মানবতার মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই কোটা সংস্কার হোক


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2018-03-20 18:28:47 BdST | Updated: 2018-04-24 16:38:33 BdST

ধরেন,কোন এলাকায় শস্য ক্ষেতে কোটাভিত্তিক সার(তুলনামূলক কম কার্যকরী সার)প্রয়োগ করা হল,তাতে কম ফসল উৎপাদন হলে খাদ্যা সংকট হবে; সমাজে বিশৃঙ্খলা হবার সম্ভাবনা প্রকট।তেমনিভাবে প্রশাসনে তুলনামূলক কম মেধাবী বেশি পরিমানে নিয়োগ দিলে - যেটা হয়ে আসছে -প্রশাসন জনগনকে প্রত্যাশিত সেবা দিতে পারবেনা বলে বিজ্ঞজনরা মনে করেন।রাষ্ট্রের পরম আইন কি বলে দেখা যাক,১৯ নং অনু্চ্ছেদে "সুযোগের সমতা " এর কথা বলা হয়েছে,যার মর্মবাণী হলো- সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা,সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরকরন এবং সম্পদের সুষম বন্টন নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্রকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আবার ২৯ নং অনু্চ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ লাভের ক্ষেত্রে নাগরিকদের সমান এবং নারী ও অনগ্রসর অংশের জন্য উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব লাভের কথা বলা হয়েছে।সংবিধান সরকারকে কোটা ব্যবস্থাকে অনুমোদন দিয়েছে,এবং এর উপর ভিত্তি করে, মুক্তিযোদ্ধা ৩০%,নারী ১০%,ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ৫%,জেলা ১০%, প্রতিবন্ধী ১% বাকি ৪৪% মেধা।বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থা চালু হয়েছিল স্বাধীনতা লাভের পর সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে।

২.স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর সরকারি নিয়োগের ক্ষেতে ৫৬% কোটা সংরক্ষণ কতোটা যুক্তিযুক্ত?যেখানে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা-নারী শিক্ষা- প্রতিটি ক্ষেতে ব্যাপক উন্নতি করেছে,তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পদার্পণ। গত এক মাসধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ প্রায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্র ছাত্রীরা কোটা ব্যবস্থাকে ৫৬% থেকে একটি সহনশীল মাত্রায় আনার জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছে। মানুষ তার মস্তিষ্কের জন্য শ্রেষ্ঠ জীব বিবেচিত হয়।আর যারা মস্তিষ্ককে সর্বোত্তমভাবে প্রয়োগ করে তারেরকে বলা হয় মেধাবীদের মেধাবী,এই মেধাবীরা যেন সরকারি প্রশাসনে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়ন করে দেশকে উন্নত শিখরে নিয়ে যেতে পারে।যখনই সংস্কারের বিষয় নিয়ে কথা উঠে তখনই আমাদের সূর্য সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের সামনে নিয়ে আসা হয়,আর ঢালাওভাবে সংস্কারবাদীদের জামাত শিবির বলা হয়,যা খুব দুঃখজনক।সিফফিনের যুদ্ধে মুয়াবিয়া (রাঃ)র সৈনারা কোণঠাসা হয়ে পরলে তখন আলী (রাঃ) সৈন্যবাহিনীকে বিব্রত করতে বর্শ আগায় পবিত্র কোরআন বেঁধে আলী (রাঃ)র বাহিনীর নিক্ষেপ করে,আর তাতে যোদ্ধারা দ্বিধাবিভক্ততে পরে যায়।৮০% ছাত্র ছাত্রী শিবির করে, এটা কোন সুস্থ ও মেধাবী মানুষ বিশ্বাস করবে না।

