যুব বিশ্বকাপ জয়ীদের সংবর্ধনা টিএসসিতে হোক


Dhaka
Published: 2020-02-10 11:49:41 BdST | Updated: 2020-04-04 04:56:44 BdST

যুব ক্রিকেট বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ছেলেগুলো অসাধারণ খেলেছে, দেশে একটি বিশাল সংবর্ধনা এরা পাবেই, শুধু গণভবনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে নয়, সাধারণ সমর্থকদের কাছ থেকে পাবে এরা। টিএসসি-তেই হোক এই সংবর্ধনা। এটি যেন মিরপুরে না হয়, তাহলে সবাই ভিআইপি টিকেট ছড়িয়ে আমাদের বঞ্চিত করবে। একটাই কথা টিএসসিতে হবে এদের সংবর্ধনা।

এরা আর্থিকভাবেও কিছু বোনাস পাবার দাবিদার। এটি তাদের দিন। কিন্তু অবশ্যই এটা যেন তাদের রিটায়ার করার কারণ না হয় ! বুঝলেন আশা করি।

যে ছেলেটির বোলিং গতি ১৯ বছর বয়সে ১৩৩ কিমি , তার গতি ২ বছর পর কেন ১৪০ হবে না? ভেবে দেখেন। মিরাজ কেন আজ জাতীয় দল থেকে বাদ? কোথায় আমাদের সেই এনামুল বিজয়? মোসাদ্দেক-কে বলা হত গেল ১০ বছরের সেরা ব্যাটসম্যান। ফার্স্ট ক্লাস গড় ৬০ ছিল একসময়! কী চিন্তিত? হ্যাঁ , আমিও।

নতুন এদের একটি প্রসেস এর মধ্যে রাখতে হবে। দেশে ঘরোয়া ক্রিকেট কাঠামো নেই, আই রিপিট নেই। তাই এই বাচ্চাগুলোকে নিয়ে আমরা নেচে গেয়ে একদিন হারিয়ে ফেলার ভয়ে থাকি। প্ল্যান করলে ফল দেয় এই প্রথম আমরা দেখলাম। এই প্রথম দল্গতভাবে আমরা খেললাম। ঈশ! ইংল্যান্ডে সাকিব মুশফিকরা যদি এমন একটি টিম পারফরমেন্স পেত আমরা সেমি খেলতে পারতাম। দল ! এই বাচ্চাদের কোন ওয়ান ম্যান শো নেই। এরা একটি দল হিসেবে খেলেছে।

দেশে কোন ক্রিকেট ক্যালেন্ডার আছে? হাহাহহাহা ...।নেই। ২০ বছর পরে নেই কোন ক্যালেন্ডার। কোন ক্লাবের নেই নিজেদের মাঠ। আবাহনীর মাঠ এগুলোতো পাবলিক মাঠ। টিমের মাঠ কই? বিভাগীয় দলের মাঠ কই?

বিভাগীয় একাডেমী তো করেন নাই। এইচপি আছে, কোন রকমে। নজর দিন। বিগাগীয় ক্রিকেট একাডেমী করেন। বিদেশী কোচ আনেন। টাকার অভাব তো আর নাই। বিভাগীয় একাডেমী করেন, তাদের মাধ্যমেই ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচের আয়োজন করেন। ঢাকা ঢাকা করে ক্রিকেট-টাকে নিজের বাসার সম্পত্তি বানিয়েন না। বিভাগীয় একাডেমী হলে কম্পিটিশন বাড়বে। দেশে ভাল উইকেট বানান। কিছু ফাস্ট পিচ, কিছু স্লো, কিছু স্পিনিং ট্র্যাক। তাই খেলা ছড়িয়ে দিন। সব বিভাগীয় শহরে আলাদা আলাদা উইকেট বানান। সবাই যেন এক সিজনে সব উইকেটে খেলতে পারে। সারাক্ষণ মিরপুর আর চিতাংং করে আর নষ্ট কইরেন না। আমরা এখন স্লো পিচেও পারি না, ফ্ল্যাট পিচেও মাত্র ২০০ রান করি। স্পিনিং ট্র্যাক- দূরের কথা।

কাউকে কাউকে ইংল্যান্ডে কাউন্টি না হোক, অন্যান্য লীগ খেলতে পাঠান। দেশের বাইরে এ দল, একাডেমী দল, এইচপি, আন্ডার ২১/২৩ এর বিদেশে পাঠান।

আমাদের একজন ক্যাপ্টেন দরকার। পারফর্মার। আকবর আলী পারবে। আমি সিওর ও পারবে। কিন্তু সে কিপিং করে বলে তাকে মুশফিকের সাথে তুলনা দিয়ে নষ্ট করবেন না। ব্যাটসম্যান হিসেবে সুযোগ দিন। ৪ বছরের মাঝে দায়িত্ব দিতে পারবেন এই ছেলেকে। আমাদের নিজেদের ন্যাশনাল টিমের বোলিং এটাকের চেয়ে ভারতের বাচ্চাদের এটাক অনেক ভাল ছিল। ১৪০+ এর তিনজন পেসার ও ভাল স্পিনার-কে সামলে জেতা সহজ না!

