প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে ডিজিটাল কৌশল


মো.আরিফুল ইসলাম
Published: 2018-02-10 19:18:09 BdST | Updated: 2018-08-15 09:32:34 BdST

প্রশ্নপত্র ফাঁস ইতিমধ্যেই জাতির কাছে মহামারীর আকার ধারণ করেছে।অনেকেই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন।প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কোচিং সেন্টারগুলোও বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।কোনভাবেই সমস্যার ফলপ্রসূ সমাধান হচ্ছে না।চারদিকে সমালোচনার ঝর থাকলেও সমাধানের প্রস্তাব খুব একটা চোখে পড়ছে না। শুধু গতানুগতিক পদক্ষেপ না নিয়ে কেমন করে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় তা আগে বের করে সমস্যার সমাধান করা উচিত।
 
এক.
একসময় বিজি প্রেস থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ছিলো।তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর যুগে অসাধু চক্রগুলো পদ্ধতি পরিবর্তন করেছে।এখন ফেইসবুক বা হোয়াটসঅ্যাপের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে প্রশ্নপত্র পাওয়া যায়। সবসময় প্রশ্ন মিলে যায় তা কিন্তু সঠিক নয়।প্রায়ই অসাধু চক্রগুলো ভূয়া প্রশ্ন অনলাইনে প্রকাশ  করে হাজার হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়।
 
দুই.
আগের দিন রাতে অথবা  পরীক্ষা শুরুর আগ মুহূর্তে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ রয়েছে সবচেয়ে বেশি।যা অধিকাংশই করা হয় ডিজিটাল যন্ত্র মোবাইলের মাধ্যমে।এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের কিছুই করার থাকে না।কারন সবগুলো কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের একক নিয়ন্ত্রণে থাকে না।পরীক্ষা  শুরুর আগে প্রশ্ন আলাদা করতে হয়।তখন যে কোন কেন্দ্র থেকে প্রশ্ন বাহির করতে প্রয়োজন হয় কয়েক সেকেন্ড সময়। প্রশ্নের স্থির চিত্র তুলে মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপে হলের বাহিরে পাঠাতে পারলেই হয়।এভাবেই পরীক্ষা শুরুর আগে প্রশ্ন অনলাইনে ভাইরাল হয়ে যায়।সংশ্লিষ্ট যে কারো পক্ষে  পরীক্ষা শুরুর আগমুহূর্তে কিংবা পরীক্ষা শুরুর পরেও তা করা সম্ভব। 
 
যতই পদক্ষেপ নেওয়া হোক  গতানুগতিক ধারায় এর সমাধান করা সম্ভব নয়।ডিজিটাল জালিয়াতির সমাধান ডিজিটাল কৌশলে সমাধান করা সম্ভব এমনটাই মনে করি।
 
এক.
প্রতিটি ক্লাসরুমে ডিজিটাল বোর্ড স্থাপন করা যেতে পারে।যেখানে পরীক্ষা শুরুর পর বড় ফন্টে প্রশ্ন দেখা যাবে।শিক্ষার্থীরা সে প্রশ্ন দেখে উত্তর করবে।পরীক্ষা শুরুর দশ মিনিট আগে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ ইলেক্ট্রনিক-মেইলের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করবে।কর্তৃপক্ষ চাইলে কেন্দ্রীয়ভাবে তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।সেক্ষেত্রে সারাদেশের কেন্দ্রগুলোতে ডিজিটাল বোর্ড স্থাপন করতে  সরকারের হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিতে হবে।দেশ ও জাতির প্রয়োজনে যা করা অসম্ভব নয়।
 
দুই.
ডিজিটাল মাধ্যমে কেন্দ্রগুলো থেকে সংশ্লিষ্ট অসাধু শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারির মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সুযোগ রয়েছে। তাই পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের সময় পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট শিক্ষক,কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের  মোবাইল বা যে কোন ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হোক।এক্ষেত্রে প্রতিটি কেন্দ্রে পরীক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের উপর কঠোর নজরদারি বাড়ানো উচিত।
 
তিন.
সমস্যা সমাধানে জবির মাননীয় উপচার্য  স্যারের প্রস্তাবটি ভেবে দেখা দরকার বলে মনে করি। তিনি বলেন, "সারা বাংলাদেশে যেহেতু এক প্রশ্নে পরীক্ষা হয়, এক্ষেত্রে এটা ঠেকাতে হলে ডিজিটাল ট্রাংকের মাধ্যমে পরীক্ষার প্রশ্ন কেন্দ্রে পাঠানো যেতে পারে। ট্রাংকের চাবি পিন নম্বর পরীক্ষা শুরুর দুই মিনিট আগে হল সচিব কে দেয়া হবে। প্রশ্নপত্রগুলো আগে থেকেই ভাগ করা থাকবে এবং প্রশ্নপত্র হলরুমে গিয়েই খোলা হবে"।
 
সব মিলিয়ে প্রশপত্র ফাঁসের দায় শতভাগ কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষকে দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।নীতির প্রশ্নে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক,কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের অটল থাকতে হবে।শুধু সমালোচনা নয় সমাধানের পথ ও দেখাতে হবে।সুশীল সমাজকে  সমস্যা  সমাধানে নতুন পরামর্শ দেওয়ার অনুরোধ করছি।সেক্ষেত্রে  বিজ্ঞজনদের পরামর্শ নিয়ে  সরকার সমস্যা সমাধানে আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আশা করি।
 
লেখক:মো.আরিফুল ইসলাম
সভাপতি,জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়  রোভার-ইন-কাউন্সিল
 
বিডিবিএস 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।