শতবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা


ঢাবি টাইমস
Published: 2020-06-30 14:13:15 BdST | Updated: 2020-08-09 11:52:51 BdST

‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ। ১ জুলাই এ বিদ্যাপীঠের ৯৯ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। এদিন শততম বর্ষে পা রাখবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এ দিনটি ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ হিসেবেই পালিত হয়।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে বিভিন্ন সংকট। এসব সংকট নিয়ে নিজেদের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী।

বিশ্বধর্ম বিভাগের শেষ পর্বে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী আদনান সাকিব বলেন, প্রতিষ্ঠার ৯৯ বছরেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ণাঙ্গ আবাসন বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হতে পারেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সমস্যার মধ্যে প্রধান হচ্ছে আবাসন সমস্যা। তাই এ সমস্যার সমাধান হওয়া জরুরি।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সিরাজুল ইসলাম রুবেল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ একটি অস্বচ্ছ প্রক্রিয়া। মেধার পরিবর্তে দলীয় বিবেচনায় শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। ফলে অনেক মেধাবীরা শিক্ষকতা করার ইচ্ছা থাকলেও এ পেশায় আসতে পারেন না। যারা আসেন তারা বইয়ের পরিবর্তে বিভিন্ন প্যানেলের শিক্ষকদের তালিকা বেশি মনে রাখার চেষ্টা করেন। অর্থাৎ শিক্ষা প্রদানের পরিবর্তে শিক্ষক রাজনীতিই হয়ে পড়ে তাঁদের মুখ্য বিষয়। কারণ রাজনীতি না করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাল পদে যাওয়া যায় না। যদিও আগের তুলনায় এ সমস্যা একটু কমেছ।

ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা আমিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগসমূহের মাঝে এক ধরণের বৈষম্য দেখা যায়। কিছু কিছু বিভাগ অনেক বেশী সুবিধা পায় যেটা উচিত নয়। আমার প্রত্যাশা থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই যেন সমান সুবিধা পায়।

মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র শেখ ইমতিয়াজ বাবু বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণাধর্মী বিশ্ববিদ্যালয় নয়। এখানে গবেষণার পর্যাপ্ত সুযোগ নেই। গবেষণায় বরাদ্দ মাত্র মোট বাজেটের ৫.৪ শতাংশ। আমি মনে করি এটি ২০ শতাংশের উপরে হওয়া উচিত। পর্যাপ্ত গবেষণার অভাবে আমাদের মত প্রায়োগিক বিষয়গুলোর অনেক ছাত্র স্নাতক শেষ করে বাইরের দেশে চলে যাচ্ছে। এভাবে সবাইকে চলে যেতে হলে দেশ মেধাশূন্য হয়ে পড়বে।

বাংলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র নাজমুল হাসান বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তবুদ্ধির চর্চা করে। আমরা রাজনৈতিক সহনশীলতায় বিশ্বাসী। আমরা চাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস দল মত নির্বিশেষে সকল ছাত্রদের পদচারনায় মুখরিত হোক। বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে এটাই আমার প্রত্যাশা।

এছাড়াও পরবর্তী ডাকসু নির্বাচন যথাসময়ে দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন অতি দ্রুত ডাকসু নির্বাচনের নির্দিষ্ট সময় ঘোষণা করা উচিত ।

এদিকে আরেকদল শিক্ষার্থী বলছেন , বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গেস্টরুম ও গণরুম প্রথা দূরীকরণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্র সংগঠনগুলোকে নৈতিকভাবে একমত হতে হবে ।এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা মূলক কর্মকান্ডে আরো বেশি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তাদের এসব প্রথা দূরীকরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

শতবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত মূলত তিনটি সমস্যা সমাধানের

1। আবাসিক সংকট দূরীকরণ 

2। গেস্টরুম ও গণরুম প্রথা দূরীকরণে

3। গবেষণায় বাজেট বৃদ্ধি 

এছাড়া অনেক শিক্ষার্থী বলছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা উচিত এবং মাস্টার্সে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষার্থী ও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেধাবী শিক্ষার্থীকে ভর্তির সুযোগ দেওয়া উচিত।