এই ছেলেদের কাউকে জাতীয় দলে সুযোগ দেয়ার আগে ৩০ টি ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ খেলে আসতে হবে। আচমকাই কাল কাউকে জাতীয় দলে নিয়েন না। একমাত্র শরীফুল কে ডাকতে পারেন। আর কাউকে নয় আপাতত। এরা আরও বছর ২ খেলে আসুক। কথা বলা, বা স্লেজিং এর কথার বোধ শেখাতে হবে। গতকাল যে ছেলেটি শ্চীন এর মত একটি ইন্টার্ভিউ দিয়েছে, সেই কিনা চিৎকার করে ... দে বলেছে! সাকিব এর মত প্লেয়ার কিন্তু এইজন্য ৬ মাস নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন। সংযমী হও বাচ্চা।

আমাদের ন্যাশনাল টিম ভাল দল- কিন্তু ভাবনার গলদ আছে। আমরা ভাবতে পারিনা। তাই পাকিস্তানের মত একটা সাধারণ দলের কাছে হেরে লজ্জা পাই না। আফগানিস্তানের সাথে হেরে না। ওয়েট, আমরা জিম্বাবুরের সাথে কদিন আগে হেরেছি! নতুন করে ভাবতে হবে। যে প্লেয়ার-রা আছে এনাফ। এই যে সাইফ ছেলেটি, হয়ত অভিষেকে ভাল করেনি, তার পিঠে হাত রাখুন। তার টেস্ট গড় ৪৫ হবে আমি সিওর। সে অনেকের মত ট্যালেন্ট না যারা ৫ বছর খেলেও ট্যালেন্ট কোটায় খেলে।

আগামী ২/৪/৬ বছর এর প্ল্যানে ন্যাশনাল টিমের পুল করেন। আফিফকে দিয়ে আবার টেস্ট করাইয়েন না। আবার আকবরকে দিয়ে টেস্ট ডেব্যু না করিয়ে ওয়ান ডে তে করান। সৌম্যকে টেস্ট আর খেলানোর দরকার নাই। আবার সাইফকে টি ২০ তে আইনেন না।

হাসান মাহমুদ, মৃত্যুঞ্জয় , শরীফুল্কে আবার টেস্টে ডেব্যু করিয়েন না। কোন লেগি টি ২০, আর কে টেস্টের তা ভাবুন।
২০২৩ সালে বিশ্বকাপ ভারতে। প্ল্যান করেন। টিম বানান। বারবার চেইঞ্জ করবেন না। আগামী ৩ বছর ২০ জনের পুল খেলান। এর একজন ও বেশি না। প্ল্যান করেন। সকল কোটা বাদ দিতে হবে। সিনিয়র কোটা হোক, রুকি বা ট্যালেন্ট কোটা। একটাই যোগ্যতা- পারফরমেন্স।

আর টেস্ট ! এটা কী আবার। ৩ এবং ৩৪? উলটা পালটা বল করা ? হাহহাহা। ভাবেন। টেস্ট এর যে অবস্থা ! ১৬ বছরের একটা ছেলেকে আজ হ্যাট্রিক উপহার দিলাম। কপাল ভাল আমরা বিজয় আনন্দে আছি বাচ্চাদের নিয়ে। নইলে !

আমরা সেরা ওয়ানডেতে । খুব ভাল দল। যদি আজ প্ল্যান করেন ২০২৩ এ ফাইনাল খেলব ইনশাআল্লাহ। ২০২৩ এ আজকের বাচ্চা টিম থেকে আমি ৩/৪ জনের বেশি দেখতে চাইনা। আকবর, হ্রদয়, মৃত্যুঞ্জয় (সেরা পেসার যে ইনজুরিতে ছিল), শরিফুল, রকিবুল এদের থেকে প্লান করে করে ডেব্যু করান। আগে বেশি করে ম্যাচ খেলান।

প্রিয় বাচ্চারা, সাকিব, মুশফিক, তামিমদের অনুসরণ কর। তারা সুপার ট্যালেন্ট না। তারা পরিশ্রমী। তাদের ফলো কর। ট্যালেন্ট তো আশরাফুল বা সোহাগ গাজী ভাই- ও ছিল, ট্যালেন্ট তো স্যার ফিজ, লিটন , সৌম্যরাও ছিল। ট্যালেন্ট চাই না। চাই পরিশ্রম। খেলাটিকে ভালবাস।

এমন দিন আমাদের জীবনে আসুন ফিরে ফিরে।

এবার একটু ধন্যবাদ দেই বোর্ডকে। সরকারি ধন্যবাদ না। মন থেকেই দিচ্ছি। কারণ সুজন দ্যা স্পিড স্টার এর বানানো প্ল্যানেই এগিয়েছে দলটি। খুব বেশি চেইঞ্জ করেনি দলে। জাস্ট তৌহিদের কাছ থেকে নিয়ে আকবরকে অধিনায়কত্ব দিয়েছে। ফাস্ট ও বাউন্সি উইকেটের দেশে এদের ট্যুর করিয়েছে। ২ বছর একসাথে খেলিয়েছে। কোচ ও টিম ম্যানেজমেন্টকে অনেক শুভকামনা। আর বিশেষ করে হেড কোচ ও ফিটনেস ও কন্ডিসনিং কোচ ! অসাধারণ। তাদের চুক্তি নবায়ন করতে পারেন। আর ফিটনেস কোচ কে ন্যাশনাল টিমেও কাজে লাগাতে পারেন। বেচারা ইংরেজ যেভাবে টাইগার লোগোকে ভালবেসে ফেলেছে তাতে সে ইংল্যান্ডে না ফিরলেও ক্ষতি হবে না তার।

২০০৬ এর জুনিয়র টিমের তিনজন - সাকিব, মুশি ও তামিম এক যুগ ধরে আমাদের এগিয়ে নিয়ে গেছে। এই টিমের কাউকে কাউকে তাদের থেকে ভাল করার প্রত্যয় নিয়ে এগুতে হবে।

  • লেখক: দিদারুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক এবং বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব লিডসে পিএইচডি গবেষক