ডাকসুতে ভিপি নুর ও আখতারের চেষ্টার কমতি ছিলনা: মামুন


Dhaka
Published: 2020-06-24 12:49:59 BdST | Updated: 2020-07-05 06:10:45 BdST

ডাকসু নির্বাচনের পর শিক্ষার্থীদের যতটুকু প্রত্যাশা ছিলো, সেই প্রত্যাশার সাথে হয়তো আমাদের মিলবন্ধনে ঘাটতি রয়েছে। তবে ছাত্র অধিকার পরিষদের প্রধান হয়ে দায়িত্ব নিয়েই বলছি, আমরা যে দুইটা চেয়ারে ছিলাম সেখানে বসে চেষ্টার কোনো কমতি ছিলোনা আমাদের।

২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের পর থেকে আজ অবদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন ভাই- বোন বলতে পারবেন না যে, ছাত্র অধিকার পরিষদ তাদের যেকোনো সমস্যা সংকটে তাদের পাশে দাড়ানোর চেষ্টা করেনি। শিক্ষার্থীদের আর্থিক সমস্যা, টিউশন সমস্যা, পারিবারিক সমস্যা, হামলা - মামলা ও তাদের অধিকার আদায়ে সব সময়ই পাশে থাকার চেষ্টা করেছি আমরা। যেখানে অনেকে হামলার ভয়ে, মামলার ভয়ে, চাকরি না হওয়ার ভয়ে এবং হলে সিট হারানোর ভয়ে ফেইসবুকে রিয়েক্ট পর্যন্ত করতে ভয় পায়, সেখানে আমরা আপনাদের অধিকার আদায় করতে গিয়ে, আপনাদের পাশে দাড়াতে গিয়ে বার বার রক্তে রঞ্জিত হয়েছি। শত বাধা বিপত্তি হুমকির পরেও কিন্তু আমরা দমে যাইনি, নিস্কৃয় হয়ে যাইনি। আগের মতোই আমাদের চেষ্টার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছি।

২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি কেমন ছিলো, তখন যারা ক্যাম্পাসে ছিলেন তারা হয়তো জানেন। হল গুলোতে ভিন্ন মতের কেউ তো থাকতে পারতোই না, সারারাত রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে প্রক্টরকে ডেকে এনে থানায় দিতো, পিটিয়ে হলের মাঠে ফেলে রাখা হতো। আপনার বন্ধুর সাথে মনমালিন্য হয়েছে, তার পলিটিকাল বন্ধু কিংবা পলিটিকাল বড় ভাই দিয়ে আপনাকে ব্লেইম দিয়ে হল থেকে বের করে দেওয়া মতো নিকৃষ্ট ঘটনাও ঘটতো অহরহ।

ফারুক, নুর, মামুন, রাশেদ

ছাত্রদলের ক্যাম্পাসে সহাবস্থান ছিলো না। সেক্ষেত্রে বাম রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে যারা সম্পৃক্ত, তারা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ করতো। ন্যায্য দাবি আদায়ে তখন বিভিন্ন বাম সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে রক্তাক্ত হতে হতো। সেসব হামলার কোন বিচায় বা সুষ্ঠু তদন্ত পর্যন্ত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অগণতান্তিক স্বৈরাচারী চরিত্র সম্পর্কে আমরা ঐসব ঘটনার মাধ্যমে অল্প হলেও বুঝতে পারি।

নুর কি করেছে বা কি করতে পারিনি সেই প্রশ্ন রাখতে চাই তাদের কাছে, যাঁরা শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে কাজ করার জন্য ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে মাঠে ছিলো। যেমন, ১.উম্মে হাবিবা বেনজীর আপু ২. সালমান ভাই ৩. ফয়জুল্লা ভাই ৪. অরণী ৫. ইমি ৬. মানছুরা ৭. কানেতা ৮. রাজিব দাদা ৯. সুজন ভাই ১০. সাকিব ভাই সহ আরো অনেকেই আছেন। এই মানুষ গুলো ভালো ভাবে জানে, নুর আর আখতার কি করার চেষ্টা করেছে আর কি করেনি।

