প্রশ্নপত্র ফাঁস :সমাধান কী?


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2018-02-10 01:52:34 BdST | Updated: 2018-02-25 13:38:09 BdST

বাংলাদেশে প্রশ্নপত্র ফাঁস যেন একটি স্বাভাবিক ব্যাপার হইয়া গিয়াছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে নানা সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া সত্ত্বেও এই সংক্রান্ত অপরাধীদের দৌরাত্ম্য থামানো যাইতেছে না। আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তরফে প্রশ্নফাঁসের ঘটনা অস্বীকার করা হইলেও এখন ইহা স্বীকার না করিবার উপায় নাই। তবে লক্ষণীয় এই যে, সকলেই কেবল সমস্যা ও উদ্বেগের কথাই বলিতেছেন। ইহার কার্যকর সমাধানের কথা খুব কমই উঠিয়া আসিতেছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কী করা যায় ইহা লইয়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নূতন করিয়া শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিক্ষাবিদ ও দেশের গণ্যমান্য ব্যক্তি, গবেষক, চিন্তাশীল ও সৃজনশীল মানুষের সম্মেলন হওয়া দরকার। সেখান হইতে সমাধানের একটি উপায় ও পথরেখা বাহির হইয়া আসিতে পারে।

ইত্তেফাকে টেলিফোনে ও ই-মেইলে প্রাপ্ত এই সংক্রান্ত পাঠকদের মতামত ছাপা হইয়াছে গতকাল শুক্রবার। মোটা দাগে ও সুনির্দিষ্টভাবে যেসব সমাধান বাতলানো হইয়াছে তাহা হইল—প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীদের ধরাইয়া দিতে অর্থ-পুরস্কারের ঘোষণা অব্যাহত রাখা, প্রশ্নপ্রণয়নকারীদের ব্যতিক্রমী প্রশ্নপত্র (প্রশ্নপত্র ফাঁস হইলেও যাহাতে না মিলে) প্রণয়নে প্রশিক্ষণ দেওয়া, কঠোর শাস্তি আরোপ করিয়া নূতন আইন তৈরি করা, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন হইতে শুরু করিয়া ছাপা ও বিতরণ পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে কঠোর নজরদারি করা, আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠনপূর্বক মনিটরিং জোরদার করা, প্রশ্নপত্র প্রণয়নে আগের ধারায় (রচনামূলক বড় ও ছোট প্রশ্ন) প্রত্যাবর্তন করা, প্রশ্নের ধারাবাহিকতায় পরিবর্তন করা, অভিন্ন প্রশ্নপত্র প্রণয়নে পৃথক বোর্ড গঠন করা, কোচিং সেন্টার বন্ধ করা, সত্ ও দক্ষ লোকদের সঠিক জায়গায় পদায়ন, প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণের ঊর্ধ্বে রাখা ইত্যাদি। কেহ কেহ পরীক্ষার দুই ঘণ্টার আগে প্রশ্নপত্র ছাপানোর ব্যবস্থা করিবার কথা বলিয়াছেন। আবার কেহ কেহ আরো নির্দিষ্ট করিয়া বলিয়াছেন যে, একসঙ্গে দশ সেট প্রশ্নপত্র ছাপাইবার পর পরীক্ষার পাঁচ মিনিট আগে কেন্দ্র সচিবকে জানানো হইবে কোন সেটে নেওয়া হইবে পরীক্ষা। আবার কেহ আরো একধাপ আগাইয়া গিয়া বলিয়াছেন যে, এমন এক প্রশ্নব্যাংক গড়িয়া তুলিতে হইবে যাহাতে থাকিবে পঞ্চাশ বা একশত সেট প্রশ্ন। শুধু পরীক্ষার কয়েক মিনিট আগে কেন্দ্র হইতে ঘোষণা করা হইবে কোন সেটে নেওয়া হইবে পরীক্ষা। ইহা শিক্ষামন্ত্রী লটারির মাধ্যমেও সম্পন্ন করিতে পারেন। ইহাতে প্রশ্নপত্র ছাপাইবার কোনো ঝামেলা থাকিবে না। কেবল বোর্ডকৃত প্রশ্নব্যাংক (উত্তরছাড়া) আগে হইতে সরবরাহ করা হইবে শিক্ষার্থীদের।

উপরিউক্ত ও আরো অন্যান্য পরামর্শ নিয়া আলাপ-আলোচনা চলিতে পারে। তবে এইসব প্রচেষ্টার মূল উদ্দেশ্য হইতে হইবে প্রকৃত মেধাবীদের বাছাই করা এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন করা। আমরা মনে করি, বর্তমানে সৃজনশীল শিক্ষাপদ্ধতি সৃজনশীলতা বৃদ্ধির পরিবর্তে জটিলতা সৃষ্টি করায় তাহা শিক্ষার মানোন্নয়নে ব্যর্থ হইয়াছে। নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের মাধ্যমেও তাহারা অর্জন করিতেছে ভাসা ভাসা জ্ঞান। এইসব পদ্ধতি প্রশ্নপত্র ফাঁসের সহায়ক কিনা তাহা লইয়াও ভাবিতে হইবে। সুতরাং শিক্ষা ও পরীক্ষা পদ্ধতি এমন হইতে হইবে যাহাতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো অবকাশ না থাকে এবং একই সঙ্গে বাস্তব জীবনে তাহা কাজে লাগে।

ইত্তেফাক সম্পাদকীয়

বিডিবিএস 

Loading...

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।