আজ খুব ভোরে ঘুম ভেঙে গেল আমার


USA/Prothomalo
Published: 2020-06-28 15:28:52 BdST | Updated: 2020-07-12 14:52:55 BdST

বসন্তে ইংল্যান্ডের ভোর হয়ে যায় চারটার দিকে। আকাশটা ভোরের অদ্ভুত সুন্দর লাল-গোলাপি আভায় রাঙা হয়ে ওঠে আর পাখিদের কিচিরমিচির যেন সবকিছু আরও মধুময় করে তোলে। ইংল্যান্ডে লকডাউন চলছে। আমরা চারজনই বাসায় বন্দী। গ্রোসারি শপিং ছাড়া কোথাও বের হচ্ছি না। আমি আর আমার স্বামী work from home করছি।

বাচ্চারাও বাসায়। আসলে ওদের বাচ্চা বলা ঠিক হচ্ছে না। মেয়েটা ইউনিভার্সিটির সেকেন্ড ইয়ার শেষ হওয়ার আর ছেলেটার এবার ‘এ’ লেভেল দেওয়ার কথা ছিল। পরীক্ষা বাতিল হয়ে যাওয়ায় ছেলের রুটিন বলে কিছুই নেই। যে যার রুমে নিজেদের মতো করে ল্যাপটপ আর মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত। আসলে আমরা চারজন এক ছাদের নিচে থেকেও যেন বিচ্ছিন্ন দ্বীপে বাস করছি। কোনো কথা নেই। যার যখন ইচ্ছা হচ্ছে, খিদে পাচ্ছে, খাচ্ছে। আমার কাজ রান্না করে রাখা, তা-ই করছি। প্রবাসে ছেলেমেয়েরা মনে হয় এভাবেই বেড়ে ওঠে। একটা সময় তাদের বন্ধুদের নিয়ে নিজেদের জগৎ তৈরি হয়, যেখানে বাবা-মায়ের প্রবেশ নিষেধ!!


বেডরুমের দরজাটা আস্তে করে লাগিয়ে নিচে চলে এলাম। খুব কফি খেতে ইচ্ছা করছে, কিন্তু বানাতে ইচ্ছা করছে না। গায়ে হালকা চাদর জড়িয়ে বাগানের দরজা খুলে ছাতার নিচে পেতে রাখা চেয়ারে বসলাম। নিউজ আপডেট দেখব না কি, না থাক! প্রতিদিন মৃতের সংখ্যা আর জানতে ভালো লাগে না। এ তো শুধু সংখ্যা নয়, প্রতিটি সংখ্যা এক-একটি পরিবারের প্রিয়জন হারানোর দীর্ঘশ্বাস!! রোজ নামাজের পাটিতে বসে দোয়া করি যেন পরম করুণাময় আমাদের সবাইকে এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করেন! ! ইদানীং ফেসবুক দেখতেও ভালো লাগে না। সবাই এই করোনা ভাইরাস নিয়ে বিভিন্ন পোস্ট দিচ্ছে। বেশির ভাগই ভুল তথ্য দিয়ে ভরা এবং খুবই যন্ত্রণাময়!! তবু ম্যাসেঞ্জার, ভাইবার আর স্কাইপে থাকায় সবার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে, অন্তত সবার মুখ দেখতে পাচ্ছি। অনেক বন্ধু, রিলেটিভ, যাদের সঙ্গে অনেক বছর যোগাযোগ নেই, তারাও কেমন আছি জানতে খবর নিচ্ছে।

