"কভেন নাইনটিনের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ"


Dhaka
Published: 2020-02-25 19:17:38 BdST | Updated: 2020-04-03 15:44:07 BdST

বাংলাদেশ ও চীনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক অনেক পুরানো। বর্তমানে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি আমদানি করে চীন থেকে এবং এদেশের অনেক গুলো মেগা প্রকল্পের সাথে চীন দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। সে সুবাদে ব্যাবসা বাণিজ্যের কাজে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চীন থেকে বাংলাদেশে আসছে এবং বাংলাদেশ থেকে চীনে যাচ্ছে। কিন্তু সাম্প্রতি সময়ে চীনের বিভিন্ন প্রদশে ছড়িয়ে পড়েছে প্রানঘাতী কোভেন নাইনটিন বা করোনা ভাইরাস।

আর যাতে ইতিমধ্যেই সরকারি হিসাবে শুধু চীনেই মারা গেছে প্রায় আড়াই হাজারের বেশি মানুষ। এটা বেসরকারি হিসাবে আরো বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

এছাড়া চীনের পর সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা দক্ষিণ কোরিয়ায়। আর এ ভাইরাসের সংক্রমণে আক্রান্ত চীনের প্রতিবেশী রাষ্ট্রসহ বিশ্বের প্রায় ৩৬ টি দেশ।

ইতিমধ্যে ভারত,নেপাল শ্রীলঙ্কা,আফগানিস্তান, ইরাক,ইরানে এ ভাইরাসের রোগী সনাক্ত হয়েছে।আর এসব রাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগ থাকায় বর্তমানে এ ভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশও। কারণ চীনসহ আক্রান্ত অনেক দেশ থেকে প্রতিদিন কয়েক হাজার যাত্রী আকাশ, নৌ ও স্থলপথে বাংলাদেশে আসছে।যদিও এখন পর্যন্ত বিদেশ ফেরত ৩ লাখ বাংলাদেশিকে স্ক্যানিং করা হয়েছে। তাদের কারো মাঝেই এ ভাইরাসের লক্ষণ পাওয়া যায়নি।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাংলাদেশ অনেক বেশি ঘনবসতিপূর্ন দেশ হওয়ায় যদি এ ভাইরাস কোনভাবে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে পরিস্থিতি অনেক ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। এবং এ পরিস্থিতি মোকাবেলা করা বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

তাই বাংলাদেশের উচিত হবে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত চীনসহ আক্রান্ত দেশগুলোর সাথে যোগাযোগ অনেকাংশে কমিয়ে আনা। সে জন্য হয়তো অর্থনৈতিক অবস্থা একটু খারাপ হতে পারে।কিন্তু তার চেয়ে বেশি খারাপ অবস্থা হবে যদি এ ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। তাই সরকারের উচিত জনগণের জান মালের কথা চিন্তা করে আরো বেশি সচেষ্ট হওয়া। যাতে কোন অবস্থাতেই যেন এ ভাইরাসের স্বীকার বাংলাদেশের মানুষ না হয় এবং সেজন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা আগে থেকেই তৈরি রাখতে হবে।

লেখক: সাজিদ খান সাহিদ , শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়