যেদিন মানুষ ঢাবিতে প্রবেশ করতে পারবে না, সেদিন এর মৃত্যু হবে


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2018-07-11 11:03:24 BdST | Updated: 2018-07-17 02:02:12 BdST

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যান্টনমেন্ট নয় যে এখানে বাইরের কেউ আসতে পারবে না। যেদিন মানুষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রবেশ করতে পারবে না, সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্যু হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্যু মানে বাংলাদেশের মৃত্যু। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ পেতে এখানে ভর্তি হতে হয় ঠিকই, কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরশ পেতে কাউকে ভর্তি হতে হয় না। বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষকে মহাকালের কতশত বাঁকে আলোকিত করে চলেছে এই প্রতিষ্ঠান।
এই সুবিশাল জগতে বহিরাগত প্রবেশ ঠেকানোর জন্য চৌকি বসানোর কথা বলা হচ্ছে। এটা কি সম্ভব? এমন তো নয় যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর ১০ টি গেইট আছে, সে গেইটগুলো বন্ধ করে দিলেই কেউ আর এখানে প্রবেশ করতে পারবে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক পরিধি ও প্রভাব অনেকটা আকাশের মত অসীম। সীমা,পরিসীমা নেই। অবকাঠামো বিবেচনা করলেও অবাক হতে হয়। এখন পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবগুলো ভবনের গেইটের সামনেই আমার মত অনেক সাবেক শিক্ষার্থীর যাওয়া হয়নি। অথচ সেই ১৯৯৮ সাল থেকে আমি ঢাকায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ও সুপরিসর অবকাঠামোর সুযোগ নিয়ে অসাধু ছাত্র ও কর্মচারীদের একটা অংশ অবৈধ ব্যবসা করে। কর্মচারীরা নিজের নামে বাসা দিয়ে বাইরের মানুষের কাছে ভাড়া দেয়। সাবলেট নয়, পুরোটাই। এটা কর্মচারীদের বাড়তি আয়ের একটা উৎস। অন্যদিকে ছাত্রনেতারা নিজেদের দখলে থাকা কিছু রুম নীলক্ষেত, নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দেয়। জগন্নাথ হলে তল্লাশি চালালে আমার ধারণা মিয়ানমারের নাগরিকও কিছু পাওয়া যাবে। আবার ‘নিরীহ’ নামে পরিচিত কিছু ছাত্র আছে যারা নিজের আপন ভাইকে নির্লজ্জের মত হলে রাখে। এই ছোটভাইগুলো খুব আরামে হলে জীবন কাটায়। এরা নামায পড়ে, সকালে উঠে নাস্তা সেরে বের হয়ে যায়। দুপুরে এসে খায়, রাতে খেয়ে, টেলিভিশন রুমে বিশ্বকাপ দেখে, ছাদে উঠে হাওয়া খায়, মাঝে মাঝে টিএসসিতে ফুচকা খেতেও যায়। এদের হলজীবন শুরু হয় উচ্চমাধ্যমিক থেকে। এরা খুব ভদ্র হয়। খুব সুশৃঙ্খল হয়, মাঝে মাঝে রুমে রান্না হয়, তখন পাতিলগুলো বেসিনে নিয়ে পরিষ্কার করে। ভদ্র ছেলেগুলো নামাযও পড়ে। শুধু থাকার জায়গাটা এদের হয় অবৈধ। এদের থাকার ব্যবস্থা যে অবৈধ এটা এরা বুঝতেই পারে না, বুঝলেও এদের মনে এটা নিয়ে কোনো অনুশোচনা থাকে না।

আরেকদল আছে, যাদের ছাত্রত্ব বহু আগে শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু হল ছেড়ে চলে যেতে পারেন না। মায়ার জন্য যে এমন করেন, তা নয়। অভাবে এদের অনেকের স্বভাব নষ্ট হয়ে যায়। তবে অনেকে আছেন, অভাব নয়, স্বভাবই ঐরকমের। বাচ্চাকাচ্চা হওয়ার আগ পর্যন্ত এরা হল ছাড়ে না। বিসিএস না হওয়া পর্যন্ত অনেকে হলে থাকার পণ করে। এদের কাছে হল মানে বাংলাদেশের রেলগাড়ি। রেলে যে টিকেট কেটে উঠতে হয়, এটা এরা মনেই করে না। এভাবেই আদু ভাই কিংবা বহিরাগতদের অনেকে অনেক হলে সিঙ্গেল রুমে থাকে। অন্যদিকে নিয়মিত ছাত্রদের অনেকে বারান্দায় থাকে, মসজিদে থাকে, গণরুমে থাকে। এটাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

লেখাটি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শেখ আদনান ফাহাদের ফেসবুক আইডি থেকে নেয়া 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।