ফোন আনলক করতেই দেখলাম তিনটা মিসড কল, ভোর চারটায় এসেছে। আমার স্কুল-কলেজের বেস্ট ফ্রেন্ড নাবিলার কল ঢাকা থেকে। এখন সকাল ছয়টা। রোববার, তাই কাজের তাড়া নেই আজ। কথা বলা যায়। দুটা রিং হতেই নাবিলা ফোন ধরল।
বলল, ‘স্যরিরে, বুঝতে পারিনি তোদের ওখানে বিকেল নয়, রাত চারটা। আমার মেয়ে গুগলে টাইম চেক করে পরে বলল। লকডাউনে মাথা লক হয়ে আছে। কেমন আছিস?’
—ভালো আছি। বাসায় আছি সবাই। work from home করছি। তোদের কী খবর?
—আমাদের আর খবর! দাঁড়া, ক্যামেরা অন করি। কাজ করতে সুবিধা হয় তাহলে।
নাবিলা ক্যামেরা অন করল। বন্ধুকে দেখে মনটা খারাপ হয়ে গেল। রংচটা একটা ম্যাক্সি পরা, এলোমলো চুল চূড়া করে খোঁপা করা। সুন্দর মুখটায় অযত্নের ছাপ। হাতে গ্লাভস পরা। মনে হয় কিছু একটা ক্লিন করছে। অথচ এই নাবিলাই ক্লাসের সবচেয়ে স্মার্ট মেয়ে ছিল। নতুন ফ্যাশনের যেকোনো কিছু ও-ও শুরু করত!!
বললাম,
—কী করিস গ্লাভস পরে?
—আর কী করব, রান্নাঘর পরিষ্কার করি। দুই সপ্তাহ হলো কাজের বুয়াকে দুই মাসের বেতন দিয়ে ছুটি দিয়ে দিলাম। এখন আমিই বুয়া। দিনে দুবার ডেটল দিয়ে ঘর মুছি। জানালা-দরজা মুছি, রান্না করি আর মেয়েদের পড়া তো আছেই!!
—ঢাকায় তো স্কুল সব বন্ধ। তোর মেয়েরা কোনো ক্লাসে পড়ে?
—বড়টা ফাইভে আর ছোটটা থ্রিতে। স্কুল বন্ধ তো কী হলো! প্রথম সাময়িক পরীক্ষা ক্যানসেল হয়ে গেল। এদিকে সিলেবাস শেষ হয়নি। এত চেষ্টা করে হলিক্রস স্কুলে দিলাম, কী লাভ হলো!! পড়ালেখা কিছুই হচ্ছে না!
আমি হাসলাম। বললাম,

—তোর মেয়ের প্রথম সাময়িক পরীক্ষা হবে না, এতেই এত চিন্তা করছিস? আমার ছেলের তো ‘এ’ লেভেল ক্যানসেল হয়ে গেল, জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষা!! তাহলে আমি কী বলব!
—তোদের ব্যাপার আলাদা। ফার্স্ট ওয়ার্ল্ডে আছিস, অত ভাবতে হয় না। যা-ই হোক, খাবার স্টকে আছে তো? রাজীব ১০ কেজি মাংস, ১২টা মুরগি আর ৩টা বড় রুই মাছ এনে দিয়েছে গত সপ্তাহে। বলতো এত কমে কী হবে? কত দিন যাবে!! এখনো বাজার করা শিখল না!! আমি ঠিক করলাম একটা পিপিই জোগাড় করে আমি নিজেই যাব। এত টেনশন ভালো লাগে না।
—এ তো অনেক বাজার!! তোদের তো এক মাসের ওপর চলে যাবে!!
—কী যে বলিস!! লকডাউন যদি আরও বাড়ায় তখন? চাল অবশ্য ৩০ কেজি আনিয়ে রেখেছি!! শোন না, ভেজিটেবল কীভাবে ডিসইনফেক্ট করিস? আমি গতকাল বাজার থেকে আনার পর ব্লিচ দিয়ে বারান্দায় সারা দিন ভিজিয়ে রেখেছিলাম। বিকেলে দেখি সব কালো হয়ে গেছে। কী আর করা! সব ফেলে দিলাম। দাঁড়া, একটু ধরতো!!
আমি ফোন ধরে আছি। নাবিলা তার মেয়েদের পড়া দেখাচ্ছে। আবার ফোন ধরে বলল,
—উফ!! বাচ্চাদের পড়ানো আরেক যন্ত্রণা! কত দিক দেখব! এদিকে সাহেব work from home করছে আর ঘণ্টায় ঘণ্টায় চা চাচ্ছেন!!
—রাজীব ভাই তোকে বাসার কাজে হেল্প করে না?
—ও ছেলে মানুষ! ও কী হেল্প করবে? বলেছি দু-একবার। এতে শুধুই অশান্তি হয়, আর কিছু না!!
—খালাম্মা কেমন আছেন?
—মায়ের সঙ্গে ২-৩ দিন কথা হয়নি। আছে ভালোই।
—অন্য বান্ধবীদের সঙ্গে কথা হয়? সোনিয়া, দোলা ওরা কেমন আছে?
—জানি না রে! সংসার, মেয়েদের পড়ালেখা নিয়ে এত ব্যস্ত থাকি, ফোন করা হয় না!!
—আচ্ছা শোন রাখি!! মেয়েদের লাঞ্চ টাইম। মুখে না তুলে দিলে খাবে না এরা!! ভালো থাকিস। পরে কল করব!!
আল্লাহ হাফেজ!!

