কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় বিদেশে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ হারাচ্ছে শিক্ষার্থীরা!


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2018-06-03 05:57:19 BdST | Updated: 2018-10-20 22:17:47 BdST

২০০৯ সালের কথা। তখন সুইডেনের এক বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করছি। সুইডেনের নামকরা এই বিশ্ববিদ্যালয়টি বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ কয়েকবার ই-মেইল করেছে ওই সময়। তাদের মেইল করার কারন হচ্ছে- বিশ্ববিদ্যালয়টি বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চুক্তি করতে চাইছে-তারা প্রতি বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু মেধাবী ছাত্র'কে স্কলারশিপ দিতে চায়।

তো বেশ কয়েকবার ই-মেইল করার পর কোন উত্তর না পেয়ে শেষমেশ এরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ই-মেইল পাঠিয়েছে। কিন্তু সেখানেও এক'ই অবস্থা! শেষমেশ বাংলাদেশের ইউনিভার্সিটি বাদ দিয়ে ওরা নেপালের ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটির সঙ্গে চুক্তি করেছে। কারন নেপালিরা সঙ্গে সঙ্গেই উত্তর দিয়েছে।

এইতো বছর তিনেক আগের কথা। তখন আমি এস্তনিয়ার তারতু ইউনিভার্সিটিতে ভিজিটিং স্কলার হিসেবে আছি। তো, এরা বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) ই-মেইল করেছে একটা চুক্তি করার জন্য। কিন্তু কেউ কোন উত্তর দেয় না। যেহেতু আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি, তাই শেষমেশ এরা আমাকে অনুরোধ করেছে

-তোমার পক্ষে কি সম্ভব হবে ইউজিসির কারো সঙ্গে কথা বলা? তাহলে হয়ত ওরা উত্তর দিবে।

আমি শেষমেশ ইউজিসির চেয়ারম্যানের অফিসে ফোন দিলাম। ধরেছে উনার সেক্রেটারি!

-আমি কি চেয়ারম্যান স্যারের সঙ্গে কথা বলতে পারি?
-উনি তো এখন মিটিং-এ আছেন। আপনি আমাকে বলেন। আমি উনাকে জানিয়ে দিবো।
-এস্তনিয়ার একটা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উনাকে দুই সপ্তাহ আগে একটা মেইল করেছে। কিন্তু উনি কোন উত্তর দেন'নি। আপনি কি উনাকে একটু বলবেন মেইল'টা চেক করে যেন উত্তর'টা অন্তত দেয়।

ওপাশ থেকে ভদ্রলোক এরপর বললেন

-দাঁড়ান আমি চেক করে দেখি।

আমার চোখ তখন কপালে উঠার জোগাড়! চেয়ারম্যানের নিজস্ব ই-মেইল কিনা চেক করছেন সেক্রেটারি!

ভদ্রলোক এরপর চেক করে বললেন

-হ্যাঁ, পেয়েছি। উনারা উত্তর পেয়ে যাবে।

আমি এরপর ফোন রেখে দিলাম। যদিও শেষমেশ ইউজিসি আর উত্তর দেয়নি।

আমার ধারণা সুইডেনের ওই বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা এস্তনিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়টি যদি শিক্ষক কিংবা কোন কর্তা ব্যক্তিদের বিদেশ ভ্রমণের প্রস্তাব দিত, তাহলে তারা অতি অবশ্য'ই উত্তর দিতেন। যেহেতু মেইল গুলো ছিল কিভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের স্কলারশিপ দেয়া যায় কিংবা সাহায্য করা যায়, তাই হয়ত আমাদের কর্তা ব্যক্তিরা আর আগ্রহ দেখায়নি।

এইতো দুই দিন আগে জানতে পারলাম এই বছর হাঙ্গেরিতে নাকি বেশ কিছু বাংলাদেশি ছাত্রের স্কলারশিপ নিয়ে পড়তে যাবার কথা ছিল। বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে হাঙ্গেরির কতৃপক্ষের মাঝে নাকি চুক্তি আগে থেকেই ছিল!

বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছিল ছাত্র-ছাত্রী সিলেক্ট করে তালিকা দেয়া হাঙ্গেরিতে। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয় নাকি সেই তালিকা পাঠায়নি। যার কারনে হাঙ্গেরির কতৃপক্ষ নাকি জানিয়েছে- এই বছর তারা কোন বাংলাদেশি'কে স্কলারশিপ দিবে না। কারন আমাদের মন্ত্রণালয় সময়মত তালিকা পাঠায়নি!

চিন্তা করে দেখুন অবস্থা! মন্ত্রনালয়ের লোকজন কিন্তু ঠিক'ই হাঙ্গেরিতে গিয়ে চুক্তি করে আসতে পেরেছে। ফ্রি'তে বিদেশ ভ্রমণ বলে কথা! কিন্তু মূল কাজ'টাই তারা ঠিক মতো করল না। মাঝখান থেকে কতো গুলো ছাত্র-ছাত্রী বিদেশে বিনা খরচে পড়াশুনা থেকে বঞ্চিত হলো!

লেখাটি আমিনুল ইসলামের ফেসবুক থেকে নেয়া 

বিদিবিএস 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।