'বাংলাদেশ ছাত্রলীগ একটি সংগ্রামের প্রতিষ্ঠান'


Dhaka
Published: 2020-01-04 00:04:41 BdST | Updated: 2020-07-04 23:46:42 BdST

কাল শনিবার প্রতিষ্ঠার ৭২ বছর পালন করতে যাচ্ছে প্রাণের সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। ১৯৪৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারি পিতা মুজিবের হাত ধরে জন্মলাভ করা প্রতিষ্ঠানের নাম "বাংলাদেশ ছাত্রলীগ"।অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো,দীর্ঘদিন ধরে শোষন ও অত্যাচারের হাত থেকে বাংলার মুক্তিকামী মানুষকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যেই জন্ম নিয়েছে এই সংগঠনটি।

১৯৫২ সালে যখন পাকিস্তানি স্বৈরশাসক আমাদের মায়ের বুলি কেড়ে নিতে চেয়েছিল,তখন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতৃত্বে সেদিন "রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ" গড়ে ওঠে। হাজার হাজার ছাত্রলীগ নেতাকর্মী সেদিন বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে আমাদের মায়ের ভাষা ফিরিয়ে এনেছিলেন। এরপর বাংলার শোষিত মানুষের জন্য আশার প্রদীপ হয়ে আসে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টকে বিজয়ী করতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভূমিকা অতুলনীয়।

১৯৫৮ সালে বাংলার মানুষকে দমন করার জন্য আইয়ুব খান "মার্শাল ল" জারী করে। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে সেদিন স্লোগানে স্লোগানে রাজপথ প্রকম্পিত করেছিল বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভূমিকা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ন। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু উত্থাপন করেন আমাদের মুক্তির সনদ "ছয় দফা"।এই ছয় দফা বাস্তবায়নে যে তুমুল আন্দোলন গড়ে ঊঠেছিল, তার নেতৃত্ব দিয়েছিল বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। ১৯৬৯ এর গনঅভ্যুত্থানে লক্ষ লক্ষ ছাত্র জনতার দুর্বার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করে এনেছিল বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

এরপর ৭০ এর সাধারন নির্বাচন এবং ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রায় ১৭ হাজার ছাত্রলীগের নেতাকর্মীর প্রানের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের মহান স্বাধীনতা। ১৯৮১ সালের ১৭ই মে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও এদেশের মেহনতি মানুষের গনতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করার লক্ষে দেশে প্রত্যাবর্তন করেন বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনা। প্রকৃতির শত বাধা সত্ত্বেও সেদিন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ তাঁর পাশে ছিলেন।

২০০৯ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমাদের প্রানের স্পন্দন ,জননেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করে। মাননীয় নেত্রীর গ্রেফতারের প্রতিবাদে এবং দ্রুত নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে সর্বপ্রথম তুমুল আন্দোলন গড়ে তোলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। যার ফলশ্রুতিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমাদের মাননীয় নেত্রীকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। এরপর যতবার এদেশের মানুষের গনতান্ত্রিক অধিকার শৃংখলিত করার চেষ্টা করা হয়েছে,ততবারই দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

তাই বলা যায় "বাংলাদেশ ছাত্রলীগ" একটি সংগ্রামের প্রতিষ্ঠান,একটি গৌরবের প্রতিষ্ঠান,একটি দীর্ঘ ঐতিহ্যের প্রতিষ্ঠান।

সময়ের প্রবাহে দেশের মানুষ ও শিক্ষার্থীদের জন্য নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।

এই মহান প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মী হতে পেরে আমি নিজেকে খুবই ভাগ্যবান এবং সম্মানিত মনে করছি। জয় হোক আমাদের প্রাণের সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের।

লেখক-
সৈয়দ আরিফ হোসেন
সহ-সভাপতি
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ
কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