‘কোন চক্রের সুবিধামতো ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের প্রয়োগ হতে পারে না’


এইচএম আল আমিন
Published: 2018-05-08 23:51:01 BdST | Updated: 2018-05-26 02:11:25 BdST

কেউ যখন আমাকে ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের কথা জিজ্ঞেস করে,গঠনতন্ত্র মোতাবেক কমিটির কথা জিজ্ঞেস করে তখন আমার খুব বিরক্ত লাগে, প্রচণ্ড রাগ ক্ষোভ হয়!! বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পবিত্র গঠনতন্ত্র কে অবমাননা করে যে সারা দেশে কত শত, হাজার ত্যাগি নেতাকর্মীর স্বপ্ন ভেঙ্গে গেছে, জীবন ধ্বংস হয়েছে, বঞ্চিত হয়েছে তার হিসাব আমরা কেউ রাখিনি, রাখিনা।

ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র বলতে সবাই বয়স ২৯’আর অবিবাহিত এই দুইটা বিষয় জানে। এর বাহিরে গঠনতন্ত্রের আর কোন ধারা মানেও না কেউ জানেওনা, বাকি গুলোর কোন প্রয়োগ ও নাই। ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রে বয়স ২৯ কোথাও লেখা নাই। গঠনতন্ত্র মোতাবেক ২৭ বছর। বিগত কমিটি গুলো দলের দুঃসময়, দেশ ও জাতির দুঃসময় অতিবাহিত হওয়ায় দুই বছর করে প্রতিবার সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে।

সবচেয়ে বড় কথা ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রে বয়স এবং বৈবাহিক অবস্থা, কমিটির মেয়াদ, এই তিনটি বিষয় একটি চক্রের ইচ্ছেমতো ব্যবহৃত হয়েছে।আপনি চক্রের মন মত হলে বয়স না থাকলে,বিবাহিত হলে, দুই বছরের কমিটি পাঁচ বছর গেলেও কোন সমস্যা নাই। আপনি যদি এই চক্রের মন মতো না হোন তাহলে ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের প্রতিটা ধারা আপনার জন্য প্রযোজ্য, এমন কি আপনি বিবাহিত না হলেও আপনি বিবাহিত বলে বাদ দিবে।

আচ্ছা আসুন এক নজরে দেখি, ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের প্রয়োগ কতটুকু হয়েছে বা হচ্ছে!? বর্তমান সোহাগ জাকির কমিটি যখন পুর্নাঙ্গ করা হয়, তখন সেই কমিটিতে বয়স্ক, বিবাহিত, সন্তানের জনক, ছাত্রদল, শিবির, মাদকব্যবসায়ী, অপহরন মামলার আসামী, অছাত্র, সব ধরনের অভিযুক্তরা পদ পেয়েছে। ( যদি চক্রের কেউ চ্যালেঞ্জ করে, আমি প্রমান দিবো) কিন্তু শতাধিক ত্যাগি পরিক্ষিত নেতাকে বাদ দেয়া হয়েছে কারন ছাড়া, এর মধ্যে বয়স নাই, বিবাহিত, এমন অভিযোগ দেখানো হয়েছিলো চক্রের খুশিমতো। আমি আগেই বলেছি চক্রের মন মতো হলে কোন সমস্যায় সমস্যা না, শিবির করলেও সমস্যা নাই!!!

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র মোতাবেক কেউ বিয়ে করলে, চাকরীতে গেলে, জেলা, উপজেলা ইউনিয়ন ওয়ার্ড মহল্লা, মর্যাদাপ্রাপ্ত কমিটি গুলো এক বছর অতিবাহিত হলে অটোমেটিক বিলপ্ত হবে। তাদের কার্যকারীতা লোপ পাবে,কেন্দ্রের ক্ষেত্রে দুই বছর পর সর্বোচ্ছ তিনমাসের মধ্যে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি করতে হবে। তারপরেও সময় অতিবাহিত হলে গঠনতন্ত্র মোতাবেক সম্পুর্ন কার্য ক্ষমতা বিলপ্ত, এক কথায় অবৈধ।

