একটি জারুল গাছের জন্য শোক


ঢাবি টাইমস
Published: 2019-04-10 13:04:56 BdST | Updated: 2019-05-26 20:20:33 BdST

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির সামনে স্মৃতি-বিস্মৃতির এই জারুল গাছটি কেটে ফেলা হচ্ছে। গাছটির যৌবন দেখেছি। গাছটিও আমাদের উচ্ছ্বল তারুণ্য আর যৌবন দেখেছে। ভরা বর্ষায় কি সুন্দর হালকা বেগুনি ফুলে ভরে উঠত গাছটির শাখা প্রশাখা। বিগত যৌবনে আজ জরাগ্রস্ত জীবন। গাছটিরও তাহলে দিন ফুরিয়েছে। যেভাবে একদিন ফুরাবে আমাদের, ফুরোয় মানুষের। জীবনের সঙ্গে জীবনের কি অদ্ভুত মিল। লাইব্রেরির সামনের বিশাল নিম গাছটি এক সন্ধ্যার ঝড়ে উপড়ে পড়ে। হে যৌবনসখা বৃক্ষ — শোকাহত।

বৃক্ষ ও পুরাণ
কতো স্মৃতি, কতো ইতিহাসের সাক্ষী। লাইব্রেরির সামনে নিমতলা,আমতলা, জামতলা, সব তলার সমুলে উৎপাটন।
আজ প্রিয় জারুল গাছটি মহাপ্রয়াণের এক আত্নাবেদর পাদটীকা, তার বিদায়ের দায় থেকে সে মুক্ত। আমরা কিংবা প্রকৃতির কাছে রেখে গেল প্রশ্ন,
আমি এই বিদায় চাইনি। তোমাদের জীবনের প্রতিটি অঙনে আমি ছিলাম, তোমাদের সুখ -দুখ আমি বুঝতাম।
আজ প্রবীণ এবং নবীনদের একটা কথা বলতে চাই।
আমাদের চলে যেতে হয়এভাবেই, রেখে যাওয়া কিছু স্মৃতি ছাড়া আমি জড় হয়ে গেলাম। তোমরাও চলে যাবে আমার মতো কোন এক সময় কিংবা পরোক্ষনেই।
থেকে যাবে সুখো স্মৃতি, তাই যা করো সময় আমাদের কে চলে যেতে বাধ্য করে, যদিও এ রকম বিদায়ই চাইনি, থেকে যাওয়ার খুবই ইচ্চে ছিলো, এই যে নিয়মে বাধা, থাকা যায়?তাই তোমারও প্রস্তুতি নাও চলে যেতে হবে এই মায়ার বাধন ছেড়ে, মায়া আর কায়ার জগত থেকে।
ভালো কিছু করো যদি চাও জীবনের দীর্ঘায়ু বাড়াতে সময়ে নয়, কর্মে বেচে থাকতে।
আজ তোমাদের ছেড়ে যেতে আমার অনেক কষ্ট হচ্ছে।
ইতিহাসের সন্তানদের ছেড়ে যেতে,ভালো থেকো তোমরা, মাঝে স্মরণ করিও আমি ছিলাম তোমাদের
প্রিয় জারুল গাছটি।

আলমগীর ও শহীদুল্লাহ

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।