ফোনটা রেখে ফুলের ঝোপের দিকে তাকালাম!! গাছ ভরা গোলাপি ফুল!! কী হালকা একটা মিষ্টি সুবাস ছড়াচ্ছে। আমার বান্ধবী নাবিলা পারফিউম খুব পছন্দ করত। কী যে ভালো আবৃত্তি করত। স্কুল-কলেজের সব প্রোগ্রামে উপস্থাপনায়, আবৃত্তিতে ও ছিল অদ্বিতীয়। ও মনে হয় নিজেই তা ভুলে গেছে!!

আজকে ওরই পড়া রবিঠাকুরের ‘হঠাৎ দেখা’ কবিতার একটা লাইন বলতে ইচ্ছা করছিল—
‘আমাদের গেছে যে দিন, একেবারেই কি গেছে? কিছুই কি নেই বাকি’??
আচ্ছা, আমিও কি সেই আগের আমিকে ভুলে গেছি?? হয়তো-বা তা-ই!! সময় মানুষকে অনেক কিছু ভুলিয়ে দেয়।

‘মা’
নরম মিষ্টি ডাকে বাস্তবে ফিরে এলাম। বাগানের দরজা ধরে দাঁড়িয়ে আছে আমার মেয়ে। সাদা রোব পরা আমার ১৯ বছরের মেয়ের নিষ্পাপ মুখে সকালের মিষ্টি রোদ এসে পড়েছে। মনে হচ্ছে ছোট একটা সাদা পরি ভুল করে আমার বাগানে চলে এসেছে! ওর তো সারা রাত জেগে এখন ঘুমানোর কথা!!
—Good Morning মা!! আজ এত সকালে উঠলে যে?
—Good Morning!!
—ঘুম ভেঙে গেল। ভাবলাম কোর্সওয়ার্ক করি। it’s due on next week. মা, কফি কোথায় রেখেছ?
—কাবার্ডের সেকেন্ড শেলফে দেখ।
-ok, thanks
কী মনে করে আবার ঘুরে তাকিয়ে বলল,
—do you want a cup of coffee?
হেসে বললাম,
—would love to!!
দুকাপ কফি হাতে সারা এসে দাঁড়াল।
—এই যে নাও তোমার কফি।
—thanks a million মা! you read my mind.
—বস না আমার সঙ্গে একটু। মা-মেয়ে এই সুন্দর সকালে গল্প করি!
সারা বসতে বসতে মুখ বাঁকিয়ে বলল,
—we never have a conversation মা। it’s all about your lecture!
কফিতে চুমুক দিয়ে বললাম,
—দারুণ হয়েছে!
তাহলে আমাদের কথা তোমার লেকচার মনে হয়?
-well, most of the time. তোমাকে কিছু বলার ছিল।
—বল
—লকডাউনের পর আমি ডরমেটরিতে শিফট করতে চাই। সামনে এক্সাম।
—কেন? বাসায় তোমার ডিস্টার্ব হচ্ছে?
—not really! কিন্তু গরমে বন্ধুদের সঙ্গে গ্রুপ স্টাডি করতে পারি, লাইব্রেরি ওয়ার্ক করতে পারি। প্রিপারেশন নিতে সুবিধা হয়।
—সে তো রোজ বাসা থেকে যেয়েও করতে পারো!
—come on Ma!! It’s so boring to be at home. I am feeling suffocated now a days.
—সারা দিন ঘুমাও, সারা রাত জাগো। আমাদের সঙ্গে তোমার কোনো কথাই হয় না গত তিন সপ্তাহ।