এবার আপনারায় মিলিয়ে নিন, কেন্দ্র, বিশ্ববিদ্যালয়, মহানগর, জেলা, উপজেলা, সকল স্তরে কত সভাপতি সাধারন সম্পাদক সহ কমিটির নেতারা বিবাহিত, সন্তানের জনক, ১ বছরের কমিটি ৫/১০/ এমনকি এক যুগের ও বেশি অতিবাহিত হয়েছে এমন চিত্র ও আছে। সারা দেশের কথা বাদই দিলাম। বর্তমান কেন্দ্রিয় কমিটিতে পদ প্রাপ্ত হবার পরেও যারা বিবাহিত, চাকরীতে চলে গেছেন তাদের কে অব্যাহতি দেয়া হয়নি, তাদের পদ বিলপ্ত হয়নি।

আগামী ২৯ তম সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে, নির্বাচন প্রস্তুতি কমিটি গুলোর মধ্যে প্রমানিত বিবাহিত, চাকরীজীবি দায়ীত্ব পেয়েছেন ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের কোন ধারা মোতাবেক? গঠনতন্ত্র মোতাবেক বর্তমান নির্বাচনকমিশন অবৈধ। সারা দেশের বিবাহিত সন্তানের জনক যে সব ইউনিট রয়েছে তারা কিভাবে স্বপদে বহাল আছে? মুলত এসব কারনে ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের কথা শুনলে আমার শরীর জ্বলে, রাগ ক্ষোভ হয়।

২৯ তম সম্মেলনের নির্বাচনকমিশন যেখানে গঠনতন্ত্র মোতাবেক অবৈধ, সেখানে ২৯ বছর বয়সেই কমিটি হতে হবে এমন কথার কোন যুক্তি নাই। বয়স বাড়বে নাকি কমবে সেটার সিদ্ধান্ত নিবেন একমাত্র জননেত্রী শেখ হাসিনা। ত্যাগিদের মুল্যায়ন করতে জননেত্রী শেখ হাসিনা যে সিদ্ধান্ত নিবেন সেটাই চুড়ান্ত। কিন্তু কোন চক্রের সুবিধামতো বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পবিত্র গঠনতন্ত্রের প্রয়োগ হতে পারেনা।

ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র কোন কোরআনের বানী নয়, সংগঠনের প্রয়োজনে পরিবর্তন, পরিমার্জন করা যেতে পারে! যদি সেটা হয় সংগঠনের জন্য মঙ্গলজনক, ত্যাগি যোগ্য পরিক্ষিত কর্মীদের মুল্যায়নের জন্য” কিন্তু হচ্ছে উল্টো! শিবির ছাত্রদল হলে গঠনতন্ত্রে সমস্যা না! কিন্তু বয়স্ক বিবাহিত হলেই সমস্যা? বিয়ের সাথে, বয়সের সাথে ছাত্রলীগের আদর্শবিরোধী কিছু নাই। কিন্তু শিবির ছাত্রদলের সাথে ছাত্রলীগের আদর্শ জড়িত, ছাত্রলীগের অস্তিত্বের প্রশ্ন জড়িত। অথচ শিবির ছাত্রদল হলে সমস্যা না, বয়স্ক বিবাহিত হলে সমস্যা না!? হায় সেলুকাস!!

ছাত্রলীগের পরিক্ষিত একজন ত্যাগি কর্মীকে চক্র কিংবা সভাপতি সাধারন সম্পাদক চাইলেই শিবির ছাত্রদল বানাতে পারেনা, কিন্তু খুব সহজেই বিবাহিত বলে বাদ দেয়া যায়। তাই ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের নামে প্রকৃত বিবাহিতরা পদ পেলেও সারা দেশে কত হাজার নেতাকর্মী এই মিথ্যে অপবাদে বাদ দিয়েছে তার কোন ইয়ত্তা নাই।

তাই অনুরোধ থাকবে, পবিত্র গঠনতন্ত্রের সর্বত্র সঠিক প্রয়োগ করুন। গঠনতন্ত্রের অপব্যবহার করে ত্যাগিদের বাদ দিয়ে অনুপ্রবেশকারী হাইব্রিডদের মুল্যায়নের মাধ্যমে ছাত্রলীগের প্রকৃত মুজিব সৈনিকদের সাথে তামাশা বন্ধ করুন।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

লিখেছেন এইচএম আল আমিন,ছাত্রলীগ নেতা 

বিদিবিএস 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।