‘পরীক্ষা বাতিলের সুযোগ নেই এবং না করাই ভাল হবে’


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2018-02-20 11:46:45 BdST | Updated: 2018-12-12 14:46:28 BdST

কোনোভাবেই পরীক্ষা বাতিলের সুযোগ নেই এবং না করাই ভাল হবে। পরীক্ষা শুরু হওয়ার ত্রিশ মিনিট বা এক ঘণ্টা আগে বহু নির্বাচনি প্রশ্নের অংশটুকু যেটা মোট নম্বরের ত্রিশ শতাংশ এটাই শুধু ফাঁস হয়েছে। বর্ণনামূলক প্রশ্ন যেটা সত্তর শতাংশ, এটা ফাঁস হওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। লিখিত পরীক্ষার সাথে যার নম্বর অসামঞ্জস্যপূর্ণ ততটুকুই বাতিল হবে। প্রশ্ন ফাঁসের সাথে জড়িত কয়েক হাজার। আর পরীক্ষা দিয়েছে কয়েক লাখ। চোরেরা প্রশ্ন ফাঁস করেছে, এজন্য বাকি লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী, যারা প্রশ্ন পায় নাই, যারা ভাল পরীক্ষা দিছে তাদের শাস্তি দেওয়ার কোনো মানে হয় না। এদেরকে এই বিড়ম্বনায় ফেলার কোনো মানে হয় না। কোনো অবস্থাতেই আবার পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ নাই। এটাই সবচেয়ে ন্যায় বিচার হবে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ব্যাপারে আলাপকালে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মিজানুর রহমান আমাদের অর্থনীতিকে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে বিভিন্ন জায়গায় যখন প্রশ্ন খোলা হয়েছে সেখান থেকেই কোনো না কোনো দুর্বৃত্ত ফেসবুক বা হোয়াটস অ্যাপ দিয়ে প্রশ্ন ফাঁস করে দিচ্ছে। এটা প্রতিদিনই ঘটছে। আশা করি, বাকি পরীক্ষায়ও এগুলো ঘটাবে তারা। এটা ঠেকানোর কোনো উপায় নেই। কারণ পরীক্ষার প্রশ্ন খুলতেই হবে। ত্রিশ মিনিট আগে ভাগ না করলে পরীক্ষা নিবে কিভাবে? যেহেতু সত্তর শতাংশ বর্ণনামূলক প্রশ্ন এটা ফাঁস হওয়ার সুযোগ নেই। বরং বর্ণনামূলক প্রশ্নে যত নম্বর পাবে সে বহুনির্বাচনি প্রশ্নে শতকরা তত নম্বর পাবে। কেউ যদি বর্ণনামূলক প্রশ্নে আশি নম্বর পায় সে বহুনির্বাচনি প্রশ্নেও আশি নম্বর পাবে। এর বেশি পাবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন থেকে একটা পদ্ধতি আছে যে, কোনো পরীক্ষার খাতা যদি কোনো কারণে পাওয়া না যায়, তবে বাকি পরীক্ষার নম্বর গড় করে তাকে হারানো সেই পরীক্ষার নম্বর দিয়ে দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, অভিভাবকদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। কিছু অভিভাবক আতঙ্কিত। আর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ব্যবসাটা অভিভাবকরাই উৎসাহিত করছে। অভিভাবকরা টাকা দিয়ে প্রশ্ন কিনতে চায় বলেই চোরেরা প্রশ্ন বিক্রি করে। যারা ভাল অভিভাবক, তারা উদ্বিগ্ন, তাদের জন্য আমিও উদ্বিগ্ন। কিছু অভিভাবক আছে যারা ফেসবুকের মাধ্যমে প্রশ্ন খুঁজে, তাদের ধরে বিচার করে ফায়ারিং স্কোয়ার্ডে দিলে ভাল হয়। চাহিদা বন্ধ হলে উৎপাদনও বন্ধ হবে। আমি যতটুকু জানি এইচএসসিতে বহুনির্বাচনি প্রশ্ন নাই। অতএব, ফাঁসের সম্ভাবনাটাও কম।

তিনি বলেন, তারপরেও সুপারিশ করছি, যে সকল কলেজে এইচএসসি পরীক্ষা হবে বোর্ডের লোকরা সরেজমিনে গিয়ে ওই রুমগুলো পরিদর্শন করবে। প্রত্যেক রুমে কত জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিবে তার তালিকা নিবে। ওই কেন্দ্রে রুম হিসেবে প্রশ্নের প্যাকেট পাবে। রুমে যত জন পরীক্ষার্থী ঠিক ততটাই প্রশ্ন পাবে। পরীক্ষা শুরু হবে সকাল দশটার সময়। এর আগে কেউ প্রশ্নের প্যাকেট খুলবে না। প্রত্যেকটা কেন্দ্রের জন্য একাধিক লোহার ট্রাঙ্ক কিনতে হবে। লোহার ট্রাঙ্কের তালা থাকবে ডিজিটাল। এটা খোলার জন্য কেন্দ্র প্রধানকে পরীক্ষা শুরু হওয়ার দশ মিনিট আগে জানানো হবে। যদি বোর্ডের প্রস্তুতি না থাকে পাবলিক সার্ভিস কমিশন থেকে ট্রাঙ্ক ভাড়া নিতে হবে। পরীক্ষার্থী অবশ্যই ত্রিশ মিনিট আগে আসতে হবে। ইনভিজিটররা মোবাইল ফোন বাহিরে রেখে ত্রিশ মিনিট আগে ওই পরীক্ষার কেন্দ্রে আসতে হবে। ইনভিজিটররা নিজস্ব লোক দিয়ে পরীক্ষা শুরু হওয়ার সাথে সাথে প্রশ্ন দিবে। কোথাও প্রশ্ন পাঁচ বা সাত মিনিট দেরি হলে সে সময়টুকুও দিতে হবে।

বিডিবিএস 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।