বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা। মধুর ক্যান্টিনে পাশাপাশি বসছে তারা। সমসাময়িক বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নিঃসন্দেহে এটি একটি ইতিবাচক দিক। তবে ১১ মার্চের পর এ পরিস্থিতি থাকবে কিনা সেটিও সময় বলবে। অনেকে তাই প্রার্থনা করছেন ডাকসু-পূর্ব বর্তমান সময়গুলোই দীর্ঘ হোক!

নানা সমীকরণ, ভাবনা সত্ত্বেও সবাই চায় যথাসময়ে শিক্ষার্থীদের সুষ্ঠু ভোটে ডাকসু নির্বাচন হোক। ডাকসুর কল্যাণে যুগ-যুগান্তরের ক্যাম্পাস সংস্কৃতি উপেক্ষা করে ছাত্রনেতারা ছাত্রমুখী রাজনীতিতে বেশি মনোযোগী হচ্ছেন। ভোটের জন্য হলেও সুখ দুঃখের ভাগীদার হবার চেষ্টা করছেন প্রতিনিয়ত।
গণমুখী গণতন্ত্রের চরম সংকটে ভোগা এই উপমহাদেশে এমন শুদ্ধ রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা পরিপক্ক হোক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই।

মোঃ আব্দুল্লাহ-আলমুতি আসাদ
সাধারণ সম্পাদক
ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি
(ডিইউডিএস)

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।