ডাকসুতে আমাদের উপর কেনো হামলা হয়েছে? লাইব্রেরীর সামনে আমার উপর কেনো হামলা হয়েছে? এসএম হলে বেনজির আপুর পেটে কেনো লাথি মারা হয়েছে? এসএম হলে ইমি সহ আমাদের উপর কেনো নির্যাতন করা হয়েছে? মধুর ভেতরে, পায়রা চত্বরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উপর কেনো হামলা করেছে?রাজুর সামনে, টিএসসিতে, এফবিএসে কেনো আমাদের উপর হামলা হয়েছে জানেন?

আখতার

কারণ সুস্পষ্ট আমরা প্রতিবাদ করি। অন্যায় অবিচার দেখলে সবার আগে এগিয়ে যাই। বিপদে পাশে থাকার চেষ্টা করি। অধিকার আদায়ের অান্দোলনে আমরা শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করার চেষ্টা করি বলেই। এই প্রতিবাদ টুকু করি বলেই হয়তো বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ অাগের থেকে পরিবর্তন হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকারের বিষয়ে সচেতন হওয়া শুরু করেছে। শিক্ষার্থীদের হলে একটি বৈধ সিটের পাওয়ার অধিকার রয়েছে। বৈধ সিটের জন্য একমাত্র ছাত্রলীগ ব্যতীত সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে চেষ্টা করেছে। পারেনি কারণ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চরিত্র ক্ষমতার সাথে সম্পর্কিত। দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রাম আর রাজনীতির সাথে যুক্ত থেকে কাছ থেকে দেখেছি ও জেনেছি এদের চরিত্র সম্পর্ক।

আমরা আসলে কারা? আমাদের পেছনে তো বড় বড় রাজনৈতিক দল ও বড় বড় রাজনৈতিক ব্যক্তির হাত নেই। আমরা যে আপনাদের মধ্যে থেকে উঠে আসা সাধারণ পরিবারেরই মানুষ। আমাদের পেছনে পরিবার ছাড়া আর অধিকার আদায়ের সংগ্রামী মানুষ গুলো ছাড়া কেউ নেই। যারা আমাদের সমর্থন দেন, তারা আমাদের ভালোবেসেই দেন। দিন শেষে একটি কথাই বলবো, আপনার মতো আমারও পরিবার আছে, বাবা মায়ের স্বপ্ন ছিলো আজও আছে। আপনার আমার স্বপ্ন তো ছিলো সমান্তরাল। কিন্তু আজ যখন আপনি লাইব্রেরীতে পড়তে যান, ঠিক তখনি আমি আপনার অধিকার নিয়ে রাজপথে মিছিল করি, শ্লোগান তুলি। স্বপ্ন দেখি প্রতিটি মানুষ যেন নাগরিক হিসেবে, শিক্ষার্থী হিসেবে তার যে অধিকার রয়েছে সেটা পায়। আর সেই অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আমরা যারা সামিল হয়েছি তারা আজীবন সেই সংগ্রাম চালিয়ে যাবো।

পরিশেষে যেদিন ৪৩ হাজার শিক্ষার্থীর সিট সংকট দূর করতে পারবো, হলে হলে নির্যাতন বন্ধ করে আপনার জন্য একটি নিরাপদ ক্যাম্পাস উপহার দিতে পারবো এবং আপনার অধিকার নিয়ে স্বাধীনভাবে চলতে পারবেন সেদিনই আমরা স্বার্থক। ভালো থাকুক প্রাণের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সেই দিনের অপেক্ষায় অধিকার আদায়ের আন্দোলন সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।

লেখক: হাসান আল মামুন
আহ্বায়ক
বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।