—উফ, শুরু হলো তোমার লেকচার। তুমি আর বাবা সারা দিন work from home করো। সাদিও সারা দিন ঘুমায়। আমি কী করব??
—আমরা ফ্যামিলি টাইম কাটাতে পারি। এ রকম অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে সবাই একসঙ্গে থাকতে পারছি, এটা অনেক বড় ব্যাপার। আমরা বিকেলে একসঙ্গে গল্প করতে পারি, নতুন কোনো খাবার আইটেম বানাতে পারি, সাদির গিটার শুনতে পারি অথবা তোমার গান!!
—তুমিও তো খুব ভালো গান করো মা!
—করতাম একসময়। কিন্তু তোমরা কখনো শুনতে চাও না। গান, নাচ, গিটার, আবৃত্তি শুধু অনুষ্ঠানে করার জন্য নয়। এসব নিজের ভালো লাগার জন্য, নিজের কাছের মানুষের জন্যও চর্চা করা যায়।
—যা-ই হোক, গত রাতে আমার খুব মাইগ্রেনের পেইন শুরু হয়েছিল। তাই না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। তাই এত সকালে ঘুম ভেঙে গেল।
-really?? আমি তো কিছু জানি না।
আমি হাসলাম।
—তুমি রুম থেকে বের হলে তো জানবে!!
—OH! That doesn’t mean that I don’t care.
—জানো মা, ছোটবেলা থেকে আমার এই মাথাব্যথাটা হয়। এখন সহ্য করি। তখন খুব কাঁদতাম। মা মাথায় পানি দিত আর দোয়া পড়ত। আমার বাবা খুব চাপা স্বভাবের ছিলেন। উনি তেমন কাছে আসতেন না। রাত গভীর হলে ধীরে ধীরে ব্যথাটা যখন কমে আসত, আমি জেগে জেগে বাবার জন্য অপেক্ষা করতাম। আমি জানতাম, বাবা এশার নামাজ পড়ে আমার ঘরে পা টিপে টিপে আসবে, আমার মাথার কাছে দাঁড়িয়ে আমাকে দেখবে, তারপর অতি সাবধানে দরজা লাগিয়ে চলে যাবে, যাতে আমার ঘুম না ভাঙে!

বাবা কখনো জানতে পারেনি, আমি পুরোটা সময় জেগে তার আসার অপেক্ষা করতাম। তার গায়ের আতরের গন্ধ, নিশ্বাসের শব্দ, চিরচেনা পায়ের শব্দ যেন আমার চোখে ঘুম এনে দিত।

কাল রাতে একা শুয়ে শুয়ে অনেক দিন পর বাবার মতো কারও জন্য অপেক্ষা করছিলাম।
—OH Ma! I am feeling guilty now.
—please don’t!!

আমি শুধু আমার ফিলিংস তোমার সঙ্গে শেয়ার করছি। একটা বয়সে মা-বাবা, ছেলেমেয়ে সবাই বন্ধুর মতো সব শেয়ার করতে পারি, তাই না? আমার মনে হয় তুমি আমাদের এখন বুঝতে পারবে।
—কাল রাতে আমি তোমার শরীর খারাপ ছিল জানতাম না।
that doesn’t mean I don’t love you!!