৩.বর্তমানে আন্দোলনরত ছাত্র ছাত্রীরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা'র প্রতি পূর্ণ আস্থা ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে দাবি আদায়ের জন্য তাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। সর্বজন শ্রদ্ধেয় ড.আনিসুজ্জামান স্যার কোটা ১০% বেশি না রাখা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম স্যার, সাবেক আমলা ও মুক্তিযোদ্ধা ড. আকবর আলী খানসহ অনেক প্রাজ্ঞ ব্যক্তি কোটা সংস্কারের পক্ষে যুক্তিক ব্যাখ্যা দেন।তাহলে তাঁরাও কি নীতিভ্রষ্ট? বিগত বিসিএস পরীক্ষাগুলোতে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় যত পারসেন্ট উত্তীর্ণ হয়েছে( সম্ভবত ৮/৯% বেশি না)তার সাথে আরও ২.৫% যোগ করে সংরক্ষণ করা যেতে পারে।নাতিপুতিদের জন্য কোটা একেবারে অগ্রহণযোগ্য। সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতাসহ আরও কিছু সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে আমি ব্যক্তিগত ভাবে চাই যে একজন প্রথম শ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তা অবসরের পর পেনশনসহ যে ধরনের সুযোগ সুবিধা পায় একই ধরনের সুযোগ সুবিধা যেন সরকার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ব্যবস্থা করেন।মেয়ে শিক্ষার হার বর্তমানে প্রায় তাদের সহযোদ্ধা শিক্ষার হারের সমান;সরকারি চাকুরী লাভের ক্ষেতেও ছেলেদের প্রায় সমান।কিছু দিন পত্রিকায় দেখলান নরসিংদীতে প্রশাসনের শীর্ষ পদে নারীর সংখ্যাই বেশি, ঢাবি ইংরেজি বিভাগে ৩৯ শিক্ষকের মধ্যে ২৪ নারী শিক্ষক।উল্লেখ করার মত বিষয় হল, স্বয়ং নারী নারী কোটার বিরোধী ।১০% থেকে কমিয়ে ৪% করলে সর্বজন গ্রহণযোগ্যতা পাবে।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্তে সুষম উন্নয়ন হচ্ছে, রাজধানী ঢাকার সাথে প্রায় প্রতিটি উপজেলার সড়কপথে বা জলপথে যোগাযোগ রয়েছে,বিদ্যুৎ পৌছে যাচ্ছে সব এলাকায়। জেলা কোটায়ও কমানো সময়ের দাবি।মোট জনসংখার ১.১০% ভাগ হল উপজাতি বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, আর তাদের জন্য ৫% কোটা সংরক্ষণ আছে কিন্তু হয় না পূর্ণ তাই নিয়োগে থাকে শূর্ন।

৪. যে ছেলেটি সংস্কারের জন্য আন্দোলন করতেছে দাবি পূরণ হলে যে তার চাকুরী হবে তার কোন গ্যারান্টি নেই।সে চাইছে সবচেয়ে মেধাবী ও যোগ্য ব্যক্তিটি এবং কোটার চেয়ে বেশি ব্যক্তি প্রশাসনে প্রবেশ করে একটি গতিশীল ও একবিংশ শতাব্দীর চাপ মোকাবিলা করে মধ্যম আয়ের দেশকে থেকে উন্নত দেশে রুপান্তর করতে পারে।তরুণদের বৃহৎ অংশ ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ কে দিয়ে জয়যুক্ত করে।আগামী নির্বাচনে তরুনদের ভোট কাছে টানতে সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত নিবেন বলে অনেকে আশা রাখে।মুক্তিযোদ্ধাদের একটি অংশ বিএনপিকে সমর্থন করে, বিএনপি আবার স্বাধীনতা বিরোধী জামাতের সাথে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক । তাঁদের ছেলে মেয়েরা কি আদৌ নৌকায় ভোট দিবে বা তাঁদের নাতি যে ছেলেটি শিবির করে সে কিভাবে কোটায় নিয়োগ পেয়ে বঙ্গবন্ধু'র স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করবে আমার বোধগম্য নয়।আওয়ামীলীগ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কাছে কতটা জনপ্রিয় তা দেখা যায় বিগত পাবত্য এলাকার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে।এর মাধ্যমে আমি বুঝাতে চাচ্ছি,কোটাধারী মাত্রই সরকার বা আওয়ামীলীগ সমর্থক নয়।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এদেশের ছাত্র সমাজের চাওয়া পাওয়া একটু বেশি।তিনি এদেশকে দুহাত ভরে দিয়ে যাচ্ছেন। ৫৬% কোটা যদি ৫৬% ভোট নিশ্চিত করত আমি একজন ক্ষুদ্র ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে কখনোও না কোটা সংস্কার চাইতাম।মার কাছে সন্তান দাবি করলে তাকে নীতিভ্রষ্ট বলা সমীচীন নয়।পরিবর্তিত সময় ও রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের সংবিধান ১৬ বার সংশোধিত হয়েছে।সবই হয় মানুষের প্রয়োজনে এবং বঙ্গবন্ধু'র স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে সর্বোচ্চ সংখ্যক মেধাবীদের মূল্যায়ন সবচে জরুরী। কোটায় নিয়োগ কোনভাবে ২০ ভাগের বেশি নয় মানবতার মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই সাধিত হোক এই মহান কর্মটি।

লিখেছেন, তালহা যুবায়ের খান
সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, জিয়া হল ছাত্রলীগ, ঢাবি
সভাপতি, গাজীপুর জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বিদিবিএস 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।