—আমি তা বলিনি। তোমাকে আজকে কিছু কথা বলব আমাকে আর তোমাদের বাবাকে নিয়ে। অবশ্যই লেকচার না। আমাদের জীবনের অভিজ্ঞতা বলতে পারো।

আমরা এই দেশে সুন্দর একটা ভবিষ্যতের আশায় প্রায় ২০ বছর আগে এসেছিলাম দুটা স্যুটকেস আর হাজার স্বপ্ন নিয়ে। প্রবাসে প্রথম জেনারেশন হলে যা হয়!! শূন্য থেকে শুরু। এর মাঝে তোমাদের দুই ভাইবোনের জন্ম। আমরাও একসঙ্গে নিজের পায়ে দাঁড়াতে আর তোমাদের বড় করার আপ্রাণ চেষ্টা করছি। দেখতে দেখতে বছরগুলো কেটে গেছে ব্যস্ততায়। মোটামুটি নিজেদের পায়ের নিচে মাটি তৈরি করে যখন ফিরে তাকালাম, তোমরা অনেক বড় হয়ে গেছ। হঠাৎ মনে হলো, তোমাদের ছোটবেলার কত কিছু মিস করেছি, স্পোর্টস ডে, কালচারাল ইভিনিং, প্যারেন্টস ইভিনিং!! আর তোমাদের সঙ্গেও দৈনন্দিন খাবার আর পড়ালেখার কথা ছাড়া আর কোনো কথা বলার সময় হয়নি। শুধু পরের দিনের রুটিন ছাড়া। এসব করেছি তোমাদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে। কিন্তু তার পরও তোমাদের সব চাওয়া-পাওয়া, হলিডেতে যাওয়া আর সব আবদার পূর্ণ করার চেষ্টা করেছি।

দীর্ঘ সময় প্রবাসে থাকায় দেশের আত্মীয়, বন্ধুদের সঙ্গে একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে। ওরা আমাদের আর আগের মতো বুঝতে পারে না। দিন শেষে আমি আর তোমার বাবা আমরা দুজন হঠাৎ একা হয়ে গেছি!! আমাদের পৃথিবী এখন তোমাদের দুই ভাইবোনকে ঘিরে। তোমরা বড় হচ্ছ। কিছুদিন পর তোমাদের নিজেদের ক্যারিয়ার হবে, ফ্যামিলি হবে। তখন আমরা আরও দূরে সরে যাব। তাহলে কেন এখন আমাদের একে অপরের সঙ্গ বোরিং মনে হবে?

আমরা মা-বাবা হলেও রক্তে-মাংসে গড়া মানুষ। তোমাদের মতো আমাদেরও কখনো ‘good day’ অথবা ‘bad day’ যায়। দিন শেষে ইচ্ছা করে আপনজনের সঙ্গে সময় কাটাতে। ইচ্ছে করে কেউ জিজ্ঞেস করুক, How was your day?

কেয়ার করা মানে সারা দিন গলা জড়িয়ে ধরে ‘I love you’ বলা নয়। ‘I do care’ মানে তোমার আমাকে কফি বানিয়ে দেওয়া, আমার বাবার আমাকে নিঃশব্দে দেখে যাওয়া, কারও মন খারাপ থাকলে কিছু না বলে পাশে কিছুক্ষণ বসে থাকা, কিছু না বলেও বলা, ‘যাই হোক না কেন, আমি তো তোমার পাশে আছি!!’

Words don’t express everything but action does!
Family is not about only ‘me’, it’s all about ‘us’!!

অনেক বড় লেকচার হয়ে গেল, তাই না মা?
আমি হাসলাম!
সারা চোখ নামিয়ে নিল। কিছুক্ষণ চুপ থেকে উঠে দাঁড়াল। ভাবলাম চলে যাচ্ছে। কিন্তু হঠাৎ আমার পেছনে এসে গলা জড়িয়ে ধরে বলল,
—অনেক দিন তোমার গান শুনি না মা!! একটা গান শোনাবে!!

কিছুক্ষণ আগে নিজেকে করা প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেলাম!!
‘রাতের সব তারাই আছে দিনের আলোর গভীরে!!’
আমি হয়তো দেখতে পাই না!!
নীল আকাশটাতে চোখ রেখে গাইলাম,
—‘নব আনন্দে জাগো
আজি নব রবির কিরণে’!!!!

*